Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

শেষ হয়ে যাচ্ছে ফানুস শিল্প, বেঁচে রয়েছে এই বনেদি বাড়ির হাত ধরে

শেষ হয়ে যাচ্ছে ফানুস শিল্প, বেঁচে রয়েছে এই বনেদি বাড়ির হাত ধরে

ফানুস ওড়ানোর চলন উত্তর কলকাতায় একটা সময়ে ছিল ৷ সে দিন আজ আর নেই ৷ গুটিকয় বাড়িতে নিয়ম রক্ষের মত ফানুস ওড়ানো হয় ৷ ব্যতিক্রম মানিকতলা বাজার বা হেদুয়ার কাছে ভোলানাথ ধাম ৷ আজও কালিপুজোর দিন কয়েক ঘন্টা ধরে ফানুস ওড়ানো হয় ৷ এবার তার ৯৮তম বছর।

কার হাতে তৈরি হয় ফানুস?

কার হাতে তৈরি হয় ফানুস?

ফানুস যার হাতে তৈরি হয় সেই অজয় দত্ত বলেন, 'সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলী থেকে অতীতের নানা ঘটনা, হাসি, মজা নানা দেশীয় আন্তর্জাতিক বিষয়কে নিয়ে তৈরী হয় ফানুস ৷

শিল্প সংকটে

শিল্প সংকটে

ফানুস শিল্প সংকটে ৷ আজও যে অল্প যে ক'জন মানুষ ফানুস শিল্পকে রক্ষা করছেন, মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের একজন হেদুয়ার দত্ত বাড়ির অজয় দত্তবাবু ৷ বলা চলে উনি ফানুস শিল্পের জীবন্ত কিংবদন্তুী ৷ এ বছর ভোলানাথ ধাম'এ ফানুস ওড়ানোর ৯৮তম বর্ষ পালিত হবে ।কালীপুজোর দিন দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে উৎসব। ভোলানাথ ধামে আবার হয় বিখ্যাত দুর্গাপুজো। আর কালীপুজোতে হয় ফানুস উৎসব, যা এখন সেঞ্চুরির পথে।

কিন্তু ফানুস ওড়ানো কেন হয়?

কিন্তু ফানুস ওড়ানো কেন হয়?

ফানুস ওড়ানোর আলাদা ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায়।

বৌদ্ধদের ইতিহাস

বৌদ্ধদের ইতিহাস

পূর্ণিমাগুলোর চাইতে বেশ জাকজমকপূর্ণ একটি পূর্ণিমা। এই প্রবারনা পূর্ণিমার দিন অধিকাংশ বৌদ্ধবিহারগুলো সাজানো হয় বর্ণাঢ্য সাজে। এই দিনটি বৌদ্ধরা পালন করেন বুদ্ধপুজা এবং স্বধর্ম আলোচনার মধ্য দিয়ে। প্রবারণা পূর্ণিমার দিন বুদ্ধমূর্তির সামনে মোম-আগরবাতি জ্বালানো, প্রার্থনা আর বোধিবৃক্ষের (অশ্বথ গাছ) গোড়ায় পানি ঢালা, শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান, বুদ্ধপূজা, হাজার প্রদীপ জ্বালানোর রীতি থাকলেও এর মূল চিত্তাকর্ষক বিষয়টি হলো সন্ধ্যায় আকাশে ফানুস ওড়ানো।
কিন্তু আকাশে ফানুস উড়ানোর ইতিহাসটা কি !! রাজকুমার সিদ্ধার্থ যখন রাজ্য সংসার ত্যাগ করে মুক্তির পথের সন্ধানে বেরিয়েছিলেন তখন পথ চলতে চলতে এক সময় তিনি অনোমা নদীর তীরে এসে দাড়ান। সিদ্ধার্থ তখন নিজের রাজপোশাক, অলংকার বস্তু সব খুলে ফেলেন, এরপর নিজের মাথার চুল তলোয়ার দিয়ে কেটে হাতের মুঠোয় নিয়ে অধিষ্ঠান করলেন ," আমার এই কেটে ফেলা চুল আমি আকাশে নিক্ষেপ করবো এবং আমি জন্ম-জন্মান্তরে বুদ্ধ হওয়ার সংকল্পে সর্বপ্রকার পারমী পূরণ করে যদি এই জন্মে বুদ্ধ হতে পারি, তাহলে আমার চুল আকাশে নিক্ষেপ করা হলে আকাশে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকুক, মাটিতে আর না পড়ুক"। এই অধিষ্ঠান করে সিদ্ধার্থ তার কেটে ফেলা চুল আকাশে নিক্ষেপ করে দিলেন। সিদ্ধার্থের এই অধিষ্ঠানের কথা এবং তিনি যে ভাবী বুদ্ধ হবেন এ কথা জানতেন দেবরাজ ইন্দ্র।তাই দেবরাজ ইন্দ্র সিদ্ধার্থের নিক্ষেপ করা চুল নিজেই আকাশে ভাসিয়ে রাখলেন এবং একটি স্বর্ণের পাত্রে করে নিয়ে গেলেন তাবতিংস স্বর্গে। দেবরাজ ইন্দ্র সিদ্ধার্থের চুলগুলো নিয়ে তাবতিংস স্বর্গে একটি জাদী তৈরি করলেন এবং সেই জাদির নাম হলো চুলামনি জাদি। উল্লেখ্য সিদ্ধার্থের বুদ্ধত্ব লাভের আগেই প্রতিষ্ঠিত হয় এই চুলামনি জাদি। এই চুলামনি জাদী আজো স্বর্গের দেব ব্রম্মাগন কর্তৃক পূজিত হচ্ছে। এরপর আসা যাক সিদ্ধার্থের রাজপোশাকের কথায়। সিদ্ধার্থ যখন তার রাজপোশাক খুলে ফেললেন তখন সিদ্ধার্থের সন্ন্যাসী জীবন পালন সহায়ক অষ্ঠপরিষ্কার দান নিয়ে উপস্থিত হন ব্রম্মরাজ এবং সিদ্ধার্থের কাছ থেকে চেয়ে নেন তার মহামুল্যবান রাজপোশাক গুলো। ব্রম্মরাজ এই রাজপোশাক গুলো ব্রক্ষ্মলোকে নিয়ে যান এবং এগুলোর স্থাপনের মাধ্যমেএকটি জাদী নির্মাণ করেন। এই জাদীর নাম দুস্স জাদী।সিদ্ধার্থের বুদ্ধত্ব লাভের আগে এটিই প্রথম পরিভোগ জাদী হিসেবে ব্রম্মলোকে প্রতিষ্ঠিত যা আজো ব্রম্মাগণের দ্বারা পুজিত হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাকে স্মরন করে প্রবারনা পূর্ণিমার সন্ধ্যায় বৌদ্ধরা স্বর্গে এবং ব্রম্মলোকে স্থাপিত বুদ্ধসমতুল্য জাদীগুলোর উদ্দেশ্যে ফানুস উড়িয়ে পুজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

মিশরীয় ইতিহাস

মিশরীয় ইতিহাস

মিশরীয় এরাবিক শব্দ "ফানুস" এর অর্থ আলো/বাতি । এটি একটি গ্রীক শব্দ থেকে উদ্ভুত, যার অর্থ মোমবাতি। এটি সাধারণভাবে ফানুসকে বোঝায় যা ঐতিহাসিকভাবে মানুষের মাঝে আশার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পৃথিবীর শত আঁধারের মাঝে আলোর সঞ্চারণের প্রতীকী মাধ্যম এই ফানুস।

রমজানের সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে ফানুসের প্রথাগত ব্যবহারের সূচনা ধরা হয় ফাতিমীয় খিলাফতের সময়কালকে। ফাতিমীয় খিলাফত মূলত ছিল মিশরকেন্দ্রিক, যেখানে প্রথা ছিল- পবিত্র রমজান মাসে খলিফার কায়রোতে আগমন উদযাপনের জন্য মিশরীয় জনগণ "ফানুস" নামক বিশেষ বাতি হাতে তাকে অভিবাদন জানাবে। এখন এর ব্যবহার প্রায় সব মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে গিয়েছে।
প্রাচীনকালে ফানুস সাধারণ কুপিবাতির মতই ছিল, যাতে হয় মোম কিংবা তেল ব্যবহার করা হত। সাইরিয়াস নামক নক্ষত্রের উদয় উদযাপনের জন্য ফারাও-রা যে উৎসব পালন করত, সেই উৎসবে ব্যবহৃত মশাল থেকেই প্রকৃতপক্ষে ফানুসের উদ্ভব হয়। প্রাচীন মিশরীয়রা পাঁচ দিন ধরে "ফানুস" নামক বিশেষ মশাল দিয়ে রাস্তাগুলোকে আলোকিত করে পাঁচ ফারাও সম্রাটের জন্মদিন পালন করত।
এই বিশেষ মোমবাতি বা মশালগুলো প্রাক-খ্রিস্টীয় সময়কালেও ব্যবহৃত হত। মিশরীয় ইতিহাসবিদ আল-মাক্বরিযি (১৩৬৪-১৪৪২) তার বইয়ে লিপিবদ্ধ করেন যে, এই বাতিগুলো খ্রিস্টীয় বিভিন্ন উৎসব উদযাপনের সময় ব্যবহৃত হত।

চৈনিক ইতিহাস

চৈনিক ইতিহাস

কিন্তু ফানুস প্রথম তৈরি হয়েছিল কোথায়? ইতিহাস বলছে, ফানুস প্রথম তৈরি হয়েছিল প্রাচীন চিন সাম্রাজ্যে। পরবর্তীকালে বাণিজ্যের জন্য পর্তুগিজ বণিকরা চিনে যান, আর তাঁদের হাত ধরেই এই ফানুস পৌঁছোয় ইউরোপে এবং গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে ফানুস এবং তা তৈরির টেকনোলজি। কিন্তু চিনাদের ফানুস তৈরির কারণটা কি শুধুই মনোরঞ্জন? আজ্ঞে না! পুরোটাই ছিল প্রয়োজনের খাতিরে।
শত্রু দ্বারা পরিবৃত্ত হলে তার থেকে মুক্তির জন্য ফানুস ওড়ানো হত সাহায্যের তাগিদে। খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের চিনের বিখ্যাত যুদ্ধ বিশারদ ছিলেন জুগে লিয়াং, যাঁকে অনেকে কনমিং নামেও চেনেন। তাঁর যুদ্ধ সম্পর্কে জ্ঞান ছিল অগাধ। কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে যুদ্ধ চলবে সেটারই নির্ধারক ছিলেন লিয়াং। তাঁর দৌলতে বহু যুদ্ধক্ষেত্র থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছিল শু হান রাজবংশ। বিখ্যাত ঐতিহাসিক জোসেফ নিধাম মত প্রকাশ করেছেন, চৈনিক সাম্রাজ্যে এই ফানুসগুলো সিগনালের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হত। এই ফানুস যে লিয়াং এর মস্তিষ্কপ্রসূত সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই ফানুসকে চিনে কনমিং ল্যান্টার্ন নামেও অভিহিত করা হয়। এখনও অবশ্য বছরের নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম করে ফানুস ওড়ানোর প্রথা রয়েছে চিনে। তাইওয়ানে আবার একধাপ এগিয়ে বাৎসরিক ফানুস উৎসবেরও চল রয়েছে, অন্যদিকে থাইল্যান্ডে ফানুসের নাম খোম লোই, যার অর্থ ভাসমান লন্ঠন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+