মুখ্যমন্ত্রীর বিমান বিভ্রাট নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব হাইকোর্টের
মুখ্যমন্ত্রীর বিমান বিভ্রাট নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব হাইকোর্টের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান বিভ্রাটের ঘটনার মামলায় এবার সরাসরি কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। ২ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রেকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে এই ঘটনা নিয়ে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিল নবান্ন। সেই ঘটনার তদন্ত করছিল কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট তলব
বারবার কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিমান বিভ্রাট ঘটছে? মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে কী ব্যবস্থা করা হয়েছে এই নিয়ে কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ২ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রকে এই নিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে কেন বারবার মুখ্যমন্ত্রীর বিমানে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ এপ্রিল। তার আগে কেন্দ্রকে হাইকোর্টের কাছে রিপোর্ট দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বিমান বিভ্রাট
বিমানটি দুপুর ২টো ২৮ মিনিটে বারাণসী থেকে রওনা হয়েছিল। সেই বিমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্যমন্ত্রীর সর্বক্ষণের নিরাপত্তা আধিকারিকরা। কলকাতায় দমদম বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগেই প্রচণ্ড ঝাঁকুনি হয়। তারপরে হঠাৎই বিমানটি অনেকটা নেমে আসে। প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত নেমে আসে বিমানটি। দক্ষতার সঙ্গে পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঝাঁকুনিতে আঘাত পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তদন্তে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ
এই ঘটনার পরেই কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিিঠ পাঠানো হয়। ডিজিসিএ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তের পর কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রিপোর্টে জানায়, খারাপ আবহাওয়ার জন্য ATC-র অনুমতি নিয়েই বিমানটি নিচে নামানো হয়েছিল। কিন্তু সেই রিপোর্টে সন্তুুষ্ট হয়নি রাজ্য সরকার। এর পরেই ১০ মার্চ আইনজীবী বিপ্লব চৌধুরী কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন ২০১৬ সালেও মুখ্যমন্ত্রীর বিমানে এধরনের বিভ্রাট হয়েছিল। এবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি হল। এর নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।

এর আগেও বিমান বিভ্রাট
বারাণসী সফর থেকে ফেরার পথেই একমাত্র বিমান বিভ্রাট হয়নি। এর আগেও একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর বিমান বিভ্রাট হয়েছিল। গোয়া থেকে ফেরার পথেও একই ভাবে বিমান বিভ্রাট তৈরি হয়েছিল। সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানান, 'প্রথমবার বিমানের জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। এবার মুখোমুখি চলে এল দু'টি বিমান। বারবার কেন মুখ্যমন্ত্রীর বিমান বিপত্তি হচ্ছে, তা জানাতে হবে ডিজিসিএ-কে।' আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে অবস্থান জানানোর নির্দেশ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের। ফের ২৫ এপ্রিল এই মামলার শুনানি রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications