21st July: অভিষেককে দূরে রেখে অখিলেশকে কাছে টানলেন মমতা! ভাইপোর সঙ্গে দূরত্ব বৃদ্ধির আভাস কোন দুই ক্ষেত্রে?
21st July: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি দূরত্ব বাড়ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের? প্রথমে একুশের মঞ্চ এবং তারপর মমতার ফেসবুক পোস্টে সেই ইঙ্গিত মিলেছে।
এই বিষয়টি দৃষ্টি এড়ায়নি রাজনৈতিক মহলের। মঞ্চ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, পিসি-ভাইপোর সম্পর্ক নিয়ে ফের চর্চা শুরু।

মমতার ডাকে সাড়া দিয়ে এদিন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে হাজির ছিলেন অখিলেশ যাদব। লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ভালো ফল করার জন্য অখিলেশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন মমতা। বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী কিরণময় নন্দও তখন মঞ্চে। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে বামফ্রন্ট সরকারের সময়ই ঘটেছিল ২১ জুলাইয়ের ঘটনা।
অখিলেশ যখন বিমানবন্দরে নামেন, অভিষেক তখন ধর্মতলার সমাবেশস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ প্রথমে যান কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে। মমতা শহিদ সমাবেশের মঞ্চে যান অখিলেশকে নিয়ে।
মঞ্চেই অভিষেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে অখিলেশের। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা দেখা যায়, যখন সভার শেষের দিকে অখিলেশকে ডেকে নেন মমতা। তাঁর হাত ধরে অখিলেশের প্রশংসা করেন, জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটকে বার্তাও দেন। কিন্তু সেই সময় অভিষেককে ডাকেননি মমতা!
সাংগঠনিক কাজ থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে আমেরিকায় চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন অভিষেক। তারপর যান ইউরোপে। কলকাতায় ফেরেন শুক্রবার। একুশে জুলাইয়ের সভার আগে অভিষেক শহরের বিভিন্ন প্রান্ত যেভাবে চষে বেড়ান, কর্মসূচির তদারকি করেন এবার তা করেননি।
একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে অভিষেকের নিষ্পৃহ থাকা মমতার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বৃদ্ধির জল্পনাকে জোরালো করে। একুশের মঞ্চে এবারের মতো অভিষেকের মমতার থেকে দূরে থাকা অনেকেরই চোখে লেগেছে। এমনকী সভার শেষে মমতা যে কয়েকটি ছবি দিয়ে পোস্ট করেছেন তাতে একটিও অভিষেকের ছবি নেই। ।যদিও আছে অখিলেশের ছবি।
ফেসবুক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে দেওয়া হলো:
'২১শে মানেই যুগে যুগে
ফিরে ফিরে দেখা,
২১শে মানেই শ্রাবণ বর্ষা
হৃদয়ে রক্ত লেখা।'
সর্বপ্রথম আজকের দিনে ১৩ জন বীর শহিদ-সহ রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন গণআন্দোলনে যাঁরা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের সকলকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। পাশাপাশি, আজ গুরু পূর্ণিমার পুণ্যলগ্নে সকল গুরুর চরণে আমি প্রণাম জানাই।
একুশে জুলাই বাংলার ইতিহাসে রক্ত ঝরা একদিন। আজকের দিনে আমার দলের অক্লান্ত এবং সংঘবদ্ধ সৈনিকেরা যেভাবে তিলোত্তমার রাজপথ সবুজের রঙে রাঙিয়ে তুললেন প্রতিবারে মত, তা অভাবনীয়, অকল্পনীয়। এই স্বতঃস্ফূর্ত জন-আবেগ কেবলমাত্র ভালোবাসার বদলেই পাওয়া যায়। আজ আমি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এবং চারটি বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের উপর পুনরায় ভরসা রাখার জন্য বাংলার আপামর জনতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়। মানুষের এই আশীর্বাদকে পাথেয় করে, বিনয়ী হয়ে মানুষের সেবায় লীন হতে হবে আমাদের সকলকে। যেখানে আমরা জিতেছি এবং যেখানে কাঙ্ক্ষিত জয় আসেনি, সর্বত্রই আমাদের মাথানত করে মানুষের পাশে থাকতে হবে। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের সামাজিক বন্ধু, মানুষের পাহারাদার। এই দলে বিত্তবানের জায়গা নেই, আছে বিবেকবানের জন্য স্থান। সর্বোপরি, আমাদের দলে অন্যায়, দুর্নীতির কোনো স্থান নেই।
আজ শহিদ তর্পণের দিনে আমাদের ঐতিহাসিক মঞ্চে ছিলেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি শ্রী অখিলেশ যাদব। তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমরা একত্রে আমাদের দেশমাতৃকাকে বিজেপির স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্ত করবো - এটা আমার প্রতিজ্ঞা। মনে রাখবেন, বাংলাই দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করবে।
জয় হিন্দ! জয় বাংলা!
মা-মাটি-মানুষ জিন্দাবাদ!
এর কিছু পরেই ফেসবুক পোস্ট করেন অভিষেক। সেখানে আবার দলনেত্রী মমতার কোনও ছবি নেই। অভিষেক লিখেছেন, "একুশে জুলাই মানেই আবেগ জর্জরিত এক দীপ্তিময় আলোর ছটা। আজ সারা বাংলার মানুষের বাঁধনছাড়া উল্লাস, সীমাহীন উচ্ছ্বাস এবং অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আমি এবং গোটা তৃণমূল কংগ্রেস পরিবার কৃতজ্ঞ। আমার প্রণম্য গণদেবতা আজ প্রমাণ করেছেন, বাংলার আকাশে-বাতাসে মুখরিত এবং জয়ধ্বনি কল্ললিত হচ্ছে শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের।
এই বছরের একুশে জুলাই আমাদের কাছে পুনরায় নবরূপে ধরা পড়েছে। আজকের দিনের ১৩ জন শহিদ-সহ, বিভিন্ন গণআন্দোলনে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে আমি নতমস্তকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করছি।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ প্রমাণ করেছেন, এই পবিত্র মাটিতে কোনো দুর্বৃত্তদের স্থান নেই। আগামীর লড়াইয়ে কোনো আত্মতুষ্টি নয়, মানুষের এই আশীর্বাদ-দোয়া-ভালোবাসাকে পাথেয় করে এগিয়ে যতে হবে আমাদের।
জয় বাংলা! জয় তৃণমূল!"
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা












Click it and Unblock the Notifications