রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, হেয়ারস্ট্রিট থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের রাজভবনের কর্মীর
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। হেয়ারস্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন রাজভবনেরই এক কর্মী। আজই রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। নির্বাচনী জনসভা করবেন তিনি। তার আগেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে।
আগামীকাল রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজভবনেই তাঁর থাকার কথা। তার আগে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে রাজভবনেরই মহিলা কর্মীর এই অভিযোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও এর আগে এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসেনি। জানা গিয়েছে রাজভবনের মহিলাকর্মী পুলিশকে জানিয়েছেন আজ রাজভবনে তিনি যখন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তখনই তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়।

রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। জানা গিয়েছে রাজভবনের মহিলা কর্মী প্রথমে রাজভবনের অফিসার ইনচার্জের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তিনি রাজভবনের অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস সন্দেহজনক আচরণ করছেন। এবং বৃহস্পতিবার নাকি তাঁকে কেবিনে ডেকে অশালীন আচরণ করেন।
হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ গিয়ে অভিযোগকারীণীকে থানায় নিয়ে আসেন এবং তাঁর বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এরকম কোনও অভিযোগ প্রকাশ্যে আসেনি। কাজেই আইনত রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের পর কী করা উচিত তা স্পষ্ট নয়। তবে রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি পদক্ষেপ করা যায় না। সংবিধানে এমনই উল্লেখ আছে। সংবিধানের ৩৬১ নম্বর ধারায় এমনই উল্লেখ আছে। তবে দেওয়ানি মামলা করা যায়। কাজেই এক্ষেত্রে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আবার এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মনে করছে এক শ্রেণি। রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক খুব একটা ভাল নয়। রাজ্যের সঙ্গে একাধিক বার বিবাদ হয়েছে তাঁর। এমনকী পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে দেখা গিয়েছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সন্দেশখালিতে মহিলারা যখন শাহজাহান শেখের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছিলেন তখন সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সেখানে গ্রামের নির্যাতিতা মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের হাতে রাখি পরিয়ে দিয়েছিলেন সন্দেশখালি মহিলারা। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো।












Click it and Unblock the Notifications