মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় গড়া হচ্ছে ‘চক্রব্যুহ’, ‘ফসকা গেরো’ ঢাকতে নয়া ব্যবস্থা প্রশাসনের
মঞ্চে ও র্যাম্পে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় বজ্র আঁটুনির ফসকা গেরোগুলিকে আরও শক্তপোক্ত করতে চাইছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।
উত্তর দিনাজপুরে হেমতাবাদের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হল। নবান্নে সূত্রে জানানো হয়েছে, এখন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বলয়ে অর্থাৎ ডি-জোনে মহিলা নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। মঞ্চে ও র্যাম্পে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে বজ্র আঁটুনির ফসকা গেরোগুলিকে আরও শক্তপোক্ত করতে চাইছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।

নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, সেদিন হেমতাবাদে ডি-জোন ভেদ করে দুই বোন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঢুকে যাওয়ায় মূল কারণ পর্যাপ্ত মহিলা নিরাপত্তাকর্মী না থাকা। সেই অভাব পূরণ করতে বদ্ধপরিকর নবান্ন। মহিলা কর্মীর অভাবেই দুই মহিলাকে আটকাতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। যার ফলে বিঘ্নিত হয় ভিভিআইপি নিরাপত্তা।
সেইসঙ্গে স্থির হয়েছে, ভিভিআইপি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে নারী-পুরুষ বিভেদ না করেই ব্যবস্থা নিতে। এমনকী ডি-জোনের নিরাপত্তা মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। নিতান্ত কর্তব্যের খাতিরে প্রয়োজন না হলে নিরাপত্তারক্ষীরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না বলে কড়া ব্যবস্থা লাগু করছে প্রশাসন। সেইসঙ্গে বাঁশের ব্যারিকেড আরও উঁচু করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাঁশের মধ্যে দিয়ে য়াতে কেউ গলতে না পারে, তার জন্য দুই বা্ঁশের মধ্যে ফাঁকও কমানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সভায় দুই মহিলার ঢুকে পড়া ও একেবারে ডি-জোনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনায় রাজ্য পুলিশের এডিজি-আইবি সঞ্জয় চন্দ্রের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি নিজে হেমতাবাদ গিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করছেন। রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে সমন্বয় করে এই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তদন্তকারী অফিসাররা খতিয়ে দেখছেন, সেদিনে সমস্ত ব্যারিকেড ভেদ করে, ডি জোনের কঠোর নিরাপত্তা এড়িয়ে কী করে পৌঁছে গেলেন ওই দুই মহিলা। কোথায় ফাঁক, সেটাই বের করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। কেননা ডি-জোনের দায়িত্বে থাকেন স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটের কম্যান্ডো ট্রেনিংপ্রাপ্ত আধিকারিক।
এই কম্যান্ডো বাহিনীর পিছনে উর্দিধারী পুলিশ থাকে, তার পিছনে থাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মীরা। মোট ১২০ থেকে ১৫০ জন নিরাপত্তার দায়িত্ব কর্তব্যরত থাকেন। সেই নিরাপত্তায় কোথায় গাফিলতি রয়ে গেল তা দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












Click it and Unblock the Notifications