মুকুল বসে পড়েছেন কাগজ-পেনসিল নিয়ে, এবার তালিকায় কারা, এখন থেকেই কপালে ভাঁজ

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপির মাথায় রাখা হয়েছে তৃণমূল ত্যাগী মুকুল রায়কে। এখন মুকুল রায়ের স্থির করা প্রার্থী তালিকায় কারা থাকবেন, তা নিয়েই চর্চা বিজেপির অন্দরে।

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপির মাথায় রাখা হয়েছে তৃণমূল ত্যাগী মুকুল রায়কে। এখন মুকুল রায়ের স্থির করা প্রার্থী তালিকায় কারা থাকবেন, তা নিয়েই চর্চা বিজেপির অন্দরে। মুকুল রায় মাথায় বসায় যেমন অনেকেই খুশিতে ডগমগ, তেমনই অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারা থাকবেন তালিকায়? অনেকের মনে যেমন এ প্রশ্ন ঘুরছে, তেমনই ঘুরছে সবকিছুই কি মুকুল রায়ের উপরেই থাকবে? নাকি অন্য কেউ এক মধ্যে নাক গলাবেন?

৪২-এ ২২ টার্গেট বিজেপির

৪২-এ ২২ টার্গেট বিজেপির

এবার বিজেপি টার্গেটে বাংলা। বাংলা থেকে ৪২-এর মধ্যে অন্তত ২২টি আসন দখল করাই লক্ষ্য বিজেপির। সেই লক্ষ্যমাত্রা রেখেই সাজানো হয়েছে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডকে। মুকুল রায়কে নির্বাচন কমিটির মাথায় রাখা হয়েছে। আর নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান হয়ে মুকুল রায় নিজে মনে করছেন বিজেপির টার্গেট অবাস্তব নয়। তিনি ঘুরিয়ে বলছেন তৃণমূল এবার ২০টি আসন দখলে রাখতে পারবে না।

মুকুলের তালিকা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে

মুকুলের তালিকা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে

মুকুল রায়ই তৈরি করবেন রাজ্যের ৪২ আসনের প্রার্থী তালিকা। প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে তিনি তা পাঠাবেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে। তারপরই চূড়ান্ত হবে প্রার্থী তালিকা। ৪২টি আসনে কারা অনুমোদন পাবে, তা স্থির করবেন মুকুল রায়-সহ কমিটির ১৫ জন। এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব।

অনেকের দুশ্চিন্তার কারণ মুকুল রায়

অনেকের দুশ্চিন্তার কারণ মুকুল রায়

মুকুল রায় তৃণমূল থেকে এসেছেন বিজেপিতে। স্বভাবতই তিনি আসার পর বিজেপিতে নতুন একটি গ্রুপের তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আড়াআড়ি ভাগ করে দিয়েছে মুকুল ও দিলীপ শিবিরকে। তবু তাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিজেপির অন্দরে আশঙ্কা কিছুতেই দূর হচ্ছে না। তাঁদের আশঙ্কা, মুকুল রায় তাঁর কাছের লোকদেরই সবার আগে ভাববেন প্রার্থী হিসেবে।

মুকুল একা নন, ১৫ জনের কমিটি

মুকুল একা নন, ১৫ জনের কমিটি

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে নির্বাচন কমিটি তৈরি করেছে, তার মাথায় মুকুল রায়কে রাখলেও রয়েছেন রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের সব মুখই। ফলে তাঁদের প্রস্তাব মুকুল রায় ফেলতে পারবেন না। সবার পছন্দকেই গুরুত্ব দিতে হবে। তাই অনেকে বুকে বল পাচ্ছেন এই ভেবে য়ে, ১৫ জনের কমিটির মিলিত সি্দ্ধান্তই তালিকা আকারে যাবে কেন্দ্রীয় মোদী-অমিত শাহের কাছে।

কী হবে দুই সাংসদের ভবিষ্যৎ

কী হবে দুই সাংসদের ভবিষ্যৎ

বর্তমানে বিজেপির দু-জন সাংসদ রয়েছেন বাংলায়। এক বাবুল সুপ্রিয়, দুই সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। এই দু-জন টিকিট পাবেন কি না তা নিয়েও চর্চা চলছে। চর্চা চলছে, তাঁরা কি নিজের কেন্দ্র থেকেই লড়তে পারবেন, নাকি তাঁদের অন্য কেন্দ্র থেকে ভাবা হবে, তা নিয়েও থাকছে প্রশ্ন। উল্লেখ্য, বাবুল সুপ্রিয় বর্তমানে আসানসোলের সাংসদ আর আলুওয়ালিয়া দার্জিলিংয়ের সাংসদ।

লোকসভায় গুরুত্ব পাবেন মুকুল

লোকসভায় গুরুত্ব পাবেন মুকুল

পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুকুল রায় ছিলেন বিজেপির কমিটির মাথায়। লোকসভাতেও তাঁকে মাথায় রেখে দল সাজিয়েছে বিজেপি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি আশাতীত ফল করেছে, তাতে মুকুল রায়ের গুরুত্ব বেড়েছে অমিত শাহদের কাছে। এবার লোকসভায় সেই কারণে মুকুল রায়ের কথার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেবেন মোদী-শাহরা।

মুকুলের উপনির্বাচন কাঁটা

মুকুলের উপনির্বাচন কাঁটা

এর আগে উপনির্বাচনে প্রার্থী খাঁড়া করতে গিয়ে মুকুল রায় বারবার ঠক্কর খেয়েছেন। তাঁর মনোনীত প্রার্থীরা শেষপর্যন্ত আমল পায়নি। দিলীপ ঘোষই শেষ হাসি হেসেছেন। বিশেষ করে নোয়াপাড়া, উলুবেড়িয়ার ভোটে মুকুল রায়ের ঠিক করা প্রার্থীরা জবরদস্ত ধাক্কা দিয়েছেন। শেষপর্যন্ত দিলীপ ঘোষই ছড়ি ঘুরিয়েছেন।

দিলীপের তত্ত্বকে সমর্থন

দিলীপের তত্ত্বকে সমর্থন

রাজ্যে তাদের টার্গেট ২২- এই তত্ত্ব প্রথম উপস্থাপন করেন দিলীপ ঘোষই। সেইমতোই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সায় দেয়। তারপর মুকুলের কাঁধে নির্বাচনের দায়িত্ব। তিনি নিজেও এখন দিলীপ ঘোষের তত্ত্বকেই সমর্থন করছেন। তৃণমূলকে ২০ কোটায় বেঁধে রাখার অঙ্কে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন মুকুল রায়। তৃণমূলকে ২০-ক কোটায় বেঁধে রাখার অর্থ বিজেপির টার্গেট ২২।

পারফরম্যান্সই মাপকাঠি

পারফরম্যান্সই মাপকাঠি

মুকুল রায় এখনও চূড়ান্ত সফল হননি বিজেপিতে নাম লেখানোর পর। তবে গত এক বথরে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জারের জায়গায় নিয়ে এসেছেন। পঞ্চায়েতের সাফল্য থেকে উপনির্বাচনগুলিতে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসাকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাফল্যের ছবি হিসেবেই দেখছে। তাই মুকুল রায়কে আর একটা অগ্নিপরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবং থেকে মহেশতলা, উলুবেড়িয়া-নোয়াপাড়াও

সবং থেকে মহেশতলা, উলুবেড়িয়া-নোয়াপাড়াও

সবং-এ বিজেপির কিছুই ছিল না। সেখানে ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় হওয়াকেই বিজেপি ইতিবাচক বলে মনে করছে। সিপিএম এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় হলেও একেবারে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। আর নিজেদের গড়ে কংগ্রেস পৌঁছে গিয়েছে একেবারে চতুর্থ স্থানে। তেমনই উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্র ও নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রেও দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উত্থান হয়েছে বিজেপির। মহেশতলায় বিজেপি ভোট বাড়িয়েছে অনেকাংশে। এখানে আবার প্রার্থী স্থির হয়েছিল একেবারে উপরমহল থেকে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+