'সৃষ্টির তরণী বেয়ে আমি'! হরিদেবপুর ৪১ পল্লী ক্লাবের এবারের আকর্ষণ
যার সৃষ্টি আছে, তার ধ্বংস আছে। আবার ধ্বংস হলেই নতুন করে সৃষ্টি হবে। তাই ধ্বংসের ভয় না পেয়ে সকলে হাতে হাত মিলিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করার অভিনব থিম নিয়ে হাজির দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুর ৪১ পল্লী ক্লাব।
যার সৃষ্টি আছে, তার ধ্বংস আছে। আবার ধ্বংস হলেই নতুন করে সৃষ্টি হবে। তাই ধ্বংসের ভয় না পেয়ে সকলে হাতে হাত মিলিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করার অভিনব থিম নিয়ে হাজির দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুর ৪১ পল্লী ক্লাব। নাম 'সৃষ্টির তরণীতে আমি'। এবছরে ৬১তম বর্ষে পদার্পণ করল এই ক্লাব।

কেন এই থিম
এখানে আমি বলতে দেবী দুর্গা কে বুঝানো হয়েছে। কেন থিম ? এর নামকরণেরই বা কী কারণ ? এর উত্তরে হরিদেবপুর ৪১ পল্লী ক্লাবের শিল্পী সুব্রত চঞ্চল দে জানান, জন্ম লগ্ন থেকেই ষড়রিপু বিরাজমান। সুন্দর ও আদর্শ জীবন গঠনের উল্লেখিত সূচকগুলো যার মধ্যে রয়েছে। সে কারণে মানুষ কোনও খারাপ কাজ করতে প্রায়শ বাধাগ্রস্থ ও প্রতিহত হয়। মানুষের এই ছ'টি ‘ষড়রিপু' অর্থাৎ মানুষের চরম ও প্রধান ছ'টি শক্র হল-কাম, ক্রোধ,লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য। এগুলো যখন অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়, তার ধ্বংস হয়। আবার তার থেকে বেরিয়ে সৃষ্টির পথ রয়েছে। যে পথ দেখান মাতৃ রূপে দেবী দুর্গা। আর সে কারণেই এবারের থিমের নাম করণ করা হয়েছে, 'সৃষ্টির তরণীতে আমি' অর্থাৎ 'দেবী দুর্গা'। যেহেতু এবছর দেবীর নৌকায় আগমন তাই এখানে তরণী কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

শিল্পীর কথায়
শিল্পী আরও জানান, এবারের থিমকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক দিকে দেখানো হয়েছে ধ্বংস অপর দিকে সৃষ্টি। মণ্ডপে ধুকতে গেলেই দেখা যাবে ধ্বংসের ভয়াবহতা। যার প্রতীক হিসেবে কালো ধোঁয়ার অঞ্চল করা হয়েছে। আস্তে আস্তে তা মিলিয়ে যাবে এবং সবশেষে দেখা যাবে সৃষ্টির শুভ সূচনা হচ্ছে। শান্ত স্নিগ্ধ একটা পরিবেশ। এখানেই বার্তা দেওয়া হচ্ছে এই ধ্বংসাত্মক ভয়াবহতাকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং ভয়কে জয় করে লক্ষ্যে পৌঁছে নতুন কিছু সৃষ্টি করাই বার্তা এই পুজোর।

ক্লাবের সদস্যদের কথায়
হরিদেবপুরের এই ক্লাবের এক সদস্য স্বাগতা চক্রবর্তীর কথায় জানা যায়, চরম সংকটে, ধ্বংসলীলায় ও বিপদের মুহূর্তে ঈশ্বর স্মরণ করা হয়। ধ্বংসের ভয়ে লুকিয়ে না থেকে এগিয়ে গিয়ে সৃষ্টির বার্তা দেওয়াই ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য। তিনি আরও জানান, এই থিম ও মণ্ডপ সজ্জার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে বাকি সব কিছুর ভাবনা চিন্তাও করা হয়েছে। মাতৃ মূর্তিও সেই আদলে সাজানো হচ্ছে।

পুজোর বাজেট
হরিদেবপুর ৪১ পল্লী ক্লাবের পুজোর এবারের বাজেট ৩২ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা।












Click it and Unblock the Notifications