RG Kar Hospital: সন্দীপ ঘোষের বাড়ির সামনে পুলিশি পাহারা, কেন বাড়তি সুরক্ষা আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষকে
আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে প্রভাবশালী বলে মন্তব্য করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। সেই মন্তব্যে কতটা সঠিক সেটা পরতে পরতে বোঝা যাচ্ছে। সন্দীপ ঘোষের বেলেঘাটার বাড়ির সামনে বসানো হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা। শুধু তাই নয় তাঁর গাড়ির পিছনে পিছনে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশের গাড়ি।
এতো অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে তাঁকে কেন এতো নিরারত্তা দিচ্ছে পুলিশ। একজন হাসপাতালের চিকিৎসক বা অধ্যক্ষকে তো পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়না। তাহলে কেন নিয়ম ভেঙে এই কাজ করা হচ্ছে। অথচ নির্যাতিতা মৃত চিকিৎসকের পরিবারকে তো কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। উল্টে তাঁদেরই তো সবচেয়ে বেশি প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের প্রতি যে সরকারের একটু বিশেষ নজর রয়েছে সেটা একাধিকবার প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার আগেও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পদ থেকে তাঁকে সরানোর জন্য পড়ুয়ারা আন্দোলন চালিয়েছিলেন। সেসময় অধ্যক্ষ পদ থেকে সরে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টারক মধ্যে আবার তাঁকে সেই পদে বহাল করা হয়। যখন তিনি ছিলেন না তখন নতুন দায়িত্বে এসেই সেই ঘরে বসতে পারেননি কেউ।
তাঁর বিরুদ্ধে হাসপাতালে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার করা থেকে শুরু করে জাল ওষুধের কারবারের অভিযোগ উঠেছে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। তিনি নাকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এপি দাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এবং সেই সুবাদেই স্বাস্থ্য দফতরে তার দাপট বেশি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, এই এসপি দাসই বরকলমে স্বাস্থ্য দফতর পরিচালনা করেন।
সন্দীপ ঘোষ নাকি খামে করে টাকা পাঠান কালীঘাটে সেকারণে তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত একটি শব্দও খরচ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সন্দীপ ঘোষ যে প্রভাবশালী সেটা প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল ঘটনার দিন থেকেই। পুরো ঘটনাটিকেই তিনি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতোবড় ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেমন। এমনকী তিনি কোনও এফআইআর পর্যন্ত দায়ের করেননি। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করেননি।
সেই সন্দীপ ঘোষ আরজি করের অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ করা হয়। তাই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করেছিল। অবিলম্বে সন্দীপ ঘোষকে ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। তারপরে ছুটিতে পাঠানো হয় তাঁকে। কিন্তু তাতেই সন্দীপ ঘোষের দাপট কমেনি। বেলেঘাটায় তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেন এই বাড়তি নিরাপত্তা সন্দীপ ঘোষকে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করছে।
ইতিমধ্যেই দুই দফায় সন্দীপ ঘোষকে ডেকে জেরা করেছে সিবিআই। গতকাল নাটকীয় ভাবে তাঁকে মাঝ রাস্তা থেকে সিজিও কমপ্লেক্সে তুলে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত জেরা করা হয় তাঁকে। তারপরে আবার সকালে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়। সেখানে তাঁর গাড়ি পৌঁছনোর সময়েও পিছলে কলকাতা পুলিশের গাড়ি ছিল বলে জানা গিয়েছে। কেন এতো চোখে চোখে রাখা হচ্ছে সন্দীপ ঘোষকে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications