Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বামেরা চায় মমতা বিরোধিতা, কিন্ত পক্ককেশ নেতৃত্ব কি তা পারবে?

mamata-banerjee
তৃণমূল কংগ্রেস-কে সামলাতে পশ্চিমবঙ্গের বামেরা এবার এক দলহীন বিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলতে আগ্রহী। চিন্তাভাবনাটি ইতিবাচক, কিন্তু প্রশ্নটি হল যে যেই পাল্টা আক্রমনের নেতৃত্বে থাকবে কে? পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জনপ্রিয়তার নিরিখে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার মতো কোনও নেতা বা নেত্রী আছে? আর যদি না থাকে, তবে সিঙ্গুর আন্দোলনের কায়দায়ে রাজ্য সরকারকে কোনঠাসা করার চিন্তা ফলপ্রসূ হবে কীভাবে?

সমস্যা হল পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র ভারতের বামশক্তির এখন অস্তিত্বের প্রবল সংকট। পশ্চিমবঙ্গের মতো একদা শক্ত ঘাঁটিতেও এখন পার্টির ছন্নছাড়া অবস্থা। সংগঠন এবং নেতৃত্ব, দুটি ব্যাপারেইএখন বামেরা অত্যন্ত দুর্বল এবং জাতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্য রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কীভাবে তাঁরা সামলাবেন, তার কোনও হদিস এখনও পর্যন্ত নেই। এই অবস্থায় দলহীন মঞ্চ গড়ে তুলে সেখানে বাম, কংগ্রেস এবং বিক্ষুব্ধ তৃণমুলীদের একসাথে নিয়ে মমতাদেবীর বিরুদ্ধে এক সামাজিক জোট গড়ে তোলার বিষয়তিতে জোর দিচ্ছে তাঁরা।

কিন্তু মমতা সিঙ্গুর আন্দোলনের যে রাজনৈতিক ফায়দা তুলেছিলেন, তা রাতারাতি বামেদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। কারণ, সেই আন্দোলনের একটি বিবর্তন ছিল এবং অরাজনৈতিক মহলে তাঁর একটি বড় প্রভাব পড়েছিল যা শেষ অব্দি বিরোধীদের হাতে বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে। মমতার প্রশাসন তো সেই রাস্তায়ে হাঁটেইনি কারণ তৃণমূল নেত্রী খুব ভালো করেই জানেন যে জমি বা শিল্পনীতিতে সামান্য ভুলচুক তাঁর অবস্থাও তাঁর পূর্বসুরীর মতো করে দিতে পারে। অতএব, শিল্পক্ষেত্রে নীতিহীনতার নীতি নিয়ে চলে মমতা বিরোধীদের কোনও সুযোগে দেননি তাঁকে চ্যালেঞ্জ করার। কোনও বড় কারণ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীরা একই ঘাটে জল খাবে, এমন প্রত্যাশা একটু বেশিই বটে।

আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি তৃণমূল এবং কংগ্রেস-এর মধ্যে আদায়ে কাঁচকলা সম্পর্ক হলেও শুধুমাত্র সিপিএম নামক শত্রুটিকে হঠাতে তাঁরা হাতে হাত মিলিয়েছিল এবং যেই মুহুর্তে সেই লক্ষ্যপূরণ হয়, তাঁদের জোট ভেঙ্গে পড়ে। এক্ষেত্রেও তাঁর অন্যথা হবে বলে আশা কম।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কঠিন পরীক্ষায়ে ফেলার মতো সুযোগ থাকলেও তা নেতৃত্বহীন বিরোধীরা কতটা কাজে লাগাতে পারত, সে সম্পর্কে সন্দেহ আছে। রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খোলনলচে না বদলালে নতুন কোনও দিশা দেখতে পাওয়া পরায়ে অসম্ভব। অশীতিপর বৃদ্ধদের পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তেজি রাজনীতি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্সাহ সঞ্চার করা এককথায়ে অসম্ভব। তাঁরা বড়জোর মমতাবিরোধী মিডিয়ার সামনে বাইট দিতে পারেন, তবে তাতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। সারদাকাণ্ডের মতো এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেলেও বামেরা কিছুই করতে পারল না কেন?তাই যতই তৃণমূল সরকারের উপর বাংলার মানুষের বিরক্তি আসুক নানা কারণে, তাঁদের অধিকাংশ মমতাদেবীকেই ভোট দেবেন অথবা ভোটই দেবেন না। কিন্তু কোনও নতুন দিশা এবং তাজা চিন্তাভাবনা প্রত্যক্ষ না করে তাঁরা ৩৪ বছর শাসন করে যাওয়া বামেদের কোনওভাবেই আর মহাকরণে ফিরিয়ে আনবেন না।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+