Netaji Indoor Stadium: একরাশ রাগ-ক্ষোভ নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ্য শিক্ষকরা, লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ দুই
বিগত কয়েকদিন ধরেই এসএসসি মামলায় চাকরি হারানো শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীদের নিয়ে উত্তাল বাংলা। সোমবার বেলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি হারাদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন। বৈঠক শুরুর কয়েক ঘন্টা আগেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বাইরে। চাকরি হারা শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীদের বার্তা দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বৈঠক ডেকেছেন ইন্ডোর স্টেডিয়ামে।
এই বৈঠকে আগেই একপ্রকার রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হল। পরিস্থিতি যে উত্তপ্ত হতে পারে তার আগাম আভাস পাওয়া যাচ্ছিল রবিবার বিকেল থেকেই। কারণ যোগ্য এবং অযোগ্য শব্দেই যে মূল বিভ্রাট। রবিবার বিকেলে শহীদ মিনারের পাদদেশে জমায়েত করেন যোগ্য শিক্ষকরা। তাদের জন্য পাস ইস্যু করা হয়। কিন্তু সোমবার সকালে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের বাইরে দেখা গেল বিরাট লাইন। অনেকেই পাস ছাড়াও বৈঠকে ঢোকার চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দিলে বচসা বাধে। চাকরি হারাদের একাংশের দাবি ২৬ হাজার মানুষের চাকরি গিয়েছে। কোথাও যোগ্য অযোগ্য বিভাজন করা হয়নি। তাহলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে কেন বিভাজন করা হচ্ছে? এই নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। যদিও রবিবার থেকেই যোগ্য শিক্ষকরা জানিয়ে এসেছিলেন কোন অযোগ্য শিক্ষক, শিক্ষা কর্মীকে তারা নেতাজি ইন্ডোরে ঢুকতে দেবেন না।
সেখানে যদি কোন রকম অযোগ্য শিক্ষক শিক্ষা কর্মী প্রবেশ করেন তাহলে তারা বৈঠক বয়কট করবেন। ফলে উত্তেজনার আঁট ছিলই। সেই মতোই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বাইরে বিরাট সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়, পুলিশ কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সামনে এসে উপস্থিত হন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সামনে শুধুই হাহাকার এবং ক্ষোভ যোগ্য শিক্ষকদের। যোগ্যতার নিরিখে চাকরি পেলেও সুপ্রিম কোর্টের রায় তাদেরও কাজ হারাতে হয়েছে, ফলে যোগ্য শিক্ষকরা রাগে ইতিমধ্যেই ফুঁসছেন। তাদের মধ্যে থেকে অনেকেই সরাসরি সরকার এবং বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন।
তাদের নিয়ে কোনরকম রাজনীতি হোক তারা চাইছেন না। শুধু চাইছেন তাদের যোগ্যতা নিরিখে পাওয়ার চাকরিটা ফেরত পেতে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে অংশ নিতে আসা একজন যোগ্য শিক্ষক জানিয়েছেন , যোগ্য অযোগ্য মিশিয়ে ফেলার জন্যই সুপ্রিম কোর্ট আমাদের গোটা প্যানেলটাই বাতিল করে ফেলল আমাদের এখন সংসার হয়ে গিয়েছে ১০ বছর আগে আমরা যেভাবে পরিশ্রম করে পড়াশোনা করে চাকরি পেয়েছিলাম এখন কি সেটা সম্ভব! একজন বিচারপতিকে যদি ১৫-২০ বছর চাকরির পর তাঁকে আবার আইনের পরীক্ষা দিয়ে বিচারক হতে বলা হয় তাহলে তিনি কি সেটা পারবেন। আমরা অনেকেই এর আগে আপার প্রাইমারি চাকরি ছেড়ে এই চাকরিতে জয়েন করেছি এখন আমি কি করব। এখন আমার মাথার ওপরে অনেক চাপ।
অন্য একজন শিক্ষক আবার জানিয়েছেন ক্লাসে একজন ছাত্র দুষ্টুমি করলে গোটা ক্লাসকেই কি শাস্তি দেওয়া হয়। এই শিক্ষায় কি আমরা সমাজকে দিই। শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যোগ্য অযোগ্যের তালিকা প্রকাশ করতে পারলে না বললেই আমাদের চাকরির এইভাবে হারাতে হলো। কেউ আবার হুঁশিয়ারি সুরে বলেছেন আজকের সরকারের গাফিলতির জন্যই যোগ্য শিক্ষকরা রাস্তায়। আজকের শেষ দিন এরপর থেকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কোন এই ধরনের বৈঠক করব না।
এদিকে লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন দুই জন। একজন মুর্শিদাবাদের, একজন মেদিনীপুরের।












Click it and Unblock the Notifications