টানা ৪০ ঘণ্টা ধ্বংসস্তুপে আটকে দেহ, টেনে হিঁচড়ে বের করলেন উদ্ধারকারীরা! এবার গ্রেফতার জমির মালিক
গার্ডেনরিচ কাণ্ডে টানা ৪০ ঘণ্টা উদ্ধারকাজ চালানোর পর আরও এক মৃতদেহ উদ্ধার করা হল। তার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১০। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজও এক জনের দেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১০। আরও ১ জন সেখানে আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও এদিন জমির মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
লোকসভা ভোটের মুখে গার্ডেনরিচ কাণ্ড নিয়ে বেশ চাপে রয়েছে শাসক দল। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে গতকালই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। খারিজ করে দেওয়া হয়েছে জামিনের আর্জি।

এদিকে এই নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে জানিয়েছিলেন অবৈধ নির্মাণের জন্যেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। তারপরেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। খুনের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এদিকে আজ সকাল থেকেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন উদ্ধারকারীরা। আরও ২ জন ধ্বংসস্তুপের ভেতরে আটকে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল। প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকাজ চালানোর পর আরও একটি দেহ উদ্ধার করা গিয়েছে। এদিকে সেই ঘটনার পর শহরের সব বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস দাবি করেছিলেন পুরোটাই ম্যানমেড বিপর্যয়। মানুষের ভুলের জন্যই এতোজনের মৃত্যু হল। এই ঘটনায় শাসক দলের কাউন্সিলরের গোপন আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে। কাউন্সিলর টাকা নিয়ে বেআইনি নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার কাউন্সিলরের সঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ছবিও শেয়ার করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার গার্ডেনরিচে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে মেয়রের গ্রেফতারির দাবি জািনয়েছিলেন আইএসএফ সুপ্রিমো নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি অভিযোগ করেছিলেন কাটমানি নিয়ে শাসক দলের কাউন্সিলররা বেআইনি নির্মাণের অনুমতি দেয়। সেকথা মেয়র নিজেও জানেন।
মেয়র ফিরহাদ হাকিমও স্বীকার করে নিয়েছেন অনেক কাউন্সিলরই কথা শোনেন না। তাঁরা হাতের বাইরে চলে গিয়েছেন। সব খবর তাঁর কাছে পৌঁছয় না। এই ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে নিয়েছেন তিনি। এই নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ২ তলা বাড়ির ভিতের উপরে ৫ তলা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছিল তার জেরেই এই দুর্ঘটনা। মেয়র এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সব ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।












Click it and Unblock the Notifications