মুকুলের পর কি শোভন! কোর কমিটির বৈঠকের পরই ইস্তফার জল্পনা তৃণমূলের অন্দরে
এতদিন যাঁকে প্রতিটি দলীয় কর্মসূচি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা যেত, সেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ই অনুপস্থিত দলের কোর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে। আর তা দেখেই জল্পনার পারদ চড়ল রাজনৈতিক মহলে।
এতদিন যিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, এতদিন যাঁকে প্রতিটি দলীয় কর্মসূচি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা যেত, সেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ই অনুপস্থিত দলের কোর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে। আর তা দেখেই জল্পনার পারদ চড়ল রাজনৈতিক মহলে। তাহলে কি মেয়র পদ থেকে সত্যিই ইস্তফা দিচ্ছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়! খোয়াতে চলেছেন মন্ত্রিত্বও!

জানা যায়, মেয়র অসুস্থ বলেই কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি। কিন্তু বিশেষ সূত্রে জানা যায় মেয়র নাকি বিকেলের পর থেকেই সুস্থ! কোর কমিটির বৈঠক শেষ হওয়ার খানিক বাদেই মেয়র কলকাতা পুরসভায় আসেন তিনি। অসুস্থতা তাহলে কি শুধু কোর কমিটির বৈঠক এড়ানোর কৌশল মাত্র! এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা যখন তুঙ্গে, তখন বিকেল নবান্নে পুর কমিশনার ও মেয়র পারিষদদের আনাগোনা অন্য মাত্রা দেয় জল্পনায়।
যাই হোক, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এ ব্যাপারে কেউই কোনও উচ্চবাচ্য করছেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় মেয়র পদ ছেড়ে দিতে চাইছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় মেয়র পদে নাম শোনা যাচ্ছে মেয়র পারিষদ সদস্য দেবাশিস কুমারের। কলকাতা পুরসভার বাজেট পেশের পর যে কোনওদিন তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে।
সম্প্রতি মেয়র পারিবারিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছেন স্ত্রী রত্নার বিরুদ্ধে। একই সময়ে দলনেত্রীর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর তা প্রকট হয়ে ওঠে মেয়রের নিরাপত্তা রাতারাতি কমিয়ে দেওয়ায়। তাঁর জেড প্লাস নিরাপত্তা এক লহমায় সাধারণ পর্যায়ে নামিয়ে ছাড়ে রাজ্য প্রশাসন। পরে অবশ্য মেয়রের কান্নাভেজা চোখ দেখে মেয়র-মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়-সহ ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসের নিরাপত্তা জেড ক্যাটাগরিতে রূপান্তরিত করা হয়।
এরপর মনে করা হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী নমনীয় হয়েছেন তাঁর স্নেহের কাননের প্রতি। কিন্তু শুক্রবারের কোর কমিটির বৈঠক ফের অন্য জল্পনার অবতারণা করে গেল। মেয়র দিনভর কলকাতা পুরসভায় থেকেও গেলেন না কোর কমিটির বৈঠকে। তারপর পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য পাঁচ সদস্যের মনিটরিং কমিটিতেও তাঁর স্থান না হওয়ায় জল্পনার পারদ আরও চড়ে যায়। রাতেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে জরুরি বৈঠক ডাকা হওয়ায় অন্য গন্ধ পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications