Kumartuli: পিসি শাশুড়িকে খুন! ট্রলিতে দেহ ভরে গঙ্গায় মেয়ের সঙ্গে ফেলতে এসেছিল মা; কুমারটুলিতে রহস্যভেদ
Kumartuli: খাস কলকাতায় ট্রলিতে বন্দি করে দেহ গঙ্গায় লোপাটের চেষ্টা। আহিরীটোলায় কুমারটুলি ঘাটে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে গেলেন দুই মহিলা। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, তারা সম্পর্কে মা ও মেয়ে। মেয়ের নাম ফাল্গুনি ঘোষ এবং তার মা আরতি ঘোষ। ধৃতরা উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের (Barasat) বাসিন্দা। জানা গিয়েছে আরও বিস্ফোরক তথ্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহটি সুমিতা ঘোষ (Sumita Ghosh) নামে এক মহিলার। সে অসমের জোরহাটের বাসিন্দা ও বিবাহবিচ্ছিন্না। মধ্যমগ্রামে ভাড়া থাকতেন তিনি। সম্পর্কে ফাল্গুনির পিসি শাশুড়ি হন সুমিতা। পারিবারিক বচসার জেরে পিসি শাশুড়িকে খুন করে ধৃত ২ মহিলা।

মধ্যমগ্রামের বাড়িতেই খুন করা হয় বলে জেরায় স্বীকার মা ও মেয়ের। এরপর মধ্যমগ্রাম থেকে একাধিক গাড়ি চড়ে তারা কুমারটুলি আসে। জেরায় ধৃত মা ও মেয়ে জানান, দেহ গঙ্গায় ফেলার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন তারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রলিব্যাগে দেহ টুকরো টুকরো করা ছিল না। বরং দেহ এমনভাবেই প্যাঁচানো ছিল যে একটা ট্রলিতেই তা ধরানো হয়। দেহের মাথাটা ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ট্রলির ভেতরেই মাথা ছিল। দেহ ও মাথায় আঘাত মিলেছে। পিসি শাশুড়িকে প্রথমে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয় বলে জেরায় জানিয়েছে মা ও মেয়ে।
পুলিশ আরও জানায়, মধ্যমগ্রামের বাড়িতে খুন করে দোলতলা মোড় পর্যন্ত ভ্যানে করে নিয়ে আসে দেহ। তারপর ট্য়াক্সি বদল করে করে কুমারটুলি আসেন তারা। তবে তাদের কাছ থেকে মিলেছে ট্রেনের টিকিটও। যদিও জেরায় স্পষ্ট করে কোনও ইঙ্গিত মিলছে না বলে দাবি পুলিশের। সোমবার বিকেলে ট্রলিব্যাগ বাড়িতে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। মা-মেয়ে সম্পর্কেও নেতিবাচক কথা বলেন স্থানীয়রা।
মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন মা ও মেয়ে। ফাল্গুনীর মৃত বাবার সরকারি চাকরি ছিল। সেই পেনশনের টাকায় সংসার চলে তাদের। জেরায় ইতিমধ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের কথা স্বীকার করেছে মা ও মেয়ে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করবেন তদন্তকারীরা। কলকাতা পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার বারাসত পুলিশ জেলার হাতে ট্রান্সফার করা হতে পারে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সাতসকালে কুমারটুলিতে ট্যাক্সিতে করে আসে ২ মহিলা। ভারী ট্রলিব্যাগ দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। ট্রলি তালাবন্দি ছিল। ট্রলিতে কুকুরের মৃতদেহ রয়েছে বলে দাবি দুই মহিলার। স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় সারমেয়র মৃতদেহ রয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা পিছু নিয়ে মহিলাদের আটক করে। ট্রলিব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ। দেখা যায় মহিলার দেহ পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে তাতে।












Click it and Unblock the Notifications