Panchayat Election: সর্বদলীয় বৈঠকের পরও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সংশয়ী বিরোধীরা, অপপ্রচার বলছে তৃণমূল

Panchayat Election All Party Meeting: পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট যখন রায় দিয়েছে তখন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে চলছিল সর্বদলীয় বৈঠক। রায় নিয়ে আলোচনার তেমন অবকাশ মেলেনি।

কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পরও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সংশয় দূর হয়নি বিরোধীদের। যদিও বিরোধীদের কথাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিচ্ছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

শমীক ভট্টাচার্য

বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এই বৈঠক আগে হওয়া উচিত ছিল। আমরা জানিয়েছি, ৫০টি ব্লকে একটাও মনোনয়ন জমা পড়েনি। নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আশ্বস্ত করতে পারেনি কমিশন। প্রত্যেকটি ব্লক অফিসে তৃণমূলের দুষ্কৃতী রয়েছে। নির্বাচনের দিন সশস্ত্র বাহিনী, সিভিক ভলান্টিয়ারের ভূমিকা নিয়েও কিছুই বলেনি কমিশন।

শমীকের কথায়, এটা যেন দখলদারি নির্বাচন। এর মধ্যেও আমরা বলছি, লড়াই হবে। আমরা ময়দান ছাড়ব না। কোনও প্রতিশ্রুতি আমরা কমিশনে কাছ থেকে পাইনি। একজন অবজারভার দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। যে পরিস্থিতি বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে সেই পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা লড়াই করব।

সর্বদলীয় বৈঠক কংগ্রেস

কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচি বলেন, আমাদের ২২ দফা দাবি ছিল। এখনও লক্ষাধিক মনোনয়ন বাকি। অন্তত একদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়ন তোলার দিন বাড়ানো উচিত। ভাঙড়ে যা ঘটেছে তা কমিশনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির মধ্যেই তৃণমূল নেতার গাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার হয়েছে। নির্বাচনের নামে প্রহসনের চেষ্টা চলছে।

অরূপ বিশ্বাস

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই চব্বিশ পরগনা,বীরভূম,মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, জলপাইগুড়ি ও হুগলি স্পর্শকাতর জেলা। যদিও কমিশন কিছু ঘোষণা করেনি বলে জানান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার মাধ্যমে বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে গণ্ডগোল করে সরকারের বদনামের চেষ্টা করছে। আমরা চাই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।

শমীক লাহিড়ী

সিপিআই(এম) নেতা শমীক লাহিড়ী বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনটি প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্নগুলি হলো: ১) ৯, ১০ ও ১২ জুন মোট ৭৩,৮৮৭ টি আসনের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছেন কমবেশি মাত্র ৪৪ হাজার প্রার্থী। গড়ে আসন পিছু ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে চাইলে, বাকি আরও প্রায় ৭লক্ষ। হাতে সময় ২ দিনে ৮ ঘন্টা।
এই ৮ ঘন্টার কতটা সময় বোমা, গুলি, মারপিট ইত্যাদিতে নষ্ট হবে, সেটা সহজেই অনুমেয়। তাহলে কীভাবে কোন জাদুতে মাত্র ৮ ঘন্টায় ৭ লক্ষ মনোনয়ন জমা নেবে নির্বাচন কমিশন? তাহলে নির্বাচন কমিশন কি চাইছে না, ইচ্ছুক সব প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারুক।

দ্বিতীয় প্রশ্ন, রাজ্যে ৪০৩টি কেন্দ্রে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার কাজ চলছে। তারই নিরাপত্তা দিতে পারছে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাহলে ৭৮,৭৯৯ টি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে নির্বাচন কমিশন?

প্রশ্ন-৩) রাজ্যে ৫০টিরও বেশি ব্লকে বিরোধী দলগুলোর একজন প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। আজ পর্যন্ত, তৃণমূল-পুলিশ যৌথবাহিনীর প্রবল সন্ত্রাস, আক্রমণ, হুমকি, বোমাবাজি, মিথ্যা মামলায় বিরোধী প্রার্থীদের গ্রেফতার করার কারণে। ২০১৮ সালে ৩৪ শতাংশ আসনে কোনও বিরোধী দলকে দাঁড়াতে দেয়নি শাসক তৃণমূল দল, রাজ্য পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের বদান্যতায়।

রাজীব সিনহা

শমীকের প্রশ্ন, এবার কি সেই রেকর্ড ভাঙতে তৃণমূলকে সাহায্য করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন? সংবিধান রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে গণতন্ত্রের উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে করার দায়িত্ব ও অধিকার দিয়েছে, গণতন্ত্র হত্যার উৎসবে পৌরোহিত্য করার নয়, মন্তব্য এই সিপিআই(এম) নেতার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+