বাড়ির পুজোয় ব্যস্ত কোয়েল, কাসর হাতে বাড়ি মাতালেন রঞ্জিত মল্লিক
প্রতিবারের মতোই এবারও বাড়ির পুজোয় মেতে উঠলেন ভবানীপুরের মল্লিক বাড়ির সদস্যরা।
প্রতিবারের মতোই এবারও বাড়ির পুজোয় মেতে উঠলেন ভবানীপুরের মল্লিক বাড়ির সদস্যরা। আরতির পর প্রদীপ হাতে দেখা গেল বাডির মেয়ে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে। কম যান না বাবা রঞ্জিত মল্লিকও। কাসর-ঘণ্টা বাজিয়ে মাত করলেন তিনিও।

সবমিলিয়ে সপ্তমী জমজমাট মল্লিক বাড়িতে। প্রতিবারের মতোই পুজোয় ভিড় জমে যায় মল্লিক বাড়িতে। পরিবারের অনেক সদস্য দেশের বাইরে থাকেন। অনেকে ভিন রাজ্যে থাকেন। সকলে এই পুজোর সময় এক ছাদের তলায় মিলিত হন। হুল্লোড় করেন।
সারাবছর শ্যুটিং ও অন্য কাজের চাপ থাকলেও বাপ-বেটি রঞ্জিত ও কোয়েল পুজোর সময় বাড়িতেই থাকেন। সমানভাবে পুজোতে অংশগ্রহণ করেন। এবারও একই চিত্র দেখা গেল। এবছর ৯৩ বছরে পা দিল মল্লিক বাড়ির পুজো।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯২৫ সালে ভবানীপুরের মল্লিকবাড়ির দুর্গাপূজার প্রবর্তন করেছিলেন সুরেন্দ্র মাধব মল্লিক। সেই সুরেন্দ্র মাধব ছিলেন টলিউড তারকা রঞ্জিত মল্লিকের ঠাকুরদা। এখন এই পুজো রঞ্জিত মল্লিকের পুজো বলে পরিচিত। রঞ্জিত মল্লিক ও কোয়েল মল্লিক এই পরিবারের সন্তান। রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী প্রমিতা মল্লিক এই পরিবারের গৃহবধূ। নবমীর রাতে বাড়ির সদস্যদের থিয়েটার এই বাড়ির উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান।
বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের দিকে নির্মিত এই চণ্ডীমণ্ডপটি একটি দালান-মন্দির বিশেষ। সাবেকি একচালা বাংলা শৈলীর মহিষাসুরমর্দিনী প্রতিমা। ডাকের সাজের প্রতিমা হলেও আলাদা করে সোনা ও রুপোর গয়না পরানো হয়। ভবানীপুর মল্লিক বাড়ির পুজো হয় 'বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা'র মত অনুসারে।
উল্লেখ্য, বাংলার অধিকাংশ পারিবারিক পুজো এখনও প্রাচীনপন্থী গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মত অনুসারেই সম্পাদিত হয়। সেই দিক থেকে এই পরিবার ব্যতিক্রম। কাঠামো পুজো হয় জন্মাষ্টমীর দিন। প্রতিপদাদিকল্প অনুসারে পুজো হয়, তাই মহালয়ার পরের দিন থেকে আরম্ভ হয় বোধন। কোন পশুবলি হয় না। কুমারী পুজো হয়। অন্নভোগের প্রচলন নেই। পরিবর্তে চাল, ডাল, বিভিন্ন ফল ও মিষ্টান্ন এবং লুচি ভাজা দেওয়া হয় নৈবেদ্য ও ভোগ হিসেবে। বিসর্জন হয় আদিগঙ্গায়। বিজয়ার রাতে বসে পুরাতনী গানের আসর।












Click it and Unblock the Notifications