পাঁচ দশকের বেশি রাজনৈতিক জীবন, পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯৪৪-এর ১ মার্চ। তিনি সিপিআইএমের রাজ্য কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর প্রাক্তন সদস্য। পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের।

উত্তর কলকাতায় তাঁর জন্ম। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন তাঁর কাকা। পড়াশোনা উত্তর কলকাতার শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়ে। পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি পান। প্রথমে সরকারি স্কুলের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পরেও সেই চাকরি ছাড়েন তিনি।

Buddhadeb Bhattacharjee

১৯৬৬ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দলের প্রাথমিক সদস্যপদ পান। সিপিআইএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর প্রথম রাজ্য সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে সিপিআইএম রাজ্য কমিটিতে নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য হন। আর ১৯৮৫ সাল থেকে সদস্য হন। ২০০২ সালে তিনি সিপিআইএম পলিটব্যুরোর সদস্য হন।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮২-এর মধ্যে তিনি ছিলেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় বিধায়ক। প্রথমবারেই তিনি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে ১৯৮২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই কাশীপুর থেকে অল্প ব্যবধানে হেরে যান।

১৯৮৭ সালে যাদবপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এরপর এক টানা ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ওই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। ১৯৮৭ সালে জয়ী হওয়ার পরে তাঁকে ফের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী করা হয়। এঠছাড়াও তিনি নগরোন্নয়ন এবং পর্যটনের মতো বিভাগের দায়িত্বও সামাল দিয়েছিলেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ফের তাঁকে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী করা হয়। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ১৯৯৩ সালে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। তবে কয়েকমাস পরে ফের তাঁকে মন্ত্রিসভায় ফেরত আনা হয়।

১৯৯৬-এর বিধাসভা নির্বাচনে জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হলেও, সেই বছর থেকে প্রথমবার স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ দফতরের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়। যা অটুট ছিল ২০১১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৯ সালে তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। ২০০০ সালের ৬ নভেম্বর জ্যোতি বসুর পদত্যাগের পরে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করে বামফ্রন্ট।

এরপর ২০০১ ও ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএম তথা বামফ্রন্ট জয়ী হলে পরপর দুবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার সামাল দেন। তাঁর সময়ে রাজ্যে আরও বিনিয়োগ ও চাকরি আনতে অভিযান শুরু করেছিলেন। তাঁর সময়েই রাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

সিপিআইএমের মধ্যে তিনি তুলনামূলক উদারনীতির সমর্থক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সিঙ্গুরে বড় শিল্প স্থাপনের স্বপ্ন তিনিই দেখিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর সময়েই ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়। তিনি নিজেও ২০১১-এর নির্বাচনে যাদবপুর থেকে পরাজিত হয়েছিলেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+