মাওবাদী অর্ণব গড়লেন নয়া ইতিহাস, কারাগারের অন্ধকার থেকে প্রথম ‘সেট’ পাস
আগ্নেয়াস্ত্র ছেড়ে শিক্ষাকে মূল মন্ত্র করেছিলেন মাওবাদী অর্ণব দাম। জেলের অন্ধকারে জ্বেলেছিলেন শিক্ষার আলো। সেই আলোতেই অর্ণব খুঁজে পেলেন হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে।
আগ্নেয়াস্ত্র ছেড়ে শিক্ষাকে মূল মন্ত্র করেছিলেন মাওবাদী অর্ণব দাম। জেলের অন্ধকারে জ্বেলেছিলেন শিক্ষার আলো। সেই আলোতেই অর্ণব খুঁজে পেলেন হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে। জেল থেকেই 'স্টেট এলিজিবিলিট টেস্ট' অর্থাৎ 'সেট' পাস করল অর্ণব। শুক্রবার জেল থেকে স্পিড পোস্টে বাবার কাছে রেজাল্ট পাঠানো হয়েছে। অর্ণবের সাফল্যে নতুন করে বুকে বল পেয়েছে পুরো পরিবার।

প্রেসিডেন্সি জেলে বসে মাওবাদী অর্ণব দাম নতুন লড়াই শুরু করেছিলেন। সেই লড়াইয়ে তৈরি হল ইতিহাস। সেট-এর পর নেটও দিতে চেয়েছিলেন অর্ণব। তা হয়নি। অর্ণব সেট পাস করার পর গবেষণা করার ইচ্ছাপ্রকাস করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে এপিডিআরের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানাো হয়েছে।
এপিডিআরের পক্ষ থেকে ফের রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, অর্ণবকে মুক্তি দেওয়া হোক। তাঁর শিক্ষাব্রতী হয়ে ওঠার স্বপ্নকে সার্থক রূপ দেওয়া হোক। এপিডিআরের পক্ষ থেকে রঞ্জিত শূর জানান, ও যাতে পছন্দের বিষয়ে গবেষণা করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা উচিত সরকারের।
২০১২ সাল থেকে অর্ণভ বন্দিদশায় রয়েছেন। নিজেকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলার প্রয়াস শুরু করেছেন বন্দিবস্থায়। একে একে বিএ, এমএ পাস করার পর, এবার 'সেট' পাস করলেন। শুধু নিজের পড়াশোনাই নয়, জেলের অন্ধকারে তিনি শিক্ষার আলো জ্বালাতে অন্য বন্দিদের লেখাপড়ায় ব্রতী করেছেন। অর্ণব জেলের ভিতরে অন্য বন্দিদের মাস্টারমশাই হয়ে উঠেছেন। হয়ে উঠেছেন বন্দিদের মাস্টারদা।
এপিডিআর-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রঞ্জিত শূর তাঁর এই ভূমিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, বছরের পর বছর বন্দিবস্থাতেও শিক্ষার প্রতি যে অনুরাগ দেখিয়ে চলেছেন অর্ণব, তা ব্যর্থ হয়নি, ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবেও না। শুধু নিজে শিক্ষিত হওয়াই নয়, অপর বন্দিদের শিক্ষিত করার কাজ করে চলেছেন তিনি। অথচ বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্সি অন্ধকারে দিন কাটছে তাঁর। তা বড়ই অমানবিক।












Click it and Unblock the Notifications