মইদুলের ময়নাতদন্তে গাফিলতির অভিযোগ, বিক্ষোভ, অবরোধে উত্তাল কলকাতা
মইদুলের ময়নাতদন্তে গাফিলতির অভিযোগ, বিক্ষোভ, অবরোধে উত্তাল কলকাতা
বাম নেতার মৃত্যু ঘিরে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। সকাল থেকেই ডিওয়াইএফআই কর্মী মইদুল আলি মিদ্যার মৃত্যু ঘিরে বাড়ছিল উত্তেজনা। কিন্তু দিনের শেষে তা চরম আকার ধারণ করল। ডিওয়াইএফআই-এসএফআইয়ের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ধন্ধুমার-কান্ড। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বাম নেতা-কর্মীদের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার একাধিক জায়গায় অবরোধ। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় মৌলালি, পুলিশ মর্গেও। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে রাস্তায় নামেন বাম শীর্ষ আধিকারিকরও।

পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ
ডিওয়াইএফআই কর্মীর মৃত্যু ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনা। কর্মী মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজ্যের একাধিক জায়গায় অবরোধ, বিক্ষোভ দেখান কর্মীরাও। বিকেলের দিকে তা মারাত্মক আকার নেয়। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বাম যুব নেতা-কর্মীরা। বামনেতাদের কর্মীদের অভিযোগ, সকাল থেকে দেহ আটকে রাখা হয়েছে। বিকেল হয়ে গেলেও ময়নাতদন্ত করে ওঠা সম্ভব হল না। পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ বাম নেতা-কর্মীদের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সকাল থেকেই উত্তেজনা, বিক্ষোভ
নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠির ঘায়ে আহত বাম যুব নেতার মৃত্যু। এই ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, আন্দোলন শুরু করেন বাম কর্মীরা। শুরু হয় অবরোধ। বেলা বাড়তেই কলকাতা থেকে জেলার সব জায়গায় শুরু হয় বিক্ষোভ। বেলা বাড়তেই এজেসি বোস রোড অবরোধ করেন বাম ছাত্র যুব নেতা-কর্মীরা। মৌলালিতে পথ অবরোধ শুরু করেন বামেরা। আর তা তুলতে গেলে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বাম যুব নেতা-কর্মীদের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন পুলিশ আধিকারিকরা। দুপক্ষের মধ্যে মারধরে ছেঁড়ে পুলিশের উর্দি। বাম ছাত্র যুব সংগঠনের অবশ্য দাবি, পুলিশ তাদের কর্মীদের লক্ষ্য করে কটূক্তি করতেই উত্তেজনা ছড়ায়।

পুলিশের লাঠির আঘাতে প্রস্রাব দিয়ে রক্ত বের হয়ে
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার নবান্ন চলো'র ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র যুব সংগঠন গুলি। পুলিশের তরফে বাম যুব কর্মীদের আটকানোর জন্য ব্যারিকেড তৈরী করে। এমনকি যথেচ্ছ লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে সেল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। আর ঐ ঘটনায় আরো অনেকের সঙ্গে গুরুতর আহত হন কোতুলপুরের মইদুল ইসলাম মিদ্যাও। প্রথমে তাকে সিপিআইএম নেতা ফুয়াদ হালিমের নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তাল।
নার্সিংহোম সূত্রে জানা যাচ্ছে, পুলিশের লাঠির আঘাতে প্রস্রাব দিয়ে রক্ত বের হয়ে যায় সেদিন। লাঠির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মইদুল ইসলাম মিদ্যা। এরপর থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

কিডনি ফেলিওর হয় মইদুল আলি মিদ্যার, দাবি ফুয়াদ হালিমের
পেশায় চিকিৎসক ও DYFI নেতা ফুয়াদ আলিম এক প্রসঙ্গে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ১৩ তারিখ সকালে জানা যায় কিডনি ফেলিওর হয়। পুলিশের লাঠির আঘাত পেশির উপর পড়ায়, পেশি ফেটে যায়। সেখান থেকে যে প্রোটিন বের হয়। তা কিডনিকে ব্লক করে দেয়।প্রথম দিন থেকে তদারকিতে ছিল। রক্ত পরীক্ষা করে জানতে পারি, সোডিয়াম নেমে গিয়েছে, পটাশিয়াম বেড়ে গিয়েছিল। ১৪ তারিখ আরও অবনতি ঘটে। রবিবার রাত্রে সামান্য ভাল হয়েছিল। কিন্তু ফুসফুসে জল জমতে শুরু করে। কিন্তু ১৫ তারিখ সকালে লড়াই শেষ করেন মইদুল ইসলাম মিদ্যা"












Click it and Unblock the Notifications