শুভেন্দুর সুপারিশে চাকরি পাওয়া ৫৫ জন বাতিল, নিয়োগ দুর্নীতিতে চাঞ্চল্যকর দাবি কুণালের
গ্রুপ সি-তে কাদের চাকরি হয়েছিল শুভেন্দুর সুপারিশে, তারা কারা, তা জানতে নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্তের আওতায় আনা হোক শুভেন্দু অধিকারীকেও।
শুভেন্দু অধিকারীর সুপারিশে ১৫০ জনের চাকরি হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে একটি তালিকা তুলে দিয়ে তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সুপারিশে চাকরি পাওয়া ৫৫ জন বাতিল হয়েছে। কুণাল ঘোষের এই দাবিতে নিয়োগ দুর্নীতিতে চাঞ্চল্যকর মোড় আসতে চলেছে।
কুণাল এদিন দাবি করেন, নিয়োগ দুর্নীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর নামও আসছে। তাই তদন্ত করতে হবে। গ্রুপ সি-তে কাদের চাকরি হয়েছিল শুভেন্দুর সুপারিশে, তারা কারা, তা জানতে নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্তের আওতায় আনা হোক শুভেন্দু অধিকারীকেও। কুণাল ঘোষের এই দাবির পর উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।

রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতিতে একের পর এক তৃণমূল নেতার নাম জড়িয়ে যাচ্ছে। তাঁরা গ্রেফতার হচ্ছেন। বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলছে। যত তদন্ত এগোচ্চে ততই তৃণমূল নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যেই নথি দেখিয়ে কুণাল ঘোষ বোমা ফাটিয়ে দিলেন। তিনি নিশানা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে।
কুণাল ঘোষ বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সুপারিশে চাকরি হয়েছে। চাকরি বাতিলের তালিকায় তাদের মধ্যে ৫৫ জনের নাম রয়েছে, তারপরও কেন শুভেন্দু অধিকারীকে তদন্তের আওতায় আনা হবে না। নিয়োগ দুর্নীতির কিংপিন বলা হচ্ছে প্রসন্ন রায়কে। অথচ তার বাড়ি থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষের নামে দলিল পাওয়া গেল। তারপর তাঁকেও তদন্তের আওতায় আনা হল না। কেন এমন বৈপরীত্য।
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের একাধিক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, কমিটির আধিকারিকরা-সহ বহু বাঘা বাঘা নাম সামনে এসেছে। এখন আবার সংস্কৃতি জগতেরও অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে।
শুধু তো শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নয়, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। এমনকী শিক্ষাক্ষেত্রে বদলিতেও দুর্নীতি হয়েছে বলে তদন্ত প্রকাশ। দুর্নীতিক উৎস খুঁজে পেতে ইডি ও সিবিআই একের পর এক সূত্র সামনে আনছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শাসকদলের যোগ সূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীর নাম এনে চাঞ্চল্যকর মোড় আনার চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিযোগ, শুভেন্দুর নির্দেশ, শুভেন্দুর ব্যবস্থাপনায়, শুভেন্দুর সুপারিশে ১৫০ চাকরি হয়েছিল, তাহলে কেন তা খতিয়ে দেখা হবে না। সেটাও খতিয়ে দেখুন সিবিআই ও ইডি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে গ্রুপ সিতে ২০৩৭ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মোট ৮৪২ জনের নিয়োগপত্র বাতিল করা হয়েছে। কুণাল ঘোষের পাল্টা বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, হাওয়ায় ভাসিয়ে লাভ নেই। তথ্য থাকলে সঠিক জায়গায় জানান।












Click it and Unblock the Notifications