করোনা দু'বছর ধরে বদ্ধ অবস্থায় মা, আতঙ্ক কাটিয়ে খুলছে ২০০ বছরের প্রাচীন এই দুর্গাদালান
করোনা দু'বছর ধরে বদ্ধ অবস্থায় মা, আতঙ্ক কাটিয়ে খুলছে ২০০ বছরের প্রাচীন এই দুর্গাদালান
শহরের বনেদি বাড়ির পুজো গুলির মধ্যে অন্যতম সেরা লাটুবাবু ছাতুবাবুর বাড়ির দুর্গোৎসব। কিন্তু গত দুই বছর এই বনেদি বাড়ির ঠাকুর দেখতে পায়নি কোনও দর্শনার্থী। অসাধারণ দুর্গা দালান সঙ্গে খিলান এবং দুর্গামূর্তি সঙ্গে সাবেকিয়ানা। এক অনবদ্য চিত্র দেখা যায় এই বাড়িতে এলে। করোনা কালে বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এই বছর পরিবার ঠিক করেছে যে তাঁরা আবার সবার জন্য তাঁদের পুজোর ঠাকুরদালন খুলে দেবেন পুজোর সময়ে। তাঁর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

এই পরিবার জানিয়েছে যে, "আমরা আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে তিন বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই দুর্গাপূজা আমরা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। আমরা আপনাকে ছটু বাবু লাটু বাবুর দুর্গা পূজা ২০২২ এ সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। তাঁরা জানিয়েছেন, মিডিয়া চ্যানেল এবং সংবাদপত্রকে দুর্গা পূজার সময় আপনাদের উপস্থিতির সঠিক তারিখ সম্পর্কে আগাম অবহিত করার জন্য আমাদের অফিসে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে, আপনি যেকোনও ধরণের সহায়ক তথ্যের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। "
বলা হয়েছে যে, "ট্যুরিস্ট বাস সংস্থাগুলিকে আপনার উপস্থিতির সঠিক তারিখ সম্পর্কে আমাদের জানানোর জন্য আমাদের অফিসে আগাম যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে, কারণ আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচির কারণে সেই দিন নির্দিষ্ট সময়ে অষ্টমীতে সমস্ত ট্যুরিস্ট বাসে অ্যাক্সেস অস্বীকার করতে পারি। দর্শকরা আমরা আপনাকে অবহিত করতে চাই যে আমরা অষ্টমীতে শুধুমাত্র আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রোগ্রামগুলির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে প্রাঙ্গনে আপনার প্রবেশকে অস্বীকার করতে পারি। অন্য সব দিনে রাত ১১টা পর্যন্ত আপনাকে আমাদের প্রাঙ্গনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।"
২০০ বছর আগে রামদুলাল দেব যখন মারা গেলেন তখন তার সম্পত্তির অর্থমূল্য ছিল এক কোটি কুড়ি লক্ষ টাকা। তাঁর পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে ছিল। এই দুই ছেলে আশুতোষ ও প্রমথনাথ দেব - যাদেরকে আমরা জানি ছাতু বাবু ও লাটু বাবু নামে। পুরনো কলকাতার গল্প এই দুই ভাইকে বাদ দিয়ে বলা অসম্ভব। তারা বিখ্যাত হয়ে আছেন আরো একটি কারণে। বুলবুলি লড়াইয়ের জন্য । কলকাতার বাবুদের অনেক অদ্ভুত শখের মধ্যে একটি ছিল বুলবুলির লড়াই।অঢেল ঐশ্বর্যর মালিক ছাতুবাবুর ছিল খাঁটি বড় লোকের মেজাজ। বুলবুলি লড়াইয়ের প্রতি এমন ই অদম্য নেশা ছিল যে বাজি ধরে ফতুর হতেও তার আপত্তি ছিল না। ছাতু বাবু লাটুবাবুদের নিজস্ব বুলবুলি সংখ্যা নেহাত কম ছিলনা। পাখিকে দানা পানি খাইয়ে প্রচুর টাকা ব্যয় করে যুদ্ধ কৌশল শেখানো হতো। এমনকি বুলবুলি জন্ম কোষ্ঠী নিয়ম চলত বিস্তর গবেষণা।
এদের বৈঠকখানার আড্ডার বেশ খ্যাতি ছিল। বাবু কালচারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল এটি। তৎকালীন সংবাদপত্র সংবাদ প্রভাকর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তাদের বৈঠকখানা নিয়ে বেশকিছু লেখা লিখেছিলেন। ১৭৮০ সালে রামদুলাল দে এই বাড়িতে প্রথম দুর্গাপূজা শুরু করেন। পরবর্তীকালে ছাতু বাবু ও লাটুবাবু এই পুজোর ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যান। এদের প্রতিমা চালচিত্রে দেবী দুর্গার দুই সখী জয়া ও বিজয়া দেবী র দুই পাশে থাকেন। দেবী পূজিতা হন দশমহাবিদ্যার রূপে। তবে এখন আর সেই জাঁকজমকের কিছুই অবশিষ্ট নেই তবু পুজোর কয়েকটা দিন সবাই একসঙ্গে জড়ো হন। বলি হিসেবে আখ ও চাল কুমড়োর বলি হয়। দেবীকে অন্নভোগ ই দেওয়া হয়। ছাতু বাবুর ছেলে অনাথনাথ দেবের মৃত্যুর পরে তার নামাঙ্কিত ট্রাস্টের মাধ্যমে ই পুজোর যাবতীয় খরচ খরচা বহন করা হয়ে থাকে।












Click it and Unblock the Notifications