Kolkata: কলকাতায় বন্ধ সমস্ত রুফটপ রেস্তোরাঁ ক্যাফে! অগ্নিকাণ্ডের জেরে বড় সিদ্ধান্ত পুরসভার
KMC Bans Rooftop Restaurants: এক বছর আগে কসবার অ্যাক্রোপলিস মলে অগ্নিকাণ্ড। তখনই বহুতলের ছাদের উপর রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য নিয়মের কড়াকড়ি এনেছিল কলকাতা পুরসভা। আর বছর পেরিয়ে এবার বড়বাজারের ঘটনা। হোটেল ঋতুরাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চলে গেল ১৪টি প্রাণ। আগুন থেকে বাঁচতে তাই কলকাতার সমস্ত রুফটপ রেস্তোরাঁ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পুরসভার। ছাদে কোনও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকেও রাখা চলবে না।
মঙ্গলবার বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টিতে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জেরে কঠোর পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম শুক্রবার সাফ জানিয়ে দেন, কলকাতা পুরসভা এলাকার কোনও রুফটপ রেস্তোরাঁ রাখা যাবে না। এছাড়াও কোনও বহুতলেরই ছাদ দখল করে কিছু করা যাবে না। এদিন পুলিশ ও দমকলের সঙ্গে বৈঠকের পরই কড়া নির্দেশিকা পুরসভার। মেয়র বলেন, "সিঁড়ির মতো ছাদও কারও একার নয়, তাই তা বিক্রি করা যাবে না।"

গত কয়েক বছরে কলকাতার অলিগলিতে রুফটপ রেস্তোরাঁর সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। খোলা ছাদের উপর থেকে গোটা শহরের ব্যস্ততাকে নিচে ফেলে স্কাইলাইন দেখতে দেখতে চা আড্ডা ও খাওয়ার জন্য বহু মানুষের পছন্দ এই রুফটপ রেস্তোরাঁ। কিন্তু তাদের জন্যই এবার দুঃসংবাদ। শুক্রবার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, "বহুতলের ছাদ বিক্রি করা যাবে না। যেকোনও বহুতলের ক্ষেত্রে ছাদ কমন প্লেস হিসেবে পরিচিত। কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং রুল অনুযায়ী ১৭০/৪ ধারায় ছাদ কেউ দখল করতে পারবেন না।"
মেয়র আরও বলেন, "আমরা ছাদ রাখি কারণ নিচে আগুন ধরলে লোক ছাদে উঠে থাকেন। ফলে দমকল ল্যাডারে ছাদ থেকে তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু এখন সেই ছাদগুলি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছাদ বিক্রির প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। রেস্তোরাঁ, ডিস্কো, হুকা বার ছাদে হচ্ছে। তাই আগুন ধরছে। কত কত কোথায় আছে তা সমীক্ষা করে ভেঙে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা বলেছি।"
প্রসঙ্গত, গত ৪ দিনে ৪টি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে গিয়েছে শহর কলকাতায়। মঙ্গলবার বড়বাজারের মেছুয়ার ঋতুরাজ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ১৪ জনের। বৃহস্পতিবার চিনার পার্কে রেঁস্তোরায় আগুন লাগে। বৃহস্পতিবারই লেকটাউনের দক্ষিণদাঁড়িতে আগুন লাগে। শুক্রবার সেক্টর ফাইভে ছাপাখানায় বিধ্বংসী আগুন লাগে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সমস্ত দফতরকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের কমিটি। সোম ও মঙ্গলে তারা বসে বৈঠর করে এব্যাপারে ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে। এদিন বেআইনি গোডাউন, গজিয়ে ওঠা বাণিজ্যিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলিকেও হুঁশিয়ারি দেন মেয়র।












Click it and Unblock the Notifications