আরজি করের প্রতিবাদে রাত দখলের একবছর পার, ফের রাজপথে আমজনতা
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার এক বছর পূর্তিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য। গত বছর স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে যে ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, তার এক বছর পরেও সুবিচার না মেলায় নাগরিক সমাজ আবারও রাস্তায় প্রতিবাদে নেমেছে। এই প্রতিবাদ আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে 'রাত দখল'। সেখানে শুধু আন্দোলনকারী চিকিৎসকরাই নন, সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন। এই প্রতিবাদ কলকাতা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা এক বছর আগের আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
প্রতিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ন্যায়বিচারের দাবি। আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসকরা অভিযোগ করে আসছেন যে এই ঘটনার তদন্তে যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে। এক বছর পরেও সন্দেহভাজন অভিযুক্তরা ধরা পড়েনি এবং বিচার প্রক্রিয়া পিছিয়ে পড়েছে। এর ফলে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। 'রাত দখল' প্রতিবাদে তাই আন্দোলনকারীরা মশাল মিছিল, গান ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এই প্রতিবাদে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ। প্রতিবাদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া তামান্নার মা, আনিসের বাবা। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন যে তিনি অভয়া পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাত জেগে প্রতিবাদ করেছিলেন, আর এখন তাঁর নিজের মেয়ের জন্যও একই লড়াই লড়তে হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে তাঁর মেয়েও একজন চিকিৎসক হতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তামান্নার মায়ের কথায় উঠে আসে বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা, যা অভয়ার মায়ের যন্ত্রণার সঙ্গে মিলে যায়। একইভাবে, আনিস খান-এর বাবাও এই প্রতিবাদে যোগ দেন, যিনি তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাগুলো দেখায় যে বিচার পাওয়ার জন্য লড়াই শুধু আর জি কর-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারীরা মনে করেন, এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের অভাব সমাজে এক প্রকার অস্থিরতা তৈরি করছে। তাদের মতে, যখন প্রভাবশালীরা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, তখন বিচার পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তাদের এই 'রাত দখল' আন্দোলন শুধু একটি ঘটনার প্রতিবাদ নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক প্রশ্নচিহ্ন। এক বছর পর আবারও এই প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে মানুষ এখনও সুবিচারের আশা ছাড়েনি এবং তারা তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার।












Click it and Unblock the Notifications