বালি টাকা উদ্ধার কাণ্ড : ফটোকপির জন্য ১ লক্ষ টাকা ঘুষ নিতেন ইঞ্জিনিয়ার, নয়া তথ্যে চকিত তদন্তকারীরা
কলকাতা, ১৭ আগস্ট : গত শুক্রবার থেকেই খবরের শীর্ষে রয়েছেন হাওড়া পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার প্রণব অধিকারি। প্রত্যেক আঞ্চলিক ভাষার (বাংলা) সংবাদ চ্যানেল খুললেই দেখা যাচ্ছিল তাঁর নিতান্তি সাদামাটা চেহারাটি। কিন্তু না কোনও মহান কাজের জন্য নয়, বরং তাঁর বাড়ি থেকে ২১ কোটি ৬০ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার হওয়াতেই চাঞ্চল্য।
এত টাকা প্রণববাবু পেলেন কোথা থেকে, সে তদন্ত করতে নেমে যা তথ্য মিলেছে তাতে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন বিল্ডিংয়ের প্ল্যান পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য তো দেড় থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ঘুষ নিতেন প্রণববাবু। শুধু তাই নয়, বিল্ডিংয়ের ব্লুপ্রিন্টের জেরক্স করে দেওয়ার জন্য ১ লক্ষ টাকা ঘুষ নিতেন এই ইঞ্জিনিয়ার।
প্রণববাবুকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে, এই ধরণের ঘুষ চক্রে আরও ৩-৪ জন অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার পদের ব্যক্তি রয়েছেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিস।
তদন্তকারীরা জানতে পারে ঘুষের টাকা না দিলে মাথা গরম হয়ে যেত প্রণব অধিকারীর। যে ব্যক্তি ঘুষের টাকা দিতে দেরি করত বা অস্বীকার করত তার বাড়ির প্ল্যান আটকে দিতে প্রণববাবু। শুধু তাই নয়, প্রোমোটারদের কাছে ক্রমেই ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
তবে ঘুষ হিসাবে লক্ষ লক্ষ টাকা নিলেও নিজের ভাবমূর্তি পরিস্কার রাখতে সজাগ ছিলেন এই ইঞ্জিনিয়ার। জীবনযাপন ভীষণ সাদামাটা রেখেছিলেন। হোটেলে খাওয়া বা বাইরে ঘুরতে যাওয়া এসবে খুব একটা ইচ্ছুক ছিলেন না তিনি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তি করা বা ঘুষের টাকা নেওয়া শুধুমাত্র হতো তার চেম্বারে তাও দরজা জানলা বন্ধ করে।
বাড়ি থেক ঘুষের টাকা সহ বেশ কিছু পরিমাণ সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কোথাও বেনামী নামে প্রণববাবুর বা তার ছেলের কোনও সম্পত্তি আছে কিনা তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, পুরসভার অনুমতি পাইয়ে দেবেন বলে এক শিল্পপতির কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ চান প্রণববাবু। ওই শিল্পপতি বিষয়টি গুণ্ডাদমন শাখার কাছে জানান। সেই অনুযায়ী পুলিশ ফাঁদ পাতে। এই শিল্পপতি প্রণব অধিকারিকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়ার সময় শুক্রবার দুপুরে তাকে হাতে নাতে তাকে ধরে পুলিশ।
এরপরই প্রণববাবুর বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে জানা যায় রান্নাঘর, শৌচাগার, মেঝের টাইলসের নিচে ঘরের আনাচে কানাচে টাকার পাহাড় লুকিয়ে রেখেছিলেন এই অসাধু ইঞ্জিনিয়ার। এরপর এই বাড়ি থেকে ট্রাঙ্ক ট্রাঙ্ক করে ২১ কোটি ৬০ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার করে তদন্তকারিরা।












Click it and Unblock the Notifications