পুলিশের সামনেই মাঝরাতে আরজি করে তাণ্ডব, হামলাকারী সন্দেহে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার কয়েকজন
রাস্তায় তখন বিচার চাইছেন বাংলার মানুষ, হঠাৎই হামলা শুরু আরজি করে। দলে দলে লোক ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় আরজি করের জরুরি বিভাগে। ভেঙে দেওয়া হয় আরজি করের সামনে তৈরি হওয়া মঞ্চ। দুষ্কৃতীদের হাতে ছিল ইট, লোহার রড।
রাত এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে এই হামলা চলে। জরুরি বিভাগে ইট মেরে একটি ঘড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। সেই সময় ঘড়িতে বেজে ছিল ১২.৩৭। ভাঙচুর চলার সময় প্রচুর পুলিশ এলেও, তাঁদের মব নিয়ন্ত্রণে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ওঠেছে।

তাণ্ডব শেষে আরজি করে যান পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষেপে যান। হামলায় অচৈতন্য হওয়া এক পুলিশ আধিকারিকের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকার কথাও জানান তিনি।
গভীর রাতে আরজি করে হামলার সময় সেখানে থাকা চিকিৎসকরা যে যেখানে পারেন লুকিয়ে পড়েন। রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের করা ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল। সেখানে তাঁরা বলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া তাঁদেরকে কেউ উদ্ধার করতে পারবে না।
রাতে আরজি করের মেডিসিন স্টোরেও ব্যাপক হামলা চলে। জীবনদায়ী ওষুধ ফ্রিজ থেকে বের করে ফেলে দেওয়া হয়। এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, পোড়া কিছু জিনিস পড়ে রয়েছে। সেখানে পোড়া পুলিশের পোশাকও দেখা যায়। সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে কারা আগুন ধরিয়ে ছিল? এমার্জেন্সি ওয়ার্ড কি পুরোটাই পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, সেই প্রশ্নওএ উঠছে।
হামলার সময় পুলিশ কর্মীদের গা থেকে পোশার খোলার চেষ্টা হয়েছে। একাধিক পুলিশ কর্মীকে রক্তাক্ত হতেও দেখা গিয়েছে। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে দ্বিতীয় তল পর্যন্ত ভাঙচুর চালানো হয়। যে সেমিনার হলে মহিলা চিকিৎসকের ওপরে নারকীয় অত্যাচার করা হয়েছিল, সেখানেও ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা চলে।
এই ঘটনায় সকাল পর্যন্ত নয় জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ঘটনার পরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ কমিশনারের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার দাবি করেছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা এই হামলার পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications