জল-আতঙ্ক কলকাতা পুরসভার ডায়েরিয়া আক্রান্ত এলাকায়, সাফাই দিলেন মেয়র
ডায়রিয়ার প্রকোপে জলে আতঙ্ক গ্রাস করেছে কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত যাদবপুর, পাটুলি, বৈষ্ণবঘাটার বিস্তীর্ণ এলাকায়। পুরসভার সরবরাহ করা পানীয় জল কেউ মুখেও তুলছেন না।
ডায়রিয়ার প্রকোপে জলে আতঙ্ক গ্রাস করেছে কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত যাদবপুর, পাটুলি, বৈষ্ণবঘাটার বিস্তীর্ণ এলাকায়। পুরসভার সরবরাহ করা পানীয় জল কেউ মুখেও তুলছেন না। যদিও পুরসভা জল পরীক্ষা করে কোনও সমস্যাই পায়নি। বিরোধীরা দাবি তুলছেন, শুধু পুরসভার ল্যাবের উপর ভরসা করে বসে থাকলে হবে না, স্বাস্থ্য দফতরের ল্যাবেও পাঠাতে হবে নমুনা।

অভিযোগ, পুরসভার জলে আতঙ্কের জেরে মানুষ এখন জল কিনে খাচ্ছেন। আর সেই সুযোগে চড়াদামে জল বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই চড়া দামে জল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। এদিন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, এখন পর্যন্ত পুরসভার সরবরাহকৃত পানীয় জলের ৮২টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। কোনও নমুনাতেই কোনও সংক্রমণ মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট এলাকার ১০২ নম্বরের ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর রিঙ্কু নস্কর বলেন, শুধু পরীক্ষায় কোনও সংক্রমণ মেলেনি বলেই এড়িয়ে গেলে হবে না। পরীক্ষায় কিছু না মিললেও, আগের চারদিন যে খারাপ জল এসেছে, সেটা তো অস্বীকার করা যাবে না। আর এই সংক্রমণ যদি জলের কারণে না হয়, তাহলে এত লোকের একসঙ্গে সমস্যা হবে কেন? প্রশ্নও তোলেন সিপিএম কাউন্সিলর।
মেয়র বলেন, পুরসভার তরফে সমস্তরকম প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই। তৃণমূল কাউন্সিলরা শিবির করেছেন হাসপাতালের সামনে। প্রতিটি ওয়ার্ডের হেলথ সেন্টারে বিনা পয়সায় ওআরএস দেওয়া হয়েছে। ওষুধপত্রও বিতরণ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওআরএস-ও অনেক বেশি পয়সা দিয়ে কিনতে হচ্ছে বলে। তবে সেই অভিযোগও অস্বীকার করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।
এদিন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় যুক্তি দেখান, একই পরিবারের পাঁচজনকে এই জল খাওয়ানো হয়েছে। অথচ সমস্যা হয়েছে শুধু একজনের। যদি জলেই সমস্যা থাকবে, তাহলে বাকিদেরও সংক্রমণ হওটাই স্বাভাবিক। এরপর আমরা আক্রান্তদের বাড়ির কল থেকেও পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি। কিন্তু সেই নমুনায় কিছুই মেলেনি। এরপরই পানীয় দজলের নমুনা স্বাস্থ্য দফতরের ল্যাবে পাঠানোর দাবি ওঠে।
উল্লেখ্য যাদবপুর, পাটুনি ও বৈষ্ণবঘাটা এলাকায় ডায়েরিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। হাজারেরর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়েন ডায়েরিয়ায়। তাঁদের বাঘাযতীন, টালিগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই অভিযোগ ওঠে পুরসভার পানীয় জল থেকেই এই সংক্রমণ হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications