শুভ্রাংশুতে আস্থা নেই তৃণমূলের! নিজের ‘ভবিষ্যৎ’ নিজেই স্থির করলেন মুকুল-পুত্র
সোমবার বিধানসভায় এসেছিলেন বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। দল তাঁর উপর আস্থা রাখছে না, তা নিয়ে শুভ্রাংশু বেশ মনক্ষুন্ন। তিনি হাবেভাবে বুঝিয়ে দিলেন সেই কথাও।
বাবার পর ছেলেকে নিয়ে জল্পনার শেষ নেই রাজনৈতিক মহলে। সেই জল্পনার মধ্যেই মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু অবশেষ ধরা দিলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। রাজনৈতিক মহলের কানপাতলেই যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তার উত্তরও দিলেন সোজাসাপ্টা। স্পষ্ট করে দিলেন তাঁর অবস্থান। তাঁর ভবিষ্যৎ পন্থাও জানিয়ে দিলেন তিনি।

সোমবার বিধানসভায় এসেছিলেন বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। দল তাঁর উপর আস্থা রাখছে না, তা নিয়ে শুভ্রাংশু বেশ মনক্ষুন্ন। তিনি হাবেভাবে বুঝিয়ে দিলেন সেই কথাও। সেইসঙ্গে শুভ্রাংশু জানিয়ে দিলেন, 'আমি দলে আছি, দলেই থাকব। দল যদি নেতা হিসেবে কোনও মর্যাদা না দেয়, আমি সাধারণ কর্মী হিসেবেই তৃণমূলের হয়ে কাজ করব।'
এদিন মুকুল পুত্রের গলাতে ধরা পড়ল ক্ষেদ। তাঁর অনুযোগ, 'দল তাঁর সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করেনি। অপরাধ তাঁর ধর্মতলায় সভায় আসতে পারেননি। কিন্তু কেন আসতে পারিনি তার খোঁজ কি একবারও নিয়েছে দল?' অভিমানের সুর শুভ্রাংশুর গলায়। সেইসঙ্গে তাঁর গলায় ঝরে পড়ল শ্লেষও। সেই শ্লেষ দলেরই হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে।
এদিন তিনি বলেন, 'প্রথম দিন থেকে আমি জানিয়ে এসেছি, আমার কাছে তৃণমূলই সব। আমি তৃণমূলেই আছি, তৃণমূলেই থাকব। কিন্তু আমার সেই কথাকে মান্যতা দেয়নি দল। নানা রটনা ছড়ানো হয়েছে। আজ আমার দিকে সবাই বাঁকা চাহনিতে দেখেছে। কেউ স্বাভাবিকভাবে কথা বলেনি। একেবারেই সৌজন্যের খাতিরেই যেটুকু কথা বলা দরকার, তা বলেছে কেউ কেউ।'
গত সোমবার ধর্মতলায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের মিটিংয়ে শুভ্রাংশর অনুপস্থিতি নিয়েই যত শোরগোল। তারপর থেকেই দল তাঁকে ব্রাত্য করে রেখেছে। আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় কথা প্রসঙ্গে তাঁর নাম ব্যবহার করতেন। বলতেন, মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন, কিন্তু তাঁর ছেলেকেই তো নিয়ে যেতে পারেননি সঙ্গে। কিন্তু ধর্মতলায় সভায় গরহাজিরার পর আর এক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, বাবা-ছেলের লুকোচুরি খেলা ধরা পড়ে গিয়েছে। শুভ্রাংশুও এবার বাবার পথে পা বাড়াবেন বিজেপিতে।
কিন্তু এদিন বিধানসভায় হাজির হয়ে তিনি সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেন। অবস্থান স্পষ্ট করে মুকুল-পুত্র বলেন, 'নেতা তো দূর অস্ত, দল যদি আমাকে কর্মী হিসেবে ব্যবহার নাও করে আমি সমর্থক হয়েই থাকব তৃণমূলে।' এরপরই তিনি বর্ণনা করেন, কী অসহায় অবস্থান মধ্যে এদিন তাঁকে বিধানসভায় কাটাতে হয়েছে। পরিচিত মানুষগুলো তাঁকে কীভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন অভিমানী গলায় তাও জানিয়েছেন শুভ্রাংশু।
এদিন শুভ্রাংশু অভিযোগও করেন, 'এতদিন যাঁরা আমার বাবার কাছে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে গিয়ে নানা কথা বলতেন, তাঁরাই এখন আমার নামে নানা কথা বলছেন দলে। দল যে তাঁর প্রতি আস্থা রাখছে না, তা বুঝতে পেরেই এদিন সোজাসাপ্টা জবাব দিলেন মুকুল-পুত্র। তবে দল যদি তাঁকে সংশয়ে থাকে, তবু তিনি যে দলের প্রতি অনুগত, তা বোঝাতে খামতি রাখছে না শুভ্রাংশু।












Click it and Unblock the Notifications