ডিইএলইডি-র পরীক্ষা বাতিল করা যাবে না, শিক্ষামন্ত্রী-কে চিঠি দিয়ে জোর সওয়াল সুজন চক্রবর্তীর
১ লক্ষ ৬৯ হাজার। সংখ্যাটা চোখে কপালে তুলে দিতেই পারে। আর এই এত সংখ্যক শিক্ষক এখন চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দিন গুনছেন।
১ লক্ষ ৬৯ হাজার। সংখ্যাটা চোখে কপালে তুলে দিতেই পারে। আর এই এত সংখ্যক শিক্ষক এখন চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দিন গুনছেন। ইতিমধ্যেই এই চাকরি হারানোর আতঙ্কে এক শিক্ষকের মৃত্যুও হয়েছে। চিকিৎসা রিপোর্টে যদিও লেখা রয়েছে হেমচন্দ্র নস্কর নামে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে। কিন্তু, পরিবার থেকে বন্ধুদের দাবি, শেষ বয়সে চাকরি খোয়ানোর ভয়েই আতঙ্কে ভুগছিলেন হেমচন্দ্র নস্কর। কারণ, যে ১ লক্ষ ৬৯ হাজার শিক্ষককে ৩১ মার্চের মধ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে, তাঁদের মধ্যে হেমচন্দ্র নস্করও ছিলেন।

এই ১ লক্ষ ৬৯ হাজার শিক্ষকের জন্য এবার ময়দানে নামলেন সিপিএম বিধায়ক তথা বিধানসভায় বামেদের মুখ্য সচেতক সুজন চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার তিনি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ডিইএলইডি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তা উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন। এই চিঠিতে গোটা পরিস্থিতির উপরে সুজন চক্রবর্তী যেমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তেমনি ২০ ও ২১ ডিসেম্বরে ডিইএলইডি-র দুটো পেপারের পরীক্ষা যেভাবে বাতিল বলে এনআইওএস ঘোষণা করেছেন তার সমালোচনাও করেছেন।

চিঠিতে স্পষ্টতই সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা বলে ওই দুই তারিখের পরীক্ষা যেভাবে শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাতিল বলে এনআইওএস ঘোষণা করেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশ্ন ফাঁসের কথা বলা হলে তাহলে সারা দেশেই ওই দুই দিনের পরীক্ষা বাতিল হওয়া উচিত বলে চিঠিতে মন্তব্য করেছেন তিনি। এনআইওএস-এর এই আচরণকে বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং শিক্ষা বিরোধী বলেও সরব হয়েছেন সুজন। ২০ ও ২১ ডিসেম্বরের বাতিল দুই পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারী নেওয়ার কথা ঘোষণা করে ইতিমধ্যে অনলাইনে অ্যাডমিট কার্ডও বিলি শুরু করেছে এনআইওএস। সুজনের যুক্তি ৩ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে মিটিং আছে। স্বাভাবিকভাবে রাজ্য জুড়ে যানবাহনের একটা সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে এমন দিনে পরীক্ষা নেওয়াটা এই ১ লক্ষ ৬৯ হাজার শিক্ষককে আরও সমস্যায় ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন সুজন। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে তাঁর সেই আশঙ্কার কথাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যের ১ লক্ষ ৬৯ হাজার শিক্ষককে শিক্ষক প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট জমা করতে হবে। এই শিক্ষকদের অধিকাংশেরই বয়স ৫৫-র উপরে। কেউ কেউ ৬০ বছরও পার করেছেন। এমতাবস্থায় শেষ বয়সে চাকরি বাঁচাতে এঁরা সকলেই অনলাইনে এনআইওএস-র ডিইএলইডি-র কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। অনলাইনে ক্লাস করা থেকে শুরু করে ঘন ঘন বিভিন্ন অ্য়াসাইনমেন্ট জমা করা, স্টাডি সেন্টারে গিয়ে ক্লাস করতেও নানা মানসিক বাধা ও সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে বহু শিক্ষকেরই অনুযোগ। এমনকী, শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে ইংরাজি ভাষার প্রভাব থাকায় তাতেও ভাষাগত একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুটো পেপারের পরীক্ষা বাতিল এই শিক্ষকদের অধিকাংশকে প্রবল দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বলেই অভিযোগ শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক মইদুল ইসলামের।
৩ ঘণ্টার একটি পরীক্ষা দিতেই প্রায় কালঘাম ছুটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বহু প্রবীণ শিক্ষক। চাকরিজীবনের শেষধাপে এমনভাবে পরীক্ষা দিতে গিয়ে নানা সমস্যাও পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এঁরা। সকলেরই চিন্তা ৩১ মার্চের মধ্যে সার্টিফিকেট না পেলে কী হবে। ভাঙড়ের হেমচন্দ্র নস্করও এই চিন্তার বশবর্তী হয়ে প্রাণ খুঁইয়েছেন বলেও অভিযোগ তাঁর পরিবারের। ১৯ তারিখ ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন হেমচন্দ্র। ২০ তারিখ বাঙুর হাসপাতালের বেডে শুয়েও তিনি মেয়ের কাছে ডিইএলইডি পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা ব্যক্ত করেছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় কীভাবে অ্য়াসাইনমেন্ট এনআইওএস-এ জমা করবেন তা নিয়েও নাকি হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। ২০ তারিখ সন্ধ্যায় বেড থেকে পড়ে গিয়ে ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হন হেমচন্দ্র এবং এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে, এনআইওএস-এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ। শুক্রবার তার শুনানি আছে। এই মামলার দিকেও এখন তাকিয়ে ১ লক্ষ ৬৯ হাজার শিক্ষক।












Click it and Unblock the Notifications