Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

‘হাল ছেড়ো না বন্ধু, কণ্ঠ ছাড়ো জোরে’, একুশের সমাবেশে রাস্তায় ‘একা’ মদন

একুশের মঞ্চে নয়, মদন মিত্রের ঠাঁই হল রাস্তায়। ২০১৭-র একুশে জুলাই সেই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল। যা বাংলার রাজনীতিতে এক অন্য দৃষ্টান্ত হয়েই থাকল।

চিরদিন কারও সমান যায় না। তার জ্বলন্ত প্রমাণ মদন মিত্র। আবার একই অপরাধ করেও একজনের সাত খুন মাপ, অন্য জনকে ব্রাত্যের তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া। তারও উদাহরণ ওই মদন মিত্র। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! চিটফান্ডে অভিযুক্ত সদ্য জামিনে মুক্ত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আলো করলেন একুশের মঞ্চ, অপর অভিযুক্ত ছ-মাস আগে মুক্ত হয়েও মঞ্চে ওঠারই সুযোগ পেলেন না। তাঁর ঠাঁই হল রাস্তায়। ২০১৭-র একুশে জুলাই সেই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল। যা বাংলার রাজনীতিতে এক অন্য দৃষ্টান্ত হয়েই থাকল।

মদন নো এন্ট্রি, এক যাত্রার পৃথক ফল

মদন নো এন্ট্রি, এক যাত্রার পৃথক ফল

একুশের মঞ্চে সামনের সারিতে রোজভ্যালিকাণ্ডে অভিযুক্ত সদ্য জামিনে মুক্ত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়! কিন্তু সারদায় অভিযুক্ত মদন মিত্রের ঠাঁই হল না মঞ্চেই। দলের আর পাঁচটা সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে রাস্তাতে বসেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের সহযোদ্ধা প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রকে। এক যাত্রায় পৃথক ফলের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে রইল এবারের একুশে জুলাই। কেউ ভাবেননি এমন একটা দৃশ্য অপেক্ষা করে রয়েছে তৃণমূল-জনতার জন্য।

মদন রাস্তায়, সেলফি তুললেন কর্মীরা

মদন রাস্তায়, সেলফি তুললেন কর্মীরা

মমতার দলের একনিষ্ঠ সমর্থকরা 'দোর্দন্ডপ্রতাপ' মদন মিত্রের অবস্থা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। সবাই হতচকিত। কেউ সেলফি তুললেন। কেউ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। হয়তো মনে মনে ভাবলেন- এমনও তাহলে হয়! মঞ্চ যারই হোক- নেতারা মঞ্চে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। মদন মিত্রও নেতা। তিনিও তাই মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসার পর পা বাড়িয়েছিলেন মঞ্চের দিকে। কিন্তু মঞ্চে উঠতে যেতেই বাধা পেলেন তিনি।

চোখে জল, তবু প্রতিবাদে ‘না’ অভিমানী মদনের

চোখে জল, তবু প্রতিবাদে ‘না’ অভিমানী মদনের

তাঁর অধিকার নেই মঞ্চে দাঁড়ানোর! তবু প্রতিবাদ করেননি তিনি। দুঃখ পেয়েছিলেন। চোখে জল চলে এসেছিল তাঁর। ক্ষোভে-অভিমানে হতচকিত হয়ে বসে পড়েছিলেন রাস্তায়। তারপরই ফিরেছিল সম্বিত। সাংবাদিকদের নজর এড়াতে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মনের সেই কষ্ট চাপতে পারেননি মদন মিত্র। তাঁর চোখে-মুখে ফুটে উঠেছিল হতাশার ছাপ।

বিতর্ক ঢাকতে কণ্ঠে জোর ‘বাচীক’ মদনের

বিতর্ক ঢাকতে কণ্ঠে জোর ‘বাচীক’ মদনের

নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টার কসুর ছিল না মদন মিত্রের মধ্যে। বলেছিলেন, 'শরীরটা ক'দিন ধরেই ভালো যাচ্ছে না। হঠাৎ শরীর খারাপ লাগায় মঞ্চে উঠতে পারিনি। রাস্তায় বসে পড়েছি। নিজেকে সামলে নেওয়ার পরই অবশ্য আবার মেজাজে ফেরেন তিনি। তখন বলেন, 'রাজনৈতিক দল হল সমুদ্রের মতো। কখনও ঢেউ এসে দূরে নিয়ে চলে যায়। তারপর ফের জনতার কাঁধে ভর দিয়ে ফিরতে হয় সৈকতে। হাল ছেড়ো না বন্ধু কন্ঠ ছাড়ো জোরে।' পরক্ষণেই তিনি বলেন, 'আমি রাস্তার লোক, রাস্তাতেই থাকব। মঞ্চে আমার তো কোনও কাজ নেই।

রাস্তার লোক মদনের অভিষেক-বার্তা

রাস্তার লোক মদনের অভিষেক-বার্তা

রাস্তায় বসে তিনি এরপর নির্দ্বিধায় বললেন, ‘আজ মঞ্চে অভিষেকের অভিষেক হবে। আগামীদিনে দিল্লিতে অভিষেক হবে মমতার। আমি চিরকালই রাস্তায় থেকেছি। মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছি। তাঁদের পাশেই আছি, পাশেই থাকব।' মদন মিত্র যা-ই সাফাই দিন না কেন- এদিনের ঘটনা অন্য কিছুর আভাস দিচ্ছে! কেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে নারদ-কাণ্ডে সমস্ত অভিযুক্ত নেতা-মন্ত্রী-সাংসদরা মঞ্চ আলো করে বসে রয়েছেন, শুধু নেই মদন মিত্র! তাঁর স্থান জনতার সঙ্গে।

তবে কি মদন ব্রাত্য! কী ইঙ্গিত দিল একুশের মঞ্চ

তবে কি মদন ব্রাত্য! কী ইঙ্গিত দিল একুশের মঞ্চ

তবে কি তৃণমূল কংগ্রেসে ব্রাত্য হয়ে গেলেন তিনি? তাঁর কাছে মমতার দরজা কি তাহলে বন্ধই হয়ে গেল? এমন নানা প্রশ্ন ভিড় করেছিল একুশে জুলাই পর। গত অক্টোবরে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি দলের সঙ্গে দূরত্ব রেখেই চলছিলেন। প্রথমবার ছাড়া পাওয়ার পর দল তাঁর পাশে থাকলেও দ্বিতীয়বার মুক্তির পর দলও তার কাছ থেকে দূরে থেকেছে। তারপর অবশ্য আস্তে আস্তে তিনি মূলস্রোতে গা ভাসাচ্ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে কোর কমিটির বৈঠকেও এসেছিলেন মদন মিত্র। কিন্তু হঠাউই একুশের মঞ্চে তিনি ব্রাত্য হয়ে গেলেন। তাতেই জল্পনা বেড়ে চলল।

মুকুলের প্রস্থানে গুরুত্ব বৃদ্ধি মদনের

মুকুলের প্রস্থানে গুরুত্ব বৃদ্ধি মদনের

মুকুল রায় তৃণমূলে পিছতে থাকার পর থেকেই ফের মদন মিত্রের গুরুত্ব আবার বাড়তে থাকে। তিনি নিয়মিত আসতে শুরু করেন তৃণমূল ভবনে। তৃণমূল ভবনে মুকুলের ঘরেই তিনি বসেন এবং তৃণমূলকর্মীদের সামলানোর দায়িত্বও তুলে নেন নিজের কাঁধে। অবশ্যই তাঁর এই অধিকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিনা অনুমতিতে নিশ্চয়ই নয়। তবে তিনি এখনও পর্যন্ত ফ্রন্টফুটে আসছেন না। সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আদর্শ নেতার মতোই।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+