বিধানসভা নির্বাচন 2016 : আমরা তৈরি, সিপিএম-কংগ্রেস চক্রান্তের জবাব দেবে মানুষ : মমতা
কলকাতা, ৪ মার্চ : বাংলায় নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আজই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হয়েছে। বাকী চার রাজ্যে এক বা দুই দফায় ভোট হলেও এই রাজ্যে মোট ৬ দফায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসবের মাঝে এদিন আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার এক সংবাদ চ্যানেলে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্কার দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানালেন একমাত্র বাংলাতেই মূল্যবৃদ্ধি সবচেয়ে কম হয়েছে। এখনও বাংলাতে দশ টাকায় পেট ভরে খাওয়া যায়, ২০ টাকায় মাছ-ভাত খেতে পারবেন। শুধুমাত্র এই নিয়েই ভোট লড়তে পারি আমরা। এছাড়া আর কি কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা একঝলকে দেখে নিন।

সিপিএম-কংগ্রেস জোট
কংগ্রেসে থাকাকালীন আমিই প্রথম বলেছিলাম কংগ্রেস-সিপিএম তলে তলে এক। সেটা এখন সকলে বুঝতে পারছেন। এরা আসলে তরমুজের মতো। বাইরে সবুজ ভিতরে লাল। এটা জোট নয় ঘোঁট। নিজেদের বাঁচাতে এই জোট হচ্ছে। সিপিএমের কাছে নিজেদের অস্বিত্ব বিকিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। কোথাও কোথাও এর সঙ্গে বিজেপিও মিলে গিয়েছে। মানুষই এর জবাব দেবে।
কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা
কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে কখনও আলোচনা হয়নি। লোকসভা ভোট নিযে এখুনি আলোচনার সময় আসেনি। তখন যা হবে দেখা যাবে। এখুনি এসব নিয়ে ভাবছি না। বাংলাকে নিয়ে ভাবতে চাই। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ২০১৯ সালে কী হবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়।
চিটফান্ড
সিপিএম আমল থেকে চিটফান্ড চলে আসছে। তখন কেউ কেন কিছু করেননি। সেই সময় তো বামফ্রন্ট সরকার ছিল। তারা কিছু করেনি কেন? মমতার মতে, চিটফান্ড নিয়ে বাংলার গায়ে কালি মাখানোর চেষ্টা চলছে। এটা বাংলার মানুষ বরদাস্ত করবে না। এর শেষ দেখেও ছাড়বেন বলে কার্যত হুমকি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ক্লাব খয়রাতি
ক্লাবকে টাকা দিলে অসুবিধার কি আছে? গরিব ক্লাবগুলিকে কিছু অনুদান দিতে কতো টাকা লাগে? বাম আমলেও তো হোপ ৮৬ হয়েছিল। আসলে কাজ না থাকলে এসব অপপ্রচার চলতেই থাকবে।
বিরোধীদের উদ্দেশে মমতা
সিপিএমে এখনও কিছু ভালো লোক রয়েছেন। আবার কিছু কট্টর লোক রয়েছেন যারা এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছেন সরকারের নানা কাজে বাধা দেওয়ার। তাদের উদ্দেশে বলি, পজিটিভ, কনস্ট্রাকটিভ কাজ করুন। দয়া করে আমাদের কাজ পণ্ড করবেন না।
শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতি
ছাত্রছাত্রীরা মাথা গরম করবে না এটা আমি বিশ্বাস করি না। এটা হতেই পারে। তবে রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাক্ষেত্র আমরাও চাই।
সিঙ্গুর আইন
সরকারে এসেই সবচেয়ে প্রথমে আমি অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওযার আইন করেছি। এটা আমার কমিটমেন্ট ছিল আমি পূরণ করেছি। টাটাদের পয়সা রয়েছে ওরা উচ্চ আদালতে গিয়েছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই আমরা কোনওমতেই জোর করে জমি নেব না।
অনিচ্ছুক কৃষকদের প্রসঙ্গে
সিঙ্গুরের কৃষকদের পাশে রয়েছে সরকার। যতদিন জমি ফেরত না দিতে পারা যাচ্ছে, ততদিন মাসে মাসে আড়াই হাজার টাকা ও চাল দিযে পাশে থাকছে সরকার। মানুষের স্বার্থে জীবন দিতেও আমি প্রস্তুত।
টাটা প্রসঙ্গে
টাটাদের আমি শত্রু মনে করি না। সবার সঙ্গেই আলোচনায় বসতে রাজি আছি। আমার কারও সঙ্গে কথা বলতেই আপত্তি নেই। কিন্তু তাই বলে আমাদের জমি নীতি একই থাকবে। টাটাদের ৪০০ একর জমি ফেরত দিতে হবে। বাকী ৬০০ একরে শিল্পে আমাদের আপত্তি নেই। সরকার অন্য প্যাকেজ দিতে রাজি।
এসইজেড প্রসঙ্গে
স্পেশাল ইকোনমিক জোন নিয়ে আমরা প্রথম থেকেই আপত্তি করেছি। আমরা থাকাকালীন এসইজেড করব না। এটা আমাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এর বদলে শিল্পপতিরা যে সুবিধা চাইবেন আমরা দেব।
শিল্প প্রসঙ্গ
রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ডানকুনি থেকে শুরু করে কাঁচরাপাড়া থেকে শুরু করে একেরপর এক জায়গায় কারখানা করে দিয়েছি। আরও নানা জেলায় আমাদের শিল্পের কাজ চলছে। গত ৪ বছরে ৬৮ লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে। আমাদের হাতে ১ লাখ ৫ হাজার একর জমি রয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পে জোর দিচ্ছে সরকার।
মুকুল রায় প্রসঙ্গে
মুকুলকে বিরক্ত করা হচ্ছিল। বিজেপি ওকে এমন মানসিক চাপ দিয়েছিল যে ও দূরত্ব বাড়াতে বাধ্য হয়েছিল। আমাদের তরফ থেকে কোনও দূরত্ব রাড়েনি।
জিনিসের দামবৃদ্ধি
দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এটা আমার রিপোর্ট নয়, কেন্দ্রীয সরকারের রিপোর্ট। মাত্র তিন শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এত কম মূল্যবৃদ্ধি দেশের আর কোথাও হয়নি।
রাজ্যের উন্নয়ন
রাজ্যে ৫৫টি এসএনএনসিইউ, ৪০টি নতুন আইসিইউ, ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, খেলার স্টেডিয়াম, হাজার হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে। এছাড়া একাধিক প্রকল্প হয়েছে মানুষের স্বার্থে। আসলে নতুন ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসতে হবে আগামী দিনে বাংলাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এত বছরে যা হয়নি তা গত পাঁচ বছরে আমরা করেছি।
কত আসন পাবে তৃণমূল কংগ্রেস
২৯৪ টি আসনে আমরা প্রার্থী দিয়েছি। আমরা তো চাইবই সব আসনে মানুষ আমাদের আশীর্বাদ করুক। আমাদের মানুষের উপরে বিশ্বাস রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications