‘পাল্টে গিয়েছেন দিদি!’ দুর্নীতির বাণে মমতার দ্বিচারিতাকে নগ্ন করে ছাড়লেন মুকুল
মুকুলবাবুর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তার কিছুই পুরণ করতে পারেননি মমতা। শিল্প-কৃষি-স্বাস্থ্য সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ রাজ্যের সরকার।
পাল্টে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতায় আসার আগের মমতা ছিলেন একরকম, আর ক্ষমতা পাওয়ার পরের মমতা একেবারে অন্য। ধর্মতলায় রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের বিজেপির সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা একদা তাঁর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন মুকুল রায়।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে মুকুল রায় বলেন, 'মমতা বলেছিলেন বদলা নয় বদল চাই, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরই তা উল্টে গিয়েছে। বদলা নয় বদল চাই- স্লোগান বিশ্বাস করেছিলেন মানুষ। কিন্তু ক্ষমতায় আসতে প্রতিহংসার রাজনীতি শুরু করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।' মুকুল রায় বলেন, 'রাজ্যে বদল হয়েছে সামান্য, বদলা চলছে তার থেকে অনেক বেশি।'
মুকুলবাবুর কথায়, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তার কিছুই পুরণ করতে পারেননি মমতা। শিল্প-কৃষি-স্বাস্থ্য সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ রাজ্যের সরকার। বাংলায় চলছে শুধু সংখ্যালঘু তোষণ। মমতা বাংলায় পুলিশ রাজ চালাচ্ছেন। পুলিশ ব্যবহার করে বাংলায় বিরোধী দমন চালাচ্ছে মমতার সরকার। পুলিশকে ঋতব্রতর মামলা খতিয়ে দেখতেও বলা হয়েছে।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্য দফতরে এসেই যে ফাইল তিনি দেখিয়েছিলেন, সেই ফাইল খুলেই তিনি একে একে বাণ ছাড়েন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিশ্ববাংলা থেকে শুরু করে জাগো বাংলা, নাকতলা উদয়নের পুজোর বিজ্ঞাপন- একে একে সমস্ত দুর্নীতি ফাঁস করতে শুরু করেন মুকুল রায়।
তিনি বলেন, বিশ্ববাংলা আদতে কোনও ব্যান্ড নয়, এটি একটি কোম্পানি। এই কোম্পানির মালিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাগো বাংলা তৃণমূলের মুখপত্র হিসেবেই পরিচিত, কিন্তু আদতে তাও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি। মুকুল রায় অভিযোগ করেন তৃণমূলটাই এখন লিমিটেড কোম্পানি হয়ে গিয়েছে। তারপর নাকতলা উদয়নের পুজোর বিজ্ঞাপনেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে চিটফান্ড কর্তার ছবি তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, এই পুজো কমিটির সভাপতি মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়।
এইসব দুর্নীতি তথ্য তুলে ধরে মুকুল রায় বলেন, 'বাংলার ফের পরিবর্তন হবে। জেলায় জেলায় বিজেপিতে যোগ দিতে তৈরি। আসন্ন পঞ্চায়েতকেই তাঁর পাখির চোখ করছেন। তাই এখন আর চোখ দিয়ে জল ঝরালে হবে না, চোখ দিয়ে আগুন ঝরাতে হবে বলে কর্মীদের বার্তা দেন মুকুল রায়।
এদিন মমতার বিদেশ সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন মুকুল রায়। মুকুলবাবু বলেন, জ্যোতি বসু অপেক্ষাকৃত কম লোক নিয়ে যেতেন বিদেশ সফরে। মমতা সপার্ষদ বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। তবু রাজ্যে বিনিয়োগ আসছে না। এতদিন তৃণমূলে ছিলাম। মুখ বুজে সব সহ্য করে গিয়েছি। তৃণমূলে দমবন্ধ হয়ে আসছিল, বিজেপিতে এসে মুক্ত বাতাস পেলাম বলে মন্তব্য করেন মুকুল রায়।
মুকুল রায় এদিন সারদা নিয়েও মুখ খোলেন। তিনি বলেন সারদার বৈঠক শুধু ডেলোয় হয়নি, হয়েছে কলকাতাতেও। শিল্পী শুভাপ্রসন্নর বাড়িতেও মিটিং হয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনও। এছাড়া তিনি দাবি করেন, সুদীপ্ত সেন ১৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন অ্যাম্বুলেন্স ও মিডিয়ায়।












Click it and Unblock the Notifications