পুনর্মিলনে ব্যর্থ আদালত, রত্নার সমঝোতা প্রস্তাবে পাল্টা হলফনামা মেয়র শোভনের
প্রস্তাব খারিজ করে পাল্টা হলফনামায় মেয়র স্পষ্ট করে দেন, তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ চান। এবং তিনি চান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে।
শোভন-রত্নার ভাঙা সংসার জোড়া লাগাতে ব্যর্থ আদালত। বিচারপতি শান্তনু মিশ্রের সমস্ত প্রয়াস জলে গেল মেয়রের পুনর্মিলন প্রস্তাব খারিজের ফলে। রত্নার সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদে অনড় মেয়র তথা মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি এদিন স্ত্রী রত্নার সমঝোতা প্রস্তাব খারিজ করে পাল্টা হলফনামা জমা দেন। হলফনামায় মেয়র স্পষ্ট করে দেন, তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ চান। এবং তিনি চান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে।

এদিন মেয়রের বিবাহ বিচ্ছেদ মামলার শুনানিতে মেয়রের আইনজীবীর কাছে বিচারপতি প্রস্তাব দেন পুনর্মিলনের। রত্নাদেবী এই সমঝোতা প্রস্তাবে সহমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, 'আমি ডিভোর্স চাই না। আমি ফের আমার সংসার জোড়া লাগাতেই চাই। কিন্তু অন্য পক্ষ থেকে যদি তা মানা না হয়, কিছুই করার থাকে না।'
মেয়রকেও ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগিয়ে পুনর্মিলনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বিচারপতির পক্ষ থেকে। তাঁর এইপ্রস্তাব বিচার-প্রক্রিয়ারই অঙ্গ। সংসার ভাঙার মামলা শুরুর আগে একবার চেতাবনী দেওয়াই নিয়ম। কিন্তু মেয়র পত্রপাঠ সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি ডিভোর্স চাই।'
সেইসঙ্গে তিনি এই মামলার রুদ্ধদ্বার শুনানির দাবি করেন। মেয়র আইনজীবী আদালতে জানান, 'আমার মক্কেল একজন জনপ্রতিনিধি। তিনি একাধারে কলকাতার মহানাগরিক, আবার রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও। তাই তাঁর সম্মানের কথা বিবেচনা করে রুদ্ধদ্বার শুনানির ব্যবস্থা করা হোক। মেয়রের তরফে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিচারপতি পরবর্তী শুনানিতে তাঁর আদেশ দেবেন বলে জানান।
এরপরই বিচ্ছেদ মামলার পরবর্তী শুনানি দিন ধার্য করে দেন বিচারপতি শান্তনু মিশ্র। আগামী ৩ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়। আপাতত শোভন-রত্নার বিচ্ছেদ মামলা এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। মোট কথা, উভয়ের সম্পর্কের মধ্যে যে পাটল তৈরি হয়েছে, তা এখনই আর জোড়া লাগার নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের বিচ্ছেদ আসন্ন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications