বাঙালির প্যান্ডেল হ্পিংয়ের আনন্দের পথ সঙ্গী এই ব্র্যান্ড, জেনে নিন ইতিহাস
বাঙালির প্যান্ডেল হ্পিংয়ের আনন্দের পথ সঙ্গী এই ব্র্যান্ড, জেনে নিন ইতিহাস
পুজো এসে গিয়েছে। তাই নতুন জামা কাপড়ের সঙ্গে জুতো তো লাগবেই। আর তার জন্য বাঙালির সেরা ডেস্টিনেসন যে কোথায় তা কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও বলেই দেয়। দেখা গিয়েছিল কাতারে কাতারে লোক লাইন দিয়ে। সবাই এক জায়গায় প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। না, সেটা কোনও দুর্গা মণ্ডপের লাইন নয়। তা ছিল শ্রীলেদার্সের লাইন। এর পিছনে রয়েছে বাঙালির ব্যবসা করার ইতিহাস। যা সেই মিথকে ভেঙে দেয় যে বাঙালি ব্যবসা করতে পারে না।

বাঙালির পথ চলার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড
বাঙালির পথ চলার জনপ্রিয় এক ব্রান্ডের নাম শ্রীলেদার্স সেই নিয়ে সংশয়ের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই৷ তবে সাফল্যের সেই অসাধারণ রূপকথায় পরিশ্রমের দিক থেকে কোনও কার্পণ্য করেননি সত্যব্রত দে৷ সারাদিনে রাতে এক বার খেয়েই কেটে যেত দিন। প্রায় ৩ কিলোমিটার হেঁটে যেতেন বাবুঘাটের কুস্তি আখরায়। কারণ সেখানে খাবার মিলত ১ টাকায়৷

লিন্ডসে স্ট্রিটের ছোট্ট
মাইকেল নামে এক ভদ্রলোকের থেকে লিন্ডসে স্ট্রিটের ছোট্ট একটা দোকান পেয়েছিলেন সত্যব্রত দে৷ বাঙালি ব্যবসাতেও মহাকাশ ছুঁয়ে মেঘকে আলিঙ্গন করতে পারে৷ ছোট্ট সেই দোকানই আজ স্বপ্নপুরী শ্রীলেদার্স। স্বপ্নের সেই জার্নির শুরু ১৯৮৬ সালে৷ এক ফালি দোকান থেকেই এক সুবিশাল সাম্রাজ্য৷ শুরুটা যাঁর হয় সত্যব্রত দে'র।

পরিশ্রমের আর এক নাম
শ্রীলেদার্স সাম্রাজ্য শুরুর পর্ব সহজ ছিল না। বিরাট এক পরিকল্পনা নিয়ে কলকাতায় কাজ শুরু করেছিলেন সত্যব্রত দে। পরিশ্রমের দিক থেকে কোনও কার্পণ্য করেননি তিনি৷ সারাদিনে রাতে এক বার খাওয়া। তা দিয়েই দিন কেটে যেত।
১টাকার খাবারের জন্য তিনি হাঁটতেন তিন কিলোমিটার রাস্তা৷ বিয়ের পরে থাকার ঠিকানা ছিল না, তখন প্রিয় বন্ধু গোপাল ফৌজদার নিজেই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত। বন্ধু গোপাল ফৌজদারের বাড়িতে স্ত্রীকে রেখে সটান চলে আসেন লিন্ডসে স্ট্রিটের দোকানে। দু'চোখ জুড়ে তখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন৷
লিন্ডসে স্ট্রিটের দোকানে দাঁড়িয়ে থেকে জুতো বিক্রি করেছেন, ক্যাশ সামলেছেন। পুজোর চাপের মধ্যে কোনও এক ফাঁকে কর্মচারীদের সঙ্গে বসে দুপুরের খাবার সেরেও নিয়েছেন৷
বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকটা পিছনে ফেলে সমান তালে অশ্বমেধের ঘোড়া ছুটিয়ে চলেছে শ্রীলেদার্স। কারণ ক্রেতার স্বার্থরক্ষায়,কম দামে সেরা মানের সামগ্রী বিক্রি শুরু থেকে আজ তাদের ইউএসপি৷

দুর্গাপুজোর লম্বা লাইন
এসপ্ল্যানেড চত্বর থেকে গোটা কলকাতা এমন কি জেলায় দুর্গাপুজোর লম্বা লাইনে যত বার জুতোর ছন্দে ধুলো উড়বে, ততবার মনে পড়বে লিন্ডসে স্ট্রিটের শ্রীলেদার্সের আখ্যানের কথা। মনে করিয়ে দেয় রূপকথার অসাধারণ মন ভাল করা এক গল্প।
সব বাঙালির লক্ষ দশটা-পাঁচটার চাকরি নয়৷ বরং অনেকের পাখির চোখ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরে ব্যবস্যা করে আর্থিক ভাবে সুপ্রতিষ্ঠা৷ আর সেই ব্যাপারে তাদের অনেকের আইকন শ্রীলেদার্সের প্রতিষ্ঠাতা সত্যব্রত দে৷ সময় বদলেছে। শ্রীলেদার্সের সাফল্যের শিখর ধরে রাখতে তৈরি হয়ে গিয়েছে পরবর্তী প্রজন্ম।












Click it and Unblock the Notifications