সিদ্ধান্ত বদল করবেন মমতা? তৃণমূল নেত্রীকে ফোন মল্লিকার্জুন খাড়গের
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ফোন করলেন কংগ্রেস নেতা, সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে। বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। সেই ফাটল মেরামতে মাঠে নামলেন কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা।
বিজেপির বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছিল। সেখানে অন্যতম বড় দল জাতীয় কংগ্রেস। এদিকে অন্যতম মুখ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার উপস্থিতি লালুপ্রসাদ যাদব, শরদ পাওয়ার সহ অন্যান্য জাতীয় নেতারা সগর্বে মান্যতা দিয়েছেন।

সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বেঁকে বসেছেন জোটে। ইন্ডিয়া জোটে তিনি আছেন। কিন্তু রাজ্যে কোনও আসন সমঝোতা চাইছেন না। বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস একাই লড়বে। তবে জাতীয় ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া জোটে দল আছে। এমনই জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই একটা বড় জট পাকিয়েছে৷
একে একে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও মমতার পথেই হাঁটার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। বিহারের নীতিশ কুমার থাকতে চাইছেন না আর। তিনি ফিরে যেতে চাইছেন এনডিএ জোটে। পাঞ্জাবে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাচ্ছে না আম আদমি পার্টি।
দুয়ারে লোকসভা নির্বাচন। আর তার আগে জোট রাজনীতিতে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা ইন্ডিয়া জোটে শোনা হয় না। তিনি অসম্মানিত হন। এদিকে বাংলায় লাগাতার অধীর চৌধুরীর তৃণমূল আক্রমণেও বিরক্ত মমতা। ফলে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের রাজনীতিতে সহযাত্রী আর হতে চাইছে না তৃণমূল।
এই পরিস্থিতিতে আসরে নেমেছেন ইন্ডিয়া জোটের চেয়ারম্যান দুঁদে রাজনীতিবিদ মল্লিকার্জুন খাড়গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করেন। কথাকে গুরুত্ব দেন। তাই খাড়গে নিজেই মমতাকে ফোন করেছেন। বৃহস্পতিবার দুজনের মধ্যে ফোনে আলাপচারিতা হয়। এমন কথা জানা গিয়েছে। জোটের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে দুজনের। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে এই খবর লেখা পর্যন্ত কিছু বলেননি৷
কংগ্রেস চাইছে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোট থেকে দূরে থাকুক। কংগ্রেসের আরেক নেতা জয়রাম রমেশ রাখঢাক না করেই জানিয়েছেন, মমতাজিকে ছাড়া জোট ভাবা যায় না। অর্থাৎ কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতার মান ভাঙানোর জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাহুল গান্ধীও বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি ভারত ন্যায় জোড়ো যাত্রা স্থগিত করেন। দিল্লিতে তিনি ফিরে যান বাংলা থেকেই। দিল্লিতে যে তাঁর ডাক পড়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিজেপির বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলই লড়তে প্রস্তুত। কিন্তু মন কষাকষি চলছে অন্দরে। এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
মল্লিকার্জুন খাড়গের ফোনে কি কিছুটা শান্ত হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সিদ্ধান্ত বদল করে জোটের সামনের সারিতে থাকবেন? জল্পনা তুঙ্গে।












Click it and Unblock the Notifications