রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগের মাঝেই রাজভবনে এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগের মাঝেই রাজভবনে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামীকাল রাজ্যে তাঁর তিনটি সভা রয়েছে। আজ রাজভবনেই থাকবেন তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রী আসার কয়েকঘণ্টা আগেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজভবনের কর্মী।
লোকসভা ভোটের মুখে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। যদিও রাজ্যপাল নিজে জানিয়েছেন, পুরোটাই বানানো। তাই এই বানানো অভিযোগে তিনি কান দিতে চান না। রাজভবনের মহিলা কর্মীর এই অভিযোগ একেবারেই সত্যি নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেছেন সত্যের জয় হবে। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তাঁকে কালিমালিপ্ত করে কেউ যদি নির্বাচনী ফায়দা তুলতে চায় তাহলে ঈশ্বর তাঁর মঙ্গল করুন। রাজ্যপালের এই মন্তব্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজভবনের ওই মহিলা কর্মী পিসরুমে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে তিনি কাজ করছেন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার রাজ্যপাল তাঁর শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করেছেন সেই মহিলা কর্মী। গত ২৪ এপ্রিল এবং আজ অর্থাৎ ২ মে তাঁকে রাজ্যপাল শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করেছেন। প্রথমে রাজভবনের পুলিশ আউটপোস্টে অভিযোগ জানান মহিলা। তারপরে হেয়ারস্ট্রিট থানার পুলিশ এবং লালবাজার থেকে পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারীকরা এসে অভিযোগকারিনীর বয়ান রেকর্ড করেন।
রাজভবনের হোস্টেলেই থাকতেন সেই মহিলাকর্মী। তিনি সেই হোস্টেলে আর থাকতে চান না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। পুলিশ তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তেমন কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবে না পুলিশ। পদে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা করা যাবে না। ভারতীয় সংবিধানের ৩৬১ নম্বর ধারায় এই রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে রাজ্যপাল এবং রাষ্ট্রপতিকে।
এদিকে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মহিলাকর্মীর শ্লীলতাহানি করার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলেন নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন বাংলার নারীদের অপমান করছেন রাজ্যপাল। এতো বড় একটি পদে থেকে এমন আচরণ তাঁকে মানায় না বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। তারপরেই এই নিয়ে কিছু বলা যাবে। তার আগে কিছু বলা যায় না।
এদিকে রাজভবন সূত্রে খবর সন্দেশখালিতে রাজ্যপাল যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে হমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকী রাজভবনে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কাজেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে রাজভবন। বিজেপির পক্ষ থেকেও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications