মমতা নিশানায় মোদী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনই অ-বিজেপি জোটের ডাক
বিরোধী দলগুলির কাছে মমতার আবেদন, বিজেপিকে মদত দেওয়া বন্ধ করুন। এটা জোট বাঁধার মাহেন্দ্রক্ষণ। বিজেপি-র বিরুদ্ধে এক জোট হতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানের দিনেও বিধানসভায় বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিরোধী দলগুলির কাছে তিনি আবেদন করেন, বিজেপিকে মদত দেওয়া বন্ধ করুন। এটা জোট বাঁধার মাহেন্দ্রক্ষণ। বিজেপি-র বিরুদ্ধে এক জোট হতে হবে। আর সেই ক্ষেত্র তৈরি করতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তাঁকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা।

সোমবার বিধানসভা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে বিধানসভায় উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিধানসভায় গিয়েই সংসদীয় বৈঠক ডাকেন। সাংসদ-বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করে সবাইকে রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী জোটের প্রার্থী মীরা কুমারকে ভোট দেওয়ার আবেদন করেন।
মমতা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মীরা কুমারকে রাষ্ট্রপতি পদে সমর্থন করেছে। বিজেপি প্রার্থী যদি জেতেন, তাঁর উপর আামাদের শ্রদ্ধা থাকবে। কিন্তু এই ভোট অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভোট, প্রতিরোধের ভোট। তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যার জোরে মানুষকে হেয় করছে বিজেপি। মানুষের কথার কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

তাঁর কথায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বলে যা নয় তাই করছে বিজেপি। আমাদের সঙ্গেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি, তা সত্ত্বেও আমরা মানুশষকেই সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। মানুষই আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। কেননা মানুষের জন্যই আজ আমরা ক্ষমতায়। যেদিন মানুষ সঙ্গে থাকবে না, সেদিন ক্ষমতাও থাকবে না।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদী সরকারের বিদেশ নীতি নিয়েও ঘোর সমালোচনা করেন। বলেন, প্রতিবেশী সমস্ত দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করে ফেলেছে বিজেপি সরকার। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে চিন, নেপাল, ভুটান- সবার সঙ্গেই সম্পর্ক খারাপ করে ফেলেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এর ফলে সম্পর্ক নেমে যাচ্ছে তলানিতে।
আর প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়ায় খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাকে। চিন, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে বাংলায়। সীমান্ত-সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বাইরের লোক ঢুকে পড়ছে রাজ্যে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি সরকারকে বিঁধে তিনি বলেন, এনআইএ, আইবি, 'র' কী করছিল? কী করে বাইরের লোক ঢুকছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংগঠনগুলির সমালেচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, দুর্গা বাহিনী তৈরির যৌক্তিকতা কী? কেন দুর্গা বাহিনী তৈরি করে তাঁদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আসলে সমান্তরাল একটা সরকার চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এভাবে দেশে অরাজকতা তৈরি করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications