‘পুরভোটে দাঁড়ান, আপনাকেও হারিয়ে দেব’! ‘কালীদাস’ কটাক্ষে মুকুলকে কে দিলেন এমন চ্যালেঞ্জ
৭৭ হাজার বুথে তো তাঁর লোক আছেন বলে দাবি করেছিলেন মুকুল রায়। বিধায়কের চ্যালেঞ্জ, ‘কাঁচরাপাড়ায় সাতটি বুথে এজেন্টের নাম বলুন মুকুলদা। আপনি পুরভোটে দাঁড়ান, আপনাকেও হারিয়ে দেব।’
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল রায়কে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূল বিধায়ক। সোমবার ধর্মতলা রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভা থেকে দলের প্রাক্তন সেকেন্ড ইন কম্যান্ডকে 'কালীদাস' বলে আক্রমণ করলেন ওই তৃণমূল নেতা। এমনকী তাঁকে 'গদ্দার' বলতেও কসুর করলেন না তিনি। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং এদিন বলেন, 'পুরভোটে দাঁড়িয়েও জিততে পারবেন না মুকুল রায়। চ্যালেঞ্জ দিলাম আপনাকে।'

শুধু অর্জুন সিং-ই নন, মুকুল রায়কে এদিনও নাম না করে তোপ দাগেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, 'বিজেপি এখন পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু তার আগে আন্দোলন করুন, মানুষের পাশে থাকুন, তারপর পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখুন। আর এসব 'পাগল-ছাগল' দিয়ে রাজনীতি করলে বাংলার মানুষ কোনওদিনও আপনাদের কথা শুনবে না।' তাঁর এই কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, তিনিও নিশানা করছেন মুকুল রায়কে, তবে নাম না করেই।
এদিন অর্জুন সিং সরাসরি মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, একজনও কাউন্সিলরও থাকবে না বিজেপির। বিজেপি কোনও ভোটেই জিততে পারবে না বাংলায়। ৭৭ হাজার বুথে তো তাঁর লোক আছেন বলে দাবি করেছেন মুকুল রায়। তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, 'কাঁচরাপাড়ায় সাতটি বুথে এজেন্টের নাম বলুন মুকুলদা। আপনি পুরভোটে দাঁড়ান, আপনাকেও হারিয়ে দেব।'
এদিন মুকুল রায়কে লক্ষ্য করে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দেন অর্জুন সিং। তিনি বলেন, 'আপনি ভেবেছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা আপনাকে বাঁচিয়ে নেবেন। কিন্তু জেনে রাখুন কেউ আপনাকে বাঁচাতে পারবেন না। আইন আইনের পথে চলবে। আপনি যা করেছেন, আপনাকে গদ্দার ছাড়া কি্ছু বলা যেতে পারে না। শুধু গদ্দারই নন আপনি। আপনি কালীদাসের মতো যে ডালে বসে ছিলেন, সেই ডালই কেটেছেন। আপনি দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। নেত্রীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বাংলার মানুষ আপনাকে ক্ষমা করবেন না।'
মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এদিন সরাসরি মুকুল রায়কে তোপ না দাগলেও বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে আক্রমণ শানান। তিনি স্পষ্ট করে দেন, 'মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা এত সহজ ব্যাপার নয়। মানুষের পাশে থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে তা অর্জন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আন্দোলনের ফলেই সিপিএমের অপশাসন থেকে মুক্ত হয়েছে বাংলা। আপনারা বাংলাকে বিভ্রান্ত করতে এসেছেন।'' ফিরহাদ বলেন, 'আপনারাই বলুন মানুষ কার কাছে ধর্মকথা শিখবে- মোহন ভাগবত নাকি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব।'












Click it and Unblock the Notifications