বিজেপি ‘হরিদাসে’র দল! মোদী-শাহদের ‘ইমার্জেন্সির ঠাকুরদাদা’ নিশানায় বিঁধলেন মমতা
কালিদাস নেই, এখন এক-একটা বড় বড় হরিদাস জন্ম নিয়েছে। মুখে হরি হরি করছে, আর মানুষ খুন করছে। বিজেপির বিভাজন ও খুনের রাজনীতিকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালিদাস নেই, এখন এক-একটা বড় বড় হরিদাস জন্ম নিয়েছে। মুখে হরি হরি করছে, আর মানুষ খুন করছে। বিজেপির বিভাজন ও খুনের রাজনীতিকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ছাত্র-যুব সমাবেশ থেকে মমতার বার্তা, সারা দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চালাচ্ছে বিজেপি।

বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে একের পর এক খুন হচ্ছে। পিটিয়ে মারছে মানুষকে। আবার এই বিজেপিই স্থির করে দিচ্ছে কে বন্যাত্রাণে সাহায্য করবে, আর কে করবে না। এই সরকার তো ইমার্জেন্সির ঠাকুরদাদা। এরা আবার ইন্দিরা গান্ধীর ইমার্জেন্সির কথা বলে।
এদিন রাজ্যে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে খুনোখুনির রাজনীতিতেও বিজেপির দিকে আঙুল তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পাহাড়ে অশান্তি লাগিয়েছিল, এখন জঙ্গলমহলে দুটো আসন পেয়ে রাজ্যে খুনোখুনি শুরু করেছে ওঁরা। জঘন্য ষড়যন্ত্র চলছে, কুৎসা চলছে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ছাত্রছাত্রীদের বার্তা দেন, ওদের ফেসবুক টুইটার পোস্ট কেউ বিশ্বাস করবেন না। ওরা সোশাল মিডিয়াকে মাধ্যম করে মিথ্যার বেসাতি করছে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিনের অনুষ্ঠান থেকে বিজেপিকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপির জল্লাদে রূপান্তরিত হয়েছে। বিজেপির আমলে দাঙ্গার দাম বেড়ে গিয়েছে। সেই কারণেই বড় বড় জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। বিজেপির আমলে সবথেকে বড় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ১৪.৭ লক্ষ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি হয়েছে। টাকার দাম কমে গিয়েছে, জীবনের দামও কমে গিয়েছে।
এদিন এনআরসি নিয়ে তিনি বিজেপিকে নিশানা করেন। বলেন, দেশে থেকে ভারতীয়দের তাড়ালে ছেড়ে কথা বলব না। অসমের পর এখানেও এনআরসি চালু করবে বলছে বিজেপি। এত সহজ নয়, এখানে বাঘের বাচ্চারা আছে। সাহস থাকলে বাংলায় এনআরসি করে দেখান, ছাত্র সমাবেশ থেকে বিজেপির উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর চরম হুঁশিয়ারি, সবার জন্মের সার্টিফিকেট চাওয়ার আগে নিজের জন্মের সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।
বিজেপি নিশানা করে তাঁর বার্তা, অটলবিহারীর মতো মানুষের আদর্শ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব। বাজপেয়ীজিকে নিয়ে যা চলছে, তা অত্যন্ত অসম্মানজনক। শুধু অটলজিকেই নয়, এঁরা অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকেও অসম্মান করেছেন। তাঁকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিজেপি। এই বিজেপিকে হটাতে হবে। ছাত্র সমাবেশ থেকেই তিনি বিজেপির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন।












Click it and Unblock the Notifications