জাতীয় সংকটের মুখে পড়বে দেশ, বাড়বে বিভাজন! অসহিষ্ণুতার আশঙ্কায় বিদ্বজ্জনেরা
জাতীয় নাগরিক পঞ্জির নামে অসমে ৪০ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে বাংলার শাসক ও বিরোধীরা। এবার বিদ্বজ্জনেদের সুরও মিলে গেল।
জাতীয় নাগরিক পঞ্জির নামে অসমে ৪০ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে বাংলার শাসক ও বিরোধীরা। এবার বিদ্বজ্জনেদের সুরও মিলে গেল বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে। কবি শঙ্খ ঘোষ এই ঘটনাকে দেশের জাতীয় সংকট বলে ব্যাখ্যা করলেন।

জাতীয় নাগরিক পঞ্জির দ্বিতীয় তালিকায় ৪০ লক্ষ অসমবাসীর নাম বাদ পড়েছে। রাতারাতি তাঁরা দেশবাসী থেকে উদ্বাস্তু বনে গিয়েছেন। এই অবস্থাকে জাতীয় সংকট বলে ব্যাখ্যা করেন কবি শঙ্খ ঘোষ। তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই এই আশঙ্কা ছিল, তা-ই আজ সত্যি হল। স্বাধীনোত্তর পর্বে এমন ঘটনা ঘটেনি। জাতীয় সংকট তৈরি হবে এর ফলে। শুধু ধর্মে ধর্মে নয়, রাজ্যে রাজ্যে বিভেদ বাড়বে।
তাঁর বিবৃতিতে এদিন বিজেপি বিরুদ্ধে প্রচ্ছন্ন বার্তা ছিল। দেশে অসহিষ্ণুতা তৈরি করা হচ্ছে বলে ফের অভিযোগ উঠে পড়ল। কবি শঙ্ঘ ঘোষ এর আগে কলকাতায় নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় সমিতি-র বৈঠকেও একইরকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সেদিন যে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিলেন তিনি, এদিন সেই আশঙ্কাই সত্যি হল, যার জন্য দেশ আবার এক জাতীয় সংকটের মুখে।
এর আগে নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় সমিতি দাবি করেছিল, এনআরসি নিয়ে অসমে যা চলছে তা শুধু তো কোনও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, একে ঘিরে নানা ধরনের হিংসার অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগ পুলিশ থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিক প্রত্যেকের হাতেই হেনস্থা হতে হচ্ছে বাঙালিদের। অনেকের মতে এ যেন অসম জুড়ে বাঙালি শুদ্ধিকরণ শুরু হয়েছে। যারাই এই এনআরসি-র বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন তাঁদের ডি-ভোটার বা ডাউটফুল ভোটারের বিভাগে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই এনআরসি- থেকে কয়েক লক্ষ বাঙালির নাম বাদ পড়েছে। অথচ এঁদের অধিকাংশই পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে অসমের স্থায়ী বাসিন্দা। এমন এমন কিছু নথি চাওয়া হচ্ছে যা দেখাতে না পারলেই ডি-ভোটারের তালিকায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অসম সরকারের এক মন্ত্রী মাঝখানে দাবি করেছিলেন এই সব ডি-ভোটার বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, এঁদের সেখানেই ফেরত পাঠানো হবে। তারপর এক সঙ্গে ৪০ লক্ষ নাম বাদ পড়া বিস্ময়ের বলে দাবি করে এই ঘটনার পিছনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হাত রয়েছে বলে আশঙ্কা নাগরিক সমন্বয় সমিতির।












Click it and Unblock the Notifications