চপ-মুড়ির বাটি হাতে কলকাতায় এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের অভিনব প্রতিবাদ
কলকাতার রাজপথে দেখা গেল এক অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি। নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা SSC চাকরিপ্রার্থীরা হাতে চপ, মুড়ি ও সিঙাড়া নিয়ে এদিন প্রতীকী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। সরকারি নীতি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং নানাবিধ জটিলতার কারণে তাদের মধ্যে জমে থাকা হতাশা এই অভিনব পন্থায় প্রকাশ পেয়েছে, যা সকলকে আকৃষ্ট করেছে।
এই উদ্যোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এক আন্দোলনকারী বলেছেন, "দিদির কথায় নতমস্তক হয়ে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "সরকারের কাছে আমাদের দাবি পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা এক অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছি। আমরা চাই যেন আমাদের চাকরির অধিকার সুরক্ষিত হয়।" এই প্রতীকী বিক্ষোভে প্রার্থীরা হাতে থাকা চপ-মুড়ি ও সিঙাড়া বিক্রি করেছেন।

স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়োগ প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন। বহু মাস ধরে পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত। চাকরির অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং সরকারি দফতরে বিলম্ব সম্মিলিতভাবে প্রার্থীদের মধ্যে গভীর হতাশার জন্ম দিয়েছে। সেই হতাশার একটি সৃজনশীল বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই তারা এই চপ-মুড়ি ও সিঙাড়া বিক্রির মাধ্যমে প্রতিবাদ বেছে নিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের মতে, এই প্রতিবাদ কেবল মনোরঞ্জনমূলক নয়, বরং একটি জোরালো সামাজিক বার্তাও বহন করে। এর মধ্য দিয়ে তারা সরকারকে জানাতে চেয়েছেন যে, চাকরির অধিকার নিয়ে যেন কোনও ধরনের অবহেলা না হয়। প্রার্থীরা বলেন, "আমরা চাই প্রশাসন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বুঝুক। আমরা চাই যেন আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি প্রদান করা হয়। এই প্রতিবাদ সেই দাবি প্রকাশের একটি অভিনব উপায়।"
রাজপথে এই অভিনব প্রতিবাদ সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেকেই থেমে দাঁড়িয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমর্থন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। চপ-মুড়ি ও সিঙাড়া হাতে এসএসসি প্রার্থীদের ছবি একদিকে হাসির খোরাক জোগালেও, অন্যদিকে এটি চাকরিপ্রার্থীদের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদী বার্তা হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
SSC-এর নতুন প্রার্থীরা বিশ্বাস করেন যে, সৃজনশীল প্রতিবাদ কখনও কখনও সরকারের নজর কাড়তে বেশি সক্ষম হয়, যেখানে সাধারণ ধর্মঘট বা চিঠিপত্র প্রায়শই ব্যর্থ হয়। এই অভিনব প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সহিংসতা বা বাধার কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রার্থীরা জানিয়েছেন, "আমরা চাই এই প্রতিবাদ যেন ধর্মঘট বা রাজনৈতিক হিংসার ছাপ না ফেলে, বরং জনগণ এবং প্রশাসনের মনোযোগ আকর্ষণ করে।"












Click it and Unblock the Notifications