শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা তারিখ ঘোষণা কুণাল ঘোষের, কবে হবে ধামাকা, তা নিয়েই ধন্দ
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ডিসেম্বর হুঁশিয়ারির মাধ্যমে একটা সাসপেন্স তৈরি করে চলেছেন। প্রতিদিনই একটা না একটা কথা বলে একটা আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি করছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ডিসেম্বর হুঁশিয়ারির মাধ্যমে একটা সাসপেন্স তৈরি করে চলেছেন। প্রতিদিনই একটা না একটা কথা বলে একটা আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি করছেন তিনি। তেমনই সম্প্রতি তিনি বলেন, এ মাসের ১২, ১৪ ও ২১ তারিখ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তাঁর এই তারিখ নির্ধারণ নিয়ে কটাক্ষ করে পাল্টা দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

ডিসেম্বরে মাস নিয়ে কিছুদিন ধরেই নানা ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছেন শুভেন্দু। কয়েকদিন আগেই ডাযমন্ড হারবারে গিয়ে তিনি বলেন, এ মাসেই এখানে বিজয়া করতে আসব, রাজ্যের সবথেকে বড় চোর ধরা পড়বে। তারপর তারিখ নিয়ে জল্পনাকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার তার পাল্টা দিয়ে কুণাল বলেন, "আমি দেখলাম ট্রেনি জ্যোতিষী একটা তারিখ দিয়েছে। তা নিয়েই কয়েকজন জ্যোতিষীর কাছে গিয়েছিলাম।"
তৃণমূলের মুখপাত্র বলেন, প্রথমে একজন বললেন বিয়ের তারিখ৷ পরে আর এক জ্যোতিষীর কাছে গেলাম, তিনি বললেন দারুণ বা তাৎপর্য্যপূর্ণ দিন নয়। গায়ে হলুদ হতে পারে বড়জোর। তিনি বললেন, ২ জানুয়ারি ভালো দিন। কিছু একটা হতে পারে। তারিখ নিয়ে যেহেতু আলোচনা, তাই বললাম। ধামাকা হবে কি না জানি না। তবে ২ জানুয়ারি একটা ভালো দিন।
অর্থাৎ শুভেন্দু যে ১২, ১৪, ২১ ডিসেম্বর তারিখ দিয়ে তৃণমূলকে শাসাচ্ছেন, তার পাল্টা কুণাল ঘোষ বিজেপিকে শাসালেন আর একটি তারিখ দিয়ে। তিনি ২ জানুয়ারির কথা বলে শুভেন্দু অধিকারীকে কী বার্তা দিলেন তা স্পষ্ট করেননি। তবে ধরে নেওয়া যেতে পারে শুভেন্দু-গড়ে দাঁড়িয়ে অভিষেক যে দরজা খোলার বার্তা দিয়ে এসেছিলেন, সেই প্রেক্ষিতেই কোনও বার্তা দিতে পারেন।
শুভেন্দুর পাল্টা তারিখ ঘোষণা করার পর তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, দরজা খোলার ব্যাপারে অনেক আবেদন আছে। সাংসদ, বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতাদের আবেদন আছে। তবে দরজা খোলা পুরোদস্তুর অভিষেকের ব্যাপার। অভিষেক জানিয়ছেন, তিনিই এ ব্যাপারে বলতে পারবেন। আমি শুধু বললাম, ২ জানুয়ারি একটা ভালো দিন। কিন্তু ট্রেনি জ্যোতিষী যে তারিখ দিয়েছেন, তা বিয়ের দিনের উপযোগীও নয়, গায়ে হলুদ হতে পারে বড়জোর।
এদিন বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, শুভেন্দু-সুকান্তর মধ্যে ঐক্যমত দেখতে পাচ্ছি না। এক কর্মসূচিতে থাকলেই মিল হয় না। উত্তরে শক্তি ক্ষয় হয়েছে। ক্রমাগত শক্তি ক্ষয় হচ্ছে। তাই এই সব করছে। এভাবে কোনও লাভ হবে না। এই শুভেন্দুই একদিন বলতেন, যারা দুর্নীতিতে ডুবে তারা এক দেশ, এক পুলিশ করে৷ বিজেপি দেশকে টুকরো করছে। এককালে এই কথাই বলত শুভেন্দু। তাই এখন হাঁকডাক করে লাভ নেই।
এদিন বিজেপির নানা মামলা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কুণাল ঘোষ জানান, আমাদের বিচার ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সম্মান আছে। আমাকে নিজে বহু আদালতে যেতে হয়। আমরা শ্রদ্ধা করি আদালতকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হয়৷ আমাদের কাছে সেই ধোঁয়াশা আছে। মানুষ বলে, আমি আদালতে যাব। আমরা বলি, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে যাব৷ কিন্তু খুব বিস্ময়ের সঙ্গে দেখেছি, বিরোধী দলনেতা বলেন রাজাশেখর মান্থার কাছে যাব।
কুণাল ঘোষ এরপর বলেন, এটায় মনোবিদকেন্দ্রিক তদন্ত প্রয়োজন। এই সংলাপ সাধারণ হিসাবে নিচ্ছি না। এরপরেও তার অনুকূলে রায় আসছে বারবার। এই শুভেন্দু অধিকারী আইএএস ও আইপিএসদের হুমকি দিচ্ছেন। তাহলে রাজাশেখর মান্থা এটা কেন নির্দেশ দিচ্ছেন না যে, এই হুমকি দেওয়া যাবে না?












Click it and Unblock the Notifications