'এতদিন কোথায় ছিলেন?' ভর্ৎসনার পরে এসএসসির অযোগ্য প্রার্থীদের মামলা খারিজ কলকাতা হাইকোর্টে
স্কুল সার্ভিস কমিশনের তালিকাভুক্ত প্রায় ৩৫০ জন 'অযোগ্য' শিক্ষক কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানালেও তা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালত কমিশনের প্রকাশিত তালিকায় কোনও হস্তক্ষেপ করেনি এবং মামলাও খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি জানান, যেহেতু মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তাই এই মুহূর্তে ১৮০৬ জনের নথি খতিয়ে দেখা সম্ভব নয়।
আদালত মামলার আবেদনকারীদের উদ্দেশে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যখন তাদের স্কুলে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল, তখনই তাদের আইনি সমাধান খোঁজা উচিত ছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, "আপনারা (দাগী শিক্ষকরা) কি এখনও কাজ করছেন? মানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারবেন?" জবাবে দাগী শিক্ষকদের আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী জানান যে তারা আর কাজ করছেন না। তখন বিচারপতি বলেন, "তাহলে আপনারা আগে আদালতে কেন আসেননি? শেষ মুহূর্তে কেন এসেছেন? আপনারা 'দাগী' শিক্ষক। এখন পরীক্ষায় বসতে চাইছেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার।"

বিচারপতির এই মন্তব্যের জবাবে দাগী শিক্ষকদের আইনজীবী শাক্য সেন বলেন যে এই মক্কেলরা পরীক্ষার জন্য অ্যাডমিট কার্ড পেয়েছিলেন এবং হঠাৎ করে তালিকা প্রকাশ করে 'অযোগ্য' বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে কীভাবে জানবেন যে আরও কোনও তালিকা রয়েছে? বিচারপতি তখন বলেন, যখন তাদের স্কুলে যেতে বারণ করা হয়েছিল, তখনই তারা জানতেন যে তারা অযোগ্যদের তালিকায় আছেন এবং তখন কেন কমিশনের কাছে যাননি?
কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাদের ওএমআর শিট মেলেনি বা যারা র্যাঙ্ক জাম্প করেছেন, তারাও 'দাগী' এবং 'সবথেকে বড় অযোগ্য'। কমিশনও জানায় যে সিবিআই যাদের ওএমআর শিট মেলেনি বলেছে, তাদেরও তারা 'দাগী' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তারা সব 'দাগী'দের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত করছে এবং অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করেছে। এরপরও কেউ থেকে গেলে নথি যাচাইয়ের সময় তাদের বাতিল করা হবে।
দাগী শিক্ষকদের আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী বলেন, "আমাদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হোক।" এর জবাবে বিচারপতি বলেন, যাদের নিয়োগ প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর হয়েছে, প্যানেলের বাইরে থেকে হয়েছে এবং যারা খালি খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছিল, তাদের 'দাগী' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এর মানে এই নয় যে অন্য কোনো 'দাগী' শিক্ষক থাকতে পারে না, কারণ আদালতের পক্ষে প্রতিটি অনিয়ম বা বেআইনি পদক্ষেপ নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করা সম্ভব না।












Click it and Unblock the Notifications