পঞ্চায়েতে ভোট-সুরক্ষায় প্ল্যান-বি প্রয়োগ, মমতার মাস্টারস্ট্রোকে মাত বিরোধীরা
পঞ্চায়েত ভোটের নিরাপত্তায় রাজ্যের পুলিশই যথেষ্ট। প্রথম থেকেই এই দাবি করে আসছিল রাজ্য। এবার হাইকোর্টের হলফনামা তলবের পর নয়া পরিকল্পনা গ্রহণ করল রাজ্য।
পঞ্চায়েত ভোটের নিরাপত্তায় রাজ্যের পুলিশই যথেষ্ট। প্রথম থেকেই এই দাবি করে আসছিল রাজ্য। এবার হাইকোর্টের হলফনামা তলবের পর নয়া পরিকল্পনা গ্রহণ করল রাজ্য। বিরোধীরা পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন দাবি তুলেছিল। কিন্তু রাজ্য এখনও অনড় কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করতে। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার তৈরি প্ল্যান-বি প্রয়োগ করতে। এবং তা-ই করতে চলেছে রাজ্য।

নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, একদিন পঞ্চায়েত ভোট করতে তৈরি রাজ্য সরকার। এ জন্য তারা বাহিনীর ব্যবস্থা করে ফেলেছে। প্রথমত রাজ্যের তরফে ভোটে সুরক্ষার কাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে কারা দফতরের বাহিনীকে। ইতিমধ্যে কারা দফতরের রিজার্ভ ফোর্সকে পঞ্চায়েতে ব্যবহার করার জন্য চিঠি লেখা হয়েছে।
কারা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো হবে। তবু বাহিনী পর্যাপ্ত সংখ্যায় পৌঁছবে না বলেই ধরে নিয়ে ভিন রাজ্যের বাহিনীকে ব্যবহার করতে চায় নবান্ন। সেই কারণে ভিন রাজ্যের সরকারকে চিঠি লেখা হচ্ছে। তবু কেন্দ্রের কাছে বাহিনী চাইবে না বলেই স্থির করেছে রাজ্য। এর আগেও এমন নজির আছে প্রতিবেশী রাজ্যের বাহিনীকে রাজ্যের নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিহার, ওড়িশা, ত্রিপুরা, আসামের বাহিনীকে কাজে লাগানো হতে পারে, রাজ্যের নিরাপত্তায়।
নবান্নের ব্যাখ্যা, এক দফায় ভোট করতে বাহিনী সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকা প্রয়োজন, তা তাঁরা ওয়াকিবহাল। সেই কারণেই প্রথমে তিন দফায় ভোট করতে চেয়েছিল তাঁরা। কিন্তু বিরোধীরা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় অযথা বিলম্বিত হয়েছে পঞ্চায়েত ভোট। বাধ্য হয়েই এক দফায় ভোট করতে হচ্ছে। রমজানের আগে ভোট সারতেই এই ঝুঁকি নেওয়া হয়েছে। সেজন্য তারা কারা দফতর ও ভিন রাজ্যের সহায়তা নেবে।
সাকুল্যে রাজ্যের হাতে রয়েছে ৫৮ হাজার বাহিনী। তার মধ্যে বন্দুকধারী ৪৬ হাজার আর লাঠিধারী ১২ হাজার। সাধারণ নিয়মে একটি স্পর্শকাতর বুথে দুজন বন্দুকধারী ও দুজন লাঠিধারী পুলিশ রাখা বাঞ্ছনীয়। আর কম স্পর্শকাতর বুথে দুজন বন্দুকধারী ও একজন লাঠিধারি পুলিশ। আর অন্যান্য বুথে একজন বন্দুকধারী ও একজন লাঠিধারী পুলিশ রাখতে হবে।
সেইমতোই পুলিশ বন্দোবস্ত করতে রাজ্য এই প্ল্যান বি প্রয়োগ করতে চলেছে। সেইমতোই হাইকোর্টের কাছে রিপোর্ট দাখিল করবে রাজ্য সরকার। কারা দফতরের ৩০ শতাংশ কর্মীকে ভোটের নিরাপত্তায় লাগানো হচ্ছে। সেই কারণে তাঁদের ভোটের সাত দিন আগে থেকে ছুটি বাতিল করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলকর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এই মর্মে নবান্ন জেল সুপারদের চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে আলাদা করে।












Click it and Unblock the Notifications