21st July: মমতার বিরক্তি বাড়ালেন সামিরুল! 'আমার সিপিএমের গুন্ডা' বললেন ফিরহাদ, ফাউল অরূপ-মধুপর্ণার

21st July: একুশে জুলাই শহিদ দিবসের সমাবেশে সব পথ মেশে ধর্মতলায়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেন আগামীর দিশা। ঠিক করে দেন সামনের কয়েক মাসের কর্মসূচি।

তা সে ভোট থাকুক, আর না-ই থাকুক। এবারের সমাবেশ মঞ্চে দেখা গেল বেশ কিছু ব্যতিক্রমী ছবি। মুখ ফস্কে বেরিয়ে আসা কিছু ভুলে মঞ্চে বসেই অনেককে অনেক কষ্টে হাসিও চাপতে হলো।

21st July

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ চলাকালীন তখন বৃষ্টি পড়ছে। সঞ্চালক অরূপ বিশ্বাস এসে দলনেত্রীকে দিলেন চিরকুট। ভাষণ থামিয়ে তা পড়লেন মমতা। এরপর রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের দিকে তাকিয়ে মমতা পরিষ্কার বলেন, তিনি ইকবাল ও নজরুল ইসলামের নাম বলতে কোনও ভুল করেননি।

মমতা বক্তব্যের মধ্যে অনেক কবিতা বা গানের লাইন ছিল। সামিরুল যে মমতাকে ভুল ধরাতে চিরকুট পাঠান, তা বোঝা যায় মমতার বক্তব্যেই। এরপর তিনি বিরক্তি নিয়েই বলেন, আমি ঠিকই বলেছি। যেটা যাঁর তার নামই বলেছি। আমাকে নতুন করে শেখাবে না। এ সব গান আমার মুখস্থ। যদিও সামিরুল ঠিক ছিলেন। মমতার ভুলকে নিয়ে খোঁচা দিয়েছে বিজেপি।

ফিরহাদ হাকিম তাঁর বক্তব্যেই জানাচ্ছিলেন, হাজরা মোড় কিংবা ধর্মতলায় বিশেষ কিছু ব্যানার লাগানোর কথা। যাতে তুলে ধরা হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানা আন্দোলনের মুহূর্ত। সেই সময়ই কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়মন্ত্রী ফিরহাদ ফাউল করে বসেন। বলেন, 'আমার সিপিএমের গুন্ডা...।'

ফিরহাদ ভুল বলার পরেও নিজেকে শোধরাননি। ইন্ডিয়া জোটে থাকলেও একুশের মঞ্চে সিপিআইএম ও কংগ্রেস ছিল না। কিন্তু ববি বলে বসেন, হাজরা মোড়ে আমার সিপিএমের গুন্ডারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেরে খুলি ফাটিয়ে দিয়েছিল। আর ১ সেন্টিমিটার যদি হতো, ব্রেন টাচ করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর থাকতেন না।

রাজ্য়ের মন্ত্রী তথা দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ছিলেন সঞ্চালকের ভূমিকায়। তিনিও ভ্রান্তিবিলাসের শিকার। কোচবিহারের নবনির্বাচিত সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে বক্তৃতা করতে ডাকার আগে তাঁকে আলিপুরের সাংসদ বলেন অরূপ। ভুল শুধরে দেন জগদীশ। তাঁর পদবি-সহ গোটা নামও মসৃণভাবে বলতে পারেননি অরূপ।

ভারতের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক, বাগদা থেকে নির্বাচিত মধুপর্ণা ঠাকুরকে বক্তাদের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তিনি যে বেশ নার্ভাসই ছিলেন তা স্পষ্ট হলো তাঁর ভাষণে। ১৯৯৩ সালের একুশে জুলাই সম্পর্কে খুব বেশি হোমওয়ার্ক যে তাঁর নেই, তা স্পষ্ট।

মমতার নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ গণ্ডগোল বলে বসলেন মধুপর্ণা। তিনি বলেন, মিছিলকে ভুলভাল বুঝিয়ে গুলি চালানো হয়েছিল! জ্যোতি বসুকে আরেকটু হলে প্রাইম মিনিস্টার বলে ফেলছিলেন। যেমন তাঁর মা বিধবা বলার পর নিজেকে বিধ.. বলেই কোনওরকমে সামলালেন।

মধুপর্ণা এরপর 'আমার মেয়ে', বড়দির ছেলেকে শান্তনু ঠাকুর ৭ এপ্রিল বের করে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন মধুপর্ণা। অবিবাহিত মধুপর্ণা নার্ভাসনেসে তখন ঘেঁটে ঘ! অনেকেই তখন প্রশ্ন করছেন, বিয়ে হয়নি, মেয়ে কোত্থেকে এলো। আজানের সময় মধুপর্ণাকে গিয়ে থামালেন অরূপ বিশ্বাস।

আজান শেষে ফের ডায়াসে উঠে মধুপর্ণা বলেন, আমার প্রিয় দাদা শান্তনু ঠাকুরকে বলব তাঁর ডায়াবেটিস। এত স্ট্রেস নিতে পারছেন না। সব বোনকে দিয়ে দিন। সামনের লোকসভা ভোটে আপনার জন্য বোন বাংলায় ঘুরবে। উনি ঘরে বসে থাকুন। সম্ভবত মতুয়া সংগঠনের শীর্ষপদের কথাই মধুপর্ণা বলতে চেয়েছেন। কিন্তু ভোটে দাদার জন্য বোনের ঘোরা, সেই ঘেঁটে ঘ কেস!

আজ মঞ্চে বলার সুযোগ পেলেন ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক দুলাল মুর্মু। যদিও সাংসদ তথা লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তৃণমূলের যুব কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ সায়নী ঘোষকে বক্তাদের তালিকায় রাখা হয়নি।

মঞ্চে ভাষণ যতক্ষণ হলো, তার কাছাকাছি সময় ধরে চলেছে গান। তৃণমূল যুব কংগ্রেস এই কর্মসূচির আয়োজন করে। একই রঙের পাঞ্জাবি পরে হাজির থাকেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। সেই ড্রেস কোড এদিন ছিল অনুপস্থিত। মমতার ভাষণের শেষের দিকে স্লোগান এবার দীর্ঘায়িত হয়নি।

বিশেষ করে জায়গার নাম ধরে আলাদা করে তিনি স্লোগান দেননি। জাতীয় সংগীত হওয়ার পরও ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে মমতার কার্যত ভাষণ দেওয়া দৃষ্টিকটু ঠেকেছে। যেমন একেবারে শেষে অখিলেশকে ডেকে তাঁর হাত ধরে মমতা জাতীয় রাজনীতিতে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অভিষেককে ডাকেননি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+