Panchayat Electon 2023: বিজেপি প্রার্থীরা বিপদে পড়লেই পাশে বাবান ঘোষ, ২০২৪ নিয়েও বড় পরিকল্পনা

Panchayat Electon 2023: পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলায় জেলায় বিজেপি প্রার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। হচ্ছে প্রতিরোধও। এই অবস্থায় বাংলার যে কোনও প্রান্তের বিজেপি কর্মীদের যে কোনও প্রয়োজনে সাহায্যে প্রস্তুত বাবান ঘোষ।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ২০১৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতে সামলাচ্ছেন গুরুদায়িত্ব। তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু নানা বিষয়ে আদর্শগত বিচ্যুতি দেখে বাবান স্রোতের বিপরীতে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন।

বাবান ঘোষ

বাবান ঘোষের কথায়, আমার ঠাকুরদা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। দেশমাতৃকার জন্য কিছু করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছি। রাজনৈতিক নেতারা সকলেই মানুষের জন্য কাজ করার কথা বলেন। করেন কজন? ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেখে আকৃষ্ট হই। দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি যোগদান করিনি, তার পিছনেও কারণ রয়েছে।

বাবান কৈলাস

কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে বলেছিলাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আমার আদর্শ। সে কারণেই বিজেপিতে যোগদান করব এলগিন রোডে নেতাজির বাড়ি থেকেই। কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিবপ্রকাশ এবং বেশ কয়েকজন সাংসদের উপস্থিতিতে বাবান ঘোষ ১৫ হাজার কর্মী নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। দক্ষিণ কলকাতার বুকে এই যোগদান বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।

ছাত্র, যুব, শ্রমিক সংগঠনে গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। তবে শ্রমিক-মজদুরদের নিয়ে কাজ করতেই ভালোবাসেন বাবান। বিজেপিতে যোগদানের পর দেখেন, আরএসএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে শ্রমিক-মজদুর ও ছাত্রদের সংগঠন। বাবান জানান, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বোঝাতে পেরেছিলাম বাংলায় পালাবদল আনতে হলে মজদুরদের একত্রিত করতে হবে।

বাবান ঘোষ

সবুজ সঙ্কেত মেলে। ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়নকে স্বীকৃতি দেয় রাজ্য বিজেপি। পাশাপাশি বাবান কৃষক-খেতমজদুরদের নিয়ে কর্মসূচি পালনে দক্ষ বলে তাঁকে কিষাণ মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটিতে ন্যাশনাল এগজিকিউটিভ করে দিল্লি প্রদেশের সহ প্রভারী করা হয়। বিভিন্ন রাজ্যে এখন বাবান এখন সংগঠনের কাজ করেন।

২০১৯ সালের মধ্যে সাড়ে ৫ লক্ষ মজদুরকে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসেন বাবান। সংগঠনের ২৫০-র উপর ইউনিট ছিল। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে সংগঠনের সদস্যসংখ্যা। বাবানের কথায়, মুকুল রায় ও আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিল। ৬ দিনের বেশি রাখতে পারেনি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলের পর জামিনের বিরোধিতা করে আবেদন করা হয়েছিল, তাও খারিজ হয়েছে।

বাবান ঘোষ

বাবান ঘোষ করোনা পরিস্থিতির সময় থেকে তাঁর সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন জেলার ১ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের সংসার চালিয়েছেন ১৮ মাস ধরে। অ্যাম্বুল্যান্স, মাস্ক, স্যানিটাইজার-সহ নানা সামগ্রী সরবরাহ করেছেন। সমাজসেবার কাজে যুক্ত বাবান বিশেষভাবে সক্ষমদের নিয়েও নানা সহযোগিতামূলক কাজকর্ম করে থাকেন।

কলকাতার বুকে ২০ হাজার বিশেষভাবে সক্ষমদের নিয়ে মিছিল করেছিলেন। বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য কাজের সুবাদে মিলেছে একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বাবানের জীবনের আদর্শ রাজনীতির মাধ্যমে সমাজসেবা। বাংলাকে নতুন দিন উপহার দিতে চান। পথে যে প্রতিবন্ধকতা নেই, তা নয়। তা কাটিয়েই এগিয়ে চলেন ডাকাবুকো বাবান ঘোষ।

বাবান ঘোষ

বাবান ঘোষ বলছিলেন, ২০২১ সালে আরও ভালো ফল করতে পারতো বিজেপি। বলতে দ্বিধা নেই আমার মনে হয় রাজ্য সম্পর্কে এখনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছয় না। কারণ, কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ রয়েছে। এই বড় কথাটা বলছি অভিজ্ঞতা থেকেই। তাই বাংলার নীচুতলার পার্টি কর্মীদের অবস্থা সঠিকভাবে উপস্থিত হয় না।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বড় সংগঠন গড়েছিলেন বাবান ঘোষ। তাঁর কথায়, ভোটের আগে কিছু বেনো জলের কথাকে গুরুত্ব দিয়ে মজদুর সংগঠনের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হয়। ততদিনে বাংলার হাজার হাজার বুথে এজেন্ট এবং শ্রমিক-মজদুরদের থেকে কয়েকজন প্রার্থীর তালিকা দলের কাছে জমাও দিয়েছিলাম।

আরএসএসের বিচারধারার সঙ্গে সংঘাত কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আমাদের সংগঠনের অনেকের মন ভেঙে যায়। সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরেও যান। সাড়ে ৭ লক্ষ শ্রমিক-মজদুর তখন সংগঠনে। সকলকে নিয়ে চললে ভোট শুধু কয়েক শতাংশ বাড়তো তাই নয়, আসনও বাড়ত। ফল অন্যরকম হতে পারতো।

দেশের নানা প্রান্তে কাজের ব্যস্ততা নিয়ে ছুটছেন। তারই মধ্যে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে বাবান ঘোষ জানালেন, যাঁরা পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির হয়ে বুকের পাটা রেখে লড়ছেন তাঁদের সঙ্গে আমি আছি। ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাও ঘটবে। যেখানেই যে প্রার্থী বা কর্মী বিপদে পড়বেন, আমাকে জানান। ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।

বাবান ঘোষ মিছিল

সকলকে প্রতিরোধ গড়তে যেমন ঝাঁপিয়ে পড়বেন বাবানের নেতৃত্বাধীন টিমের সদস্যরা, তেমনই যে কোনও আইনি পরিষেবা বিনামূল্যে প্রদানের ঘোষণা করেছেন বাবান ঘোষ। তিনি বলেন, আমি বলি, জয় হিন্দ জয় মজদুর। মানবসভ্যতার চাকা ঘোরাবে মেহনতি মানুষের সম্প্রদায়।

সে কারণেই লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে বাংলাজুড়ে শ্রমিক-মজদুরদের একজোট করতে উদ্যোগ নিয়েছেন বাবান ঘোষ। সেই মেহনতি মানুষগুলোকে ভোটযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে কাজে লাগালে বিজেপি ২০২৪ সালে আরও ভালো ফল করবে বলেও জানান বাবান ঘোষ।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+