কলকাতা বন্দরকে নতুন ভারতের প্রতীক হিসাবে তৈরি করব, প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর
আজ কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতা বন্দরের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, 'এই বন্দরকে নতুন ভারতের প্রতীক হিসাবে তৈরি করতে হবে। এবং আমার সরকার ঠিক সেটি করবে। এই পোর্টের অধুনিকীকরণে জন্যে কয়েকশ কোটি টাকার পরিকাঠামোগত প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছে।' পাশাপাশি আজ কলকাতা বন্দরের নাম বলদে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে করার ঘোষণাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাগরমালা কার্যক্রম নিয়ে বলেন মোদী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সরকার সাগরমালা কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের পুরোনো বন্দরগুলির আধুনিকিকরণ ও নতুন বন্দর তৈরির ক্ষেত্রে কাজ করা হচ্ছে। আমরা এই কার্যক্রমের মাধ্য ৬৭৫টি প্রকল্প ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছে। কলকাতা বন্দর সমুদ্র তটেও রয়েছে, নদীতেও রয়েছে। হলদিয়া ও বারাণসীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল শুরু হয়ে গিয়েছে। আর আমি তো বারাণসীর সাংসদ, তাই সরাসরি আপনাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।'

'২০২১ সালের মধ্যে যাতে গঙ্গায় বড় জাহাজ চলবে'
এরপর তিনি বলেন, '২০২১ সালের মধ্যে যাতে গঙ্গায় বড় জাহাজ চলতে পারে তার জন্যে কাজ চলছে। ফারাক্কা ও হলদিয়ায় কাজ চলছে। এই কারণে নদীর গভীরতা বাড়ানোর কাজ চলছে। গঙ্গাকে অসমের ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে যোগ করা হবে। কলকাতা বন্দরের জন্যে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মতো দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। এই কারণে ব্যবসা করা সরলীকরণের ক্রমতালিকায় আরও উপরে উঠেছে ভারত।'

দীর্ঘ ইতাহাসের স্মৃতিচারণ
দীর্ঘ ইতাহাসের স্মৃতিচারণ করতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গুজরাতের লোথাল থেকে পূর্বে কলকাতা বন্দর পর্যন্ত এই ৭০০০ কিলোমিটার লম্বা উপকূলের সাহায্যেই কয়েক শতক ধরে ব্যবসা ও সংস্কৃতির আদানপ্রদান জারি থাকে। অনেক মহান মানুষ এইখান থেকেই দুনিয়াতে তাদের সফরের সূচনা করে। কলকাতার এই পোর্ট ব্যবসায়িক ও আধ্মাত্মিক প্রতীক। কলকাতা পোর্ট শুধু জাহাজ যাওয়া আসার স্থান নয়। এই বন্দর বহু ইতিহাসের শাক্ষী। এই বন্দর ভারতকে স্বাধীনতা পেতে দেখেছে। সত্যাগ্রহ থেকে স্বচ্ছাগ্রহ পর্যন্ত দেশকে বদলতে দেখেছে।'

পোর্ট ট্রাস্টের কর্মীদের সুভেচ্ছা জানান মোদী
রবিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মা গঙ্গার সান্নিধ্যে গঙ্গাসাগরের কাছে এই ঐতিহাসিক প্রতীকের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আমি সৌভাগ্যবান। আজকের দিন কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের জন্যে, এখানে কাজ করা লোকেদের কাছে আজকে খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজ তাদের ১৫০তম বার্ষিকীতে পোর্ট ট্রাস্ট ও তাদের কর্মীদের আমি সুভেচ্ছা জানাচ্ছি। পোর্ট ট্রাস্টের নামে ডাক টিকিট প্রকাশ হয়েছে। পাশাপাশি এই সংস্থার কর্মচারীদের জন্যে ৫০০ কোটি টাকার চেক সরকার দিয়েছে। পোর্ট ট্রাস্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রসেবায় লিপ্ত মানুষ ও তাদের পরিবারকে আমি প্রনাম করছি।'












Click it and Unblock the Notifications