পুলিশ মারেনি, সাফাই কমিশনারের! উনি 'তৃণমূলের ক্যাডার, চাটুকার', পাল্টা বিরোধীদের

আরও পড়ুন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিটলারি কায়দায় পুলিশি হামলা, আলো নিভিয়ে শ্লীলতাহানি
আরও পড়ুন: ছাত্ররা সরল, বুঝিয়ে সামলাতে হয়, যাদবপুরে পুলিশি হামলার নিন্দায় সরব মন্ত্রী
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের বর্বর হামলা নিয়ে যখন সোচ্চার বিভিন্ন মহল, তখন সাফাই দিতে এ দিন একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ। তিনি বলেন, "উপাচার্য ডেকেছিলেন বলেই পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল। উনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন যে, ওঁকে খুন করা হতে পারে। তাই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। তবে পুলিশ আইন মেনেই কাজ করেছে। পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের ওপর লাঠি চালিয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। পুলিশের হাতে লাঠি ছিল না। পুলিশ কাউকে মারেনি। পুলিশ সংবেদনশীল ছিল। পাশাপাশি, মহিলা পুলিশ ছিল না বলে যা বলা হচ্ছে, সেটাও ঠিক নয়। পর্যাপ্ত মহিলা পুলিশ ছিল।"
"পুলিশ রাতের অন্ধকারের চোরের মতো গেল কেন? যত্ত সব চোরের দল", তোপ অধীর চৌধুরীর
সুরজিৎবাবুর আরও দাবি, "বহিরাগতরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেছিল বলে খবর ছিল। ওদের কাছে আর্মস ছিল। বহিরাগতদের পরিচয় জানার প্রক্রিয়া চলছে।" তিনি আরও জানান, আলো পুলিশ নেভায়নি।
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যের পরই তোপ দাগে বিরোধীরা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, "পুলিশ রাতের অন্ধকারের চোরের মতো গেল কেন? যত্ত সব চোরের দল। যেভাবে মেয়েদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, এ সব কোনও সভ্য দেশে ঘটে? পুলিশ কমিশনার তৃণমূল কংগ্রেসের দালালি করছেন। উনি কমিশনার নাকি ওদের ক্যাডার?"
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী তথা পূর্বতন সিপিএম সাংসদ সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, "পুলিশ লাঠি দিয়ে মারেনি, সংবেদনশীলও ছিল! তা হলে ছাত্রদের মাথা ফাটল কী করে? পা ভেঙে কেন হাসপাতালে ভর্তি? পুলিশ কমিশনার অসত্য কথা বলছেন। চাটুকারিতার একটা সীমা থাকা উচিত। বাড়িতে কি ছেলেমেয়ে নেই? ওঁর উচিত ভিডিও ফুটেজ দেখে কথা বলা। উনি বলছেন, বহিরাগতরা নাকি ঢুকেছিল! গতকালও তো এ কথা শুনিনি! আজ শুনছি।"
আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় বলেছেন, "আলো পুলিশ নেভায়নি বুঝলাম। কিন্তু ক্যাম্পাসে ঢোকার পর পুলিশ আলো তো জ্বালাতে পারত। আর পুলিশের কাছে যদি খবর থাকবে যে, বহিরাগতরা ওখানে আছে, তা হলে তাদের গ্রেফতার করা হল না কেন? এটা তো পুলিশেরই ব্যর্থতা। এ বার দেখবেন, কিছু নিরীহ লোক যাদের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই, তাদেরকে 'বহিরাগত' সাজিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে পুলিশ। আসলে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ-প্রশাসন তৃণমূলের ক্যাডারের কাজ করছে।"












Click it and Unblock the Notifications