Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বিশ্বযুদ্ধে অগোছালো শহরের চার্চ এভাবেই সাহায্য করেছিল সৈনিকদের

বিশ্বযুদ্ধে অগোছালো শহরের চার্চ এভাবেই সাহায্য করেছিল সৈনিকদের

জাপান বিমান বাহিনীর আক্রমণের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কলকাতা। দিনটা ছিল ১৯৪২ সালের ২০ই ডিসেম্বর, যেদিন জাপানি বিমান প্রথমবার কলকাতার বুকে বোমা ফেলে। তার আগে বহুবার জাপানি বিমান আসলেও বোমা ফেলার সুযোগ পায়নি ব্রিটিশ রযাল এয়ারফোর্সের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে। জাপানি বিমান আসার মত পরিস্থিতি হলেই কলকাতা জুড়ে বাজত সাইরেন, আর সেই সাইরেন শুনে বাংকারে ঢুকে পড়তে হতো, রাতের বেলা হলে বাড়ির আলো সাথে সাথে বন্ধ করে দিতে হতো। নিভে যেত রাস্তার আলোও।

বিশ্বযুদ্ধে অগোছালো শহরের চার্চ এভাবেই সাহায্য করেছিল সৈনিকদের

পুরো ব্ল্যাকআউট করা হতো যাতে বোমারু বিমানের পাইলট আকাশ থেকে বোমা ফেলার লক্ষ্য স্থির করতে না পারে। তারপরে বোমারু বিমান চলে গেলে আবার বাজত সাইরেন তবে তার মানে ছিল "অল ক্লিয়ার", অর্থাৎ বিপদ কেটে গেছে। বারবার এইরকম ঘটনা ঘটতে ঘটতে মানুষের কাছে বিষয়টি কিছুটা গুরুত্ব হারিয়েছিল, অনেকই ভাবতেন কিছুই হবে না। তাই যেদিন সত্যিই বোমা পড়লো কলকাতার বুকে সেদিন অনেকে সাইরেন শুনেও ভেবেছিলেন প্রতিবারের মত সেবারেও কিছুই হবে না।

১৯৪৩ সালে আবার কলকাতা মুখোমুখি হয় জাপানি আক্রমণের, বোমা পড়ে খিদিরপুর বন্দরে, এক প্রবীণ পরিচিতের থেকে শুনেছিলাম যে বোমার অভিঘাতে গঙ্গার উল্টোদিকে অর্থাৎ হাওড়ার দিকেও বহু বাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে গিয়েছিল শক ওয়েভে।

যুদ্ধের সময় কলকাতায় ইংরেজ এবং আমেরিকান সৈন্যদের ভিড় অত্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। পথেঘাটে হামেশাই দেখা মিলত দলে দলে এই সব সৈন্যদের। সাদা, কলো নানারকম চেহারা তাদের। এই বর্ণনা খুব সুন্দরভাবে পাওয়া যায় শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটো গল্প "ছুরি"তে । যারা এই রোমহর্ষক গল্পটি পড়েছেন তারা জানেন সেই যুদ্ধের বাজারে কলকাতার রাস্তাঘাট কিভাবে নানারকম দেখতে সৈনিকে ভরে গিয়েছিল তার এক অসাধারণ বর্ণনা শরদিন্দু দিয়েছেন তার এই ছোটো গল্পে।

বিশ্বযুদ্ধে অগোছালো শহরের চার্চ এভাবেই সাহায্য করেছিল সৈনিকদের

এই ছোটো গল্পের মুখ্যচরিত্র মহাজনী কারবারি নগেন এক বিশালদেহী বিদেশি সৈন্যের থেকে এক ছুরি বন্দক হিসাবে নিয়ে সেই সৈন্যকে টাকা ধার দেয়, আর তারপর থেকে সেই ছুরির অলৌকিক প্রভাবে নগেনের মধ্যে জেগে ওঠে এক পাশবিক খুনি প্রবণতা আর প্রতি রাতে নগেন সেই ছুরি নিয়ে বেরিয়ে পড়তে থাকে নতুন নতুন শিকার করতে। গল্প যাই হোক, এই গল্পে শরদিন্দু দিয়েছেন সেই সময়ের কলকাতায় মহাজনী কারবার ফুলে ফেঁপে ওঠার এক অপূর্ব বর্ণনা , কারণ চারদিকে তখন শুধু অভাবী লোকের ছড়াছড়ি।

তারা তাদের শেষ সম্বলটুকুও বন্দক রেখে টাকা ধার করতে থাকে আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সময়মত টাকা না দিতে পারায় সেই জিনিসটি মহাজনের হয়ে যেত। মহাজনদের এই অফিসকে বলা হতো "লোন অফিস", আর এই সব লোন অফিসে শুধু দেশীয় মানুষরাই না, বরং নিয়মিত যেত অগণিত বিদেশি সৈন্যরাও। শরদিন্দু বলেছেন এই সব এইসব বীর যোদ্ধাদের খুদা তৃষ্ণা যখন দুর্নিবার হয়ে ওঠে তখন তারা বন্দক রাখতে পারেন না এমন কিছুই নেই। সুতরাং যুদ্ধের বাজারে এও ছিল কলকাতার এক বিচিত্র রূপ।

কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরের পাশের রাস্তার নাম সাদার স্ট্রিট। এই রাস্তা বর্তমানে এক বিশেষ কারণে বেশ বিখ্যাত। এই রাস্তায় বিদেশি পর্যটকদের জন্য আছে খুব সস্তায় থাকার হোটেল, সাথে বিদেশি মুদ্রা ভাঙ্গানোর ব্যাবস্থা, আর বেশ সস্তায় পানীয়র ব্যাবস্থাও। যে সব বিদেশি পর্যটক সস্তায় ভারত ঘুরতে এসেছেন তাদের জন্য স্বর্গরাজ্য এই রাস্তা। এই রাস্তায় বিদেশিদের আনাগোনা কিন্তু আজ থেকে নয়, বরং বহু আগে থেকেই। এই রাস্তায় আছে এক প্রাচীন চার্চ। এই চার্চের নাম "ওয়েসলিন চার্চ" ।

বিশ্বযুদ্ধে অগোছালো শহরের চার্চ এভাবেই সাহায্য করেছিল সৈনিকদের

এটি একটি মেথোডিস্ট চার্চ। প্রসঙ্গত বলি, এই "মেথডিজম" হলো খ্রিস্টান ধর্মের এমন এক ভাবনা যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয় গরীব মানুষদের সাহায্যের উপরে এবং একজন মানুষের আত্মার শুদ্ধির উপরে। ১৮ শতকে "চার্চ অফ্ ইংল্যান্ড" থেকে নিজেদের আলাদা করে নেওয়া এই মতবাদের ভিত্তি হলো "জন ওয়েসলে" নামে এক মিশনারীর জীবনদর্শন। এক কথায় এই মতবাদকে প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদের এক উপশাখা হিসাবে ভাবা যেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওই সময়ে ইংরেজ সৈন্যদের অত্যন্ত প্রিয় এক উপাসনার জায়গা ছিল এই চার্চ। এমন কি তারা নানাভাবে এই চার্চকে সাহায্যও করেছিল।

সাপ্তাহিক উপাসনারদিনে ইংরেজ সৈন্যদের ভিড় লেগে যেত এই চার্চে। চার্চ কতৃপক্ষেরও ছিল সৈন্যদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি। সেখানে সৈন্যদের বিশ্রাম নেওয়ার এক জায়গা করা হয়েছিল, সাথে দেওয়া হতো গরম চা, কফি আর সাথে থাকতো ক্লান্ত, শ্রান্ত, বহুদিন দেশছাড়া সৈন্যদের জন্য যীশুর অভয় বাণী।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+