RSS-এর কথায় বাংলায় নিষিদ্ধ দ্য কেরালা স্টোরি! মমতাকে নিশানা মহঃ সেলিমের
যাঁরা চাইছি দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তি হোক, তাঁদের পক্ষে শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন প্রাথমিকে ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল প্রসঙ্গে এমনটাই প্রতিক্রিয়া সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিমের। তিনি বলেন, এর থেকে পরিষ্কার সত্যকে ধাপা চাপা দিয়েছে এই সরকার।
তিনি বলেন, দিল্লিতে নামি দামী আইনজীবীকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে মামলাকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ন্যায় পাওয়ার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। নাম না করে ডিএ আন্দোলন প্রসঙ্গে এমনটাই মন্তব্য মহঃ সেলিমের।

সিপিআইএম রাজ্যে সম্পাদক বলেন, কালিয়াগঞ্জের ঘটনায় আমরা দেখেছি হাইকোর্ট নতুন সিট গঠন করা হয়েছে। এব্যাপারে তিনি পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী নানা তথ্য খাঁড়া করার চেষ্টা করেছিলেন কেই কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদিন নারীর সম্মানকে নষ্ট হচ্ছে।
মহঃ সেলিম বলেন, আরএসএস ও বিজেপি দাঁড়িভিটের ঘটনা থেকে ফায়দা তুলেছে। শীতলকুচি এবং সিতাইয়ের ঘটনা নিয়ে ও হিন্দু মুসলমান বিভাগের চেষ্টা করেছে তৃণমূল এবং বিজেপি অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, আনিস খানের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল নয় সরকারেরকে ব্যবহার করা হয়েছে চাকরি বিক্রি করার জন্য। একইভাবে কয়লা পাচার করার জন্য ও দলের পদ দেওয়া হল। ২০১১ সালে যাঁরা মাদ্রাসা পরীক্ষা দিয়েছে, তাঁদের ফল এখনও বেরোয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যাকে সত্যি করতে গিয়ে শিক্ষাকে সর্বনাশ করেছে এই সরকার। চিকিৎসা ক্ষেত্রে যাঁরা যোগ্য চিকিৎসক তাঁদেরকে বদলি করে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যেভাবে যোগী রাজ্যে বুলডোজার চালানো হচ্ছে, ঠিক সেই ভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের শিক্ষা সংস্কৃতি সভ্যতা কে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন।
প্রাথমিকে ৩৬ হাজার চাকরি বাতিল নিয়ে তিনি বলেন যে সরকার তো ডুগডুগি বাজাবে। যাঁদেরকে সেই সময় নিয়োগ করা হয়েছিল তাঁদের কে-কে নিয়োগ করেছে সেই প্রশ্ন করেছেন তিনি। সেলিম অভিযোগ করেন, সব জায়গায় আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের পছন্দের লোক বসিয়েছেন।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, একসময় পোস্টমর্টেম করার জন্য ভিডিও করা হত। আর এখন ৩৬ হাজার পদের দুর্নীতি নিয়ে ভিডিও করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যদি আমলারা না যুক্ত হত, তাহলে কি কুন্তল ঘোষরা এটা করতে পারত? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও তৃণমূলের সরকার চেষ্টা করছে যে গরিব ঘরের ছেলে মেয়েরা যাতে পড়াশুনা করতে না পারে। তিনি বলেন, নাড্ডা যখন এই রাজ্যের অপরাধ নিয়ে সরব হচ্ছেন তখন তিনি কেন উত্তর প্রদেশ এবং গুজরাটকে নিয়ে তথ্য প্রকাশ করছেন না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দ্য কেরালা স্টোরি নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে বলেন, এতে কোনও সমস্যার সমধান হবে না। তিনি বলেন যে যেকোনো নিষিদ্ধ করার মানে সেটা প্রচার করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করছেন তা আরএসএসের প্রোপাগান্ডা।
তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরএসএস ছাড়া আর কেউ বলেনি এই সিনেমা নিষিদ্ধ করার জন্য। তিনি প্রশ্ন করেন, গুজরাট স্টোরি কেন দেখানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, কাশ্মীর ফাইলসেও প্রোপাগান্ডা করা হয়েছে। ইতিহাসকে বিকৃতি করার অভিযোগও এদিন করেছেন মহঃ সেলিম।












Click it and Unblock the Notifications