এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠন, মুক্তির দাবি পার্থ-অঙ্কিতাদের, কী করল আদালত?
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অপর প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারী এবং তার কন্যা অঙ্কিতা অধিকারী-সহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে আলিপুর আদালতে এদিন চার্জ গঠন হয়েছে। এই প্রথমবার এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কারও বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হল। আলিপুর আদালতের বিচারক বিশ্বরূপ শেঠের এজলাসে এবার এই ২১ জনের বিচার শুরু হবে।
এদিন শুনানিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তার আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী আদালতে সওয়াল করেন যে, সিবিআইয়ের চার্জশিট এবং এফআইআর-এ প্রথমে তাঁর মক্কেলের নাম ছিল না। তিনি সিবিআইয়ের দাবিকেও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। গত পাঁচ মাস ধরে অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি পার্থ। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের বিছানায় বসেই তিনি নিজেকে ফের একবার নির্দোষ দাবি করেন। মুক্তি চান। আদালত অবশ্য সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

একইভাবে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারী ও তার কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীরও মামলা থেকে মুক্তির আবেদন ধোপে টেকেনি। তারাও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। পিতা-কন্যা তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে যুক্তি দেন যে, অঙ্কিতা নিজের যোগ্যতাবলেই চাকরি পেয়েছিলেন এবং অঙ্কিতা যখন চাকরি পান, তখন পরেশ কোনও পদে ছিলেন না। ফলে কাউকে প্রভাবিত করার প্রশ্নই ওঠে না।
ঘটনা হল, ২০১৬ সালে এসএসসি-র মাধ্যমে অঙ্কিতা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষকতার চাকরি পান। কিন্তু এই চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ববিতা সরকার নামের এক চাকরিপ্রার্থী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। ২০২২ সালের মে মাসে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অঙ্কিতার চাকরি বাতিল করে দেন এবং তাঁকে বেতনের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে দেখা গিয়েছে, ববিতারও নম্বর মূল্যায়নে ভুল ছিল এবং তাঁরও চাকরি চলে যায়। শেষ পর্যন্ত অনামিকা রায় নামের একজন ওই চাকরি পান। তবে গত বছর ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের সঙ্গে অনামিকার চাকরিটিও বাতিল হয়ে যায়।
ওদিকে ২০২২ সালের ২২ জুলাই নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইডি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার বাড়িতে অভিযান চালায়। একই সময়ে পার্থ-ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জের ফ্ল্যাটেও হানা দেয় ইডি। সেই তল্লাশি অভিযানে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়। এর পরেই পার্থ ও অর্পিতাকে গ্রেফতার করে ইডি। এরপরে একাধিক দুর্নীতি মামলায় পরপর নাম জড়ায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।












Click it and Unblock the Notifications