সাংসদ হয়েও কেন প্রেমিকার কাছ থেকে অর্থ নিতেন ঋতব্রত, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিছনে যে তিনি যথেষ্ট অর্থ খরচ করেছিলেন তার প্রমাণ দিলেন নম্রতা দত্ত। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে সাংসদ ঋতব্রত-র অ্যাকাউন্টে কতবার অর্থ গিয়েছে তাঁর পরিসংখ্যান দিয়েছেন তিনি।
চাঞ্চল্যের পর চাঞ্চল্য। এতদিন দাবি আর পাল্টা দাবিতেই আটকে ছিল নম্রতা দত্ত ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্ক বিতর্কের আর্থিক লেনদেনের কেলেঙ্কারি। এবার ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার হাতে এমন কিছু তথ্য প্রমাণ এসেছে যা চমকে দেওয়ার মতো। দেখা যাচ্ছে নম্রতা দত্তের অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কয়েকবার বড় অঙ্কের অর্থ একটি নির্দিষ্ট অ্য়াকাউন্টে জমা পড়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এই অ্যাকাউন্টে দু'দফায় মোট ২,৭০,০০০ টাকা জমা করেছিলেন নম্রতা।

০৩৩৭২৭৮৩৪৪২৬ নম্বরের এই অ্য়াকাউন্টি কার? ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার পক্ষ থেকে এর উত্তর চাওয়া হয়েছিল নম্রতা দত্তের কাছে। বালুরঘাটের বাসিন্দা এই যুবতীর দাবি, এই অ্যাকাউন্টি সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সংসদের এসবিআই-এর শাখায় এই অ্যাকাউন্টি আছে বলে দাবি করেছেন নম্রতা। তাঁর দেওয়া পাসবুক-এর প্রতিলিপিতে দেখা যাচ্ছে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি এই অ্যাকাউন্টে ৪৫,০০০ টাকা জমা করা হয়। চেকের মাধ্যমে এই অর্থ জমা করা হয়েছিল। নম্রতার দাবি, ইউরোপ ট্যুরের জন্য ঋতব্রত-র অর্থের দরকার ছিল। তাই তিনি এই অর্থ ঋতব্রতকে দিয়েছিলেন।

এখানেই শেষ নয়, এই বিশেষ অ্যাকাউন্টিতে আবার চলতি বছরের ৪ অগাস্ট ২,২৫,০০০ টাকা জমা করেন নম্রতা। এত বড় অঙ্কের অর্থ হঠাৎ কেন এই বিশেষ অ্য়াকাউন্টে জমা করতে হল? নম্রতার দাবি, তিনি তখন সবেমাত্র নেদারল্যান্ডস থেকে দেশে ফিরেছেন। এমন সময় ঋতব্রত তাঁকে নাকি জানিয়েছিলেন আইনজীবীর জন্য ২,২৫,০০০ টাকা দরকার। আর সেই কারণে এই অর্থ ঋতব্রতর অ্যাকাউন্টে জমা করেছিলেন বলে দাবি নম্রতার।

এভাবেই তিনি ঋতব্রত ইচ্ছায় যখন তখন অর্থ বের করে দিয়েছিলেন বলে দাবি করছেন নম্রতা। তাঁর আরও দাবি, ঋতব্রত দীর্ঘদিন ধরেই একটা অ্যাপেল ওয়াচ কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। নম্রতার দাবি, ঋতব্রতকে সঙ্গে করে তিনি দিল্লির একের পর এক অ্যাপেল শো-রুমে ঢু মারেন কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। কারণ, ঋতব্রত একদম লেটেস্ট মডেলের অ্যাপেল ওয়াচের খোঁজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন নম্রতা। শেষমেশ অ্য়ামাজনের মাধ্যমেই নাকি অনলাইনে অ্যাপেল ওয়াচ-এর অর্ডার দেন নম্রতা। এর জন্য তিনি অ্যামাজনের একটি অ্যাকাউন্টে ৪৯,০০০ টাকার বিলও মেটান। নম্রতার দাবি, ঋতব্রত সারাক্ষণই বলতেন তিনি অর্থ সঙ্কটে চলছেন। তাই প্রেমিকের সখ-আহ্লাদ মেটাতে নিজের জমানো অর্থই খরচ করতেন বলে দাবি করেছেন নম্রতা।

এরপর যে তথ্য ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার হাতে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে চলতি বছরের ৪ অক্টোবর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েয়র অ্যাকাউন্ট থেকে ২,৫০,০০০ টাকা নম্রতার অ্যাকাউন্টে এসেছে। এত বড় অর্থ কেন নম্রতার অ্যাকাউন্টে দিতে গেলেন ঋতব্রত? এর উত্তর বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে সরাসরি পাওয়া না গেলও দিন কয়েক আগের একটি টুইটার পোস্টে তিনি তার জবাব দিয়েছিলেন। ঋতব্রত-র দাবি ছিল, তাঁকে ব্ল্যাকমেলিং করছিলেন নম্রতা। তাই হুমকিতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে নম্রতার অ্যাকাউন্টে ২,৫০,০০০ টাকা দিয়েছিলেন বলে গড়ফা থানার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন ঋতব্রত। যদিও, নম্রতা ঋতব্রত-র এই অভিযোগ উড়িয়েই দিয়েছেন। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, এই অর্থ তাঁর অ্য়াকাউন্টে জোর করেই জমা করেছেন ঋতব্রত। কারণ, এই ঘটনার আগে দিন কয়েক ধরেই ঋতব্রত নাকি চাপ দিচ্ছিলেন যাতে তিনি এই সম্পর্ককে প্রকাশ্যে না নিয়ে আসেন। আর সেই জন্য ঋতব্রত ৫০ লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। এই টাকার অঙ্কের প্রথম কিস্তি হিসাবে ঋতব্রত না জানিয়েই ২,৫০,০০০ টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা করেন বলে অভিযোগ করেছেন নম্রতা। এমনকী, বালুরঘাট থানা থেকে শুরু করে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা পুলিশ কমিশনার, দিল্লি পুলিশ কমিশনার, কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও রাজ্যসভার এথিকস কমিটির কাছে যে সব ই-মেল এবং চিঠি পাঠিয়েছেন তাতে এই সকল তথ্য উল্লেখ করে দিয়েছেন বলেও দাবি নম্রতার।

টুইটার অ্যাকাউন্টে অবশ্য ঋতব্রত এই সমস্ত অভিযোগকেই উড়িয়ে দিয়েছেন। আট অক্টোবরের আগে পর্যন্ত নম্রতার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যত টুইট করেছেন বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদ তাতে কোথাও তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। এমনকী, সেইঙ্গে নম্রতা তাঁকে কোনও অর্থ দিয়েছেন এমন সম্ভাবনাও কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন। যাকে তিনি খুব স্বল্পসময়ের জন্য চেনেন, এমনকী নম্রতা যে ব্ল্যাকমেলিংও করার চেষ্টা করছেন, সেটাও যখন তিনি বুঝতে পারছেন তাহলে কোনও কারণ ছাড়াই তিনি ২,৫০,০০০ টাকা কেন অ্যাকাউন্টে জমা করলেন? এই নিয়ে প্রশ্ন এক্কেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আর দশটা-পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো নন। তিনি সাংবিধানিক মর্যদায় রাজ্যসভার একজন প্রতিনিধি। সুতরাং, তাঁর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা অনেকটাই তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এমন এক জন ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হওয়ার পরও কেন একজন অতিসাধারণ যুবতীকে ভয় পেলেন ঋতব্রত? আর এই ভয়ে তিনি পুলিশের কাছে যাওয়া দূরের কথা তিনি আগে অন্যের অ্যাকাউন্টে ২,৫০,০০০ টাকা জমাও করে দিলেন! এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই অবাক করছে।

নম্রতার আরও দাবি, পড়াশোনার সূত্রে তিনি নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার পর থেকেই ঋতব্রত সেখানে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। ঋতব্রতর নেদারল্যান্ডস ট্য়ুরের যাবতীয় ব্যায়-ভার তাঁকেই বহন করতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন নম্রতা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, ২০১৬ সালের খিস্ট্রমাসের ছুটিতে নেদারল্যান্ডসে যান ঋতব্রত। আমস্টারডাম-এর স্কিপ্পো এয়ারপোর্টে ঋতব্রতকে নিতেও গিয়েছিলেন নম্রতা। এরপর, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে ট্রেনে চেপে তাঁরা পৌঁছন ডেলফ্ট শহরে। এখানেই ৯৪ এ মিনা ক্রজম্যানস্ট্রিটরাট -এ নম্রতার ফ্ল্য়াটে উঠেন ঋতব্রত। সেখানেই নম্রতার সঙ্গে প্রায় দেড় সপ্তাহ ছুটি কাটান বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদ। ডেলফ্ট শহরে তোলা ঋতব্রত ও তাঁর বেশকিছু ছবিও শেয়ার করেছেন নম্রতা।

নম্রতার দাবি, তাঁদের বেশকিছু জায়গায় ঘুরতে যাওয়ারও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু, প্রবল ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ঋতব্রত। তাই শহরে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা শেষমুহূর্তে বাতিল করতে হয়। যদিও, ঋতব্রত টুইটারের বয়ান এবং গড়ফা থানায় দায়ের করা এফআইআর কপির কোথাও নেদারল্যান্ডসে একই অ্য়াপার্টমেন্টে নম্রতার সঙ্গে সময় কাটানোর কথার উল্লেখ নেই। এমনকী, এফআইআর-এর বয়ান অনুযায়ী, ঋতব্রত তেমনভাবে নম্রতার সঙ্গে ঘণিষ্টতাকেও অস্বীকার করেছেন। নম্রতাকে সাহায্য চাইতে আসা একজন গরিব মেয়ে বলেই পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তেমনভাবে নম্রতার সঙ্গে তাঁর যে যোগাযোগ ছিল তা কোথাও উল্লেখও করেননি। কিন্তু, এমন একজন মহিলার সঙ্গে ঋতব্রত কীভাবে ঘণিষ্ট ছবি তুললেন শুধু নয় সটানে নেদারল্যান্ডসে তাঁর ফ্ল্যাটের অতিথি হলেন! এর উত্তর কিন্তু বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদের কাছ থেকে এখনও পাওয়া যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications